২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কটে সাদা সোনা

স্বাধীনতা অর্জনের এক দশক পরে দেশের চিংড়ি শিল্পের ব্যাপক উৎকর্ষের ফলে চিংড়িকে সাদা সোনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কাল পরিক্রমায় চিংড়ি রফতানিতে প্রভূত উন্নতিলাভের ফলে এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত হয়। আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপ মহাদেশের ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ কিছু দেশে রফতানি হচ্ছে। চিংড়ির উৎপাদন এটির বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালে মৎস্য হ্যাচারি আইন পাস করে। এই আইন অনুযায়ী রোগজীবাণুমুক্ত পোনা সরবরাহের জন্য প্রতিটি মা বাগদার পলিমারেজ চেইন রিয়াকশান (পিসিআর) টেস্ট করা বাধ্যতামূলক। ওই পরীক্ষা ছাড়া পোনা বাজারজাত করায় প্রতি মৌসুমে বিপুলসংখ্যক চিংড়ি ঘেরের মাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার নজির রয়েছে। পরবর্তীকালে চিংড়ি শিল্পের সাফল্য ধরে রাখা এবং উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগতমান বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ‘জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা ২০১৪’-এর অনুমোদন দেয়। এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগতমানেরও উন্নতি হবে যা চিংড়ি খাতের সম্প্রসারণ, চাকরির সুযোগ, রফতানি আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ নীতিমালা অনুযায়ী চিংড়ির ঘেরের আয়তন কোনক্রমেই ৩০ একরের বেশি হতে পারবে না। নীতিমালায় আরও রয়েছে চিংড়ি সম্পদ উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ, রফতানি, চিংড়ি সম্পর্কিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, চিংড়ি গবেষণা, চিংড়ি ঋণ বীমা ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়। এ রকম একটি ইতিবাচক পরিস্থিতিতে দেশের ৭৮টি চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানার মধ্যে ৫০টির বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদে চিংড়ি চাষীদের মধ্যে হতাশার জন্ম দেবে বলে আমরা আশঙ্কা করি।

যদিও বিগত দুই বছরের চিংড়ি রফতানির চিত্র আশাব্যঞ্জক। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইতে ছয় কোটি ১৫ লাখ ডলারের চিংড়ি রফতানি হয়। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের চিংড়ি। অর্থাৎ এই সময়ে রফতানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ বছরও অন্তত ৭০ কোটি টাকার চিংড়ি বেশি রফতানি হয়েছে। তারপরও এ শিল্পে ধস নামার লক্ষণ দেখা দিয়েছে মূলত এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে। ব্যবসায়িক অসততার কারণে বিশ্ববাজারে আমদানিকারকদের আস্থা হারাতে বসেছে বাংলাদেশের চিংড়ি রফতানিকারকরা। ওজন বাড়ানোর জন্য চিংড়ির দেহে পানি ও জেলি পুশ করাই মূলত এই আস্থা বিনষ্টের কারণ।

দেশের লাভজনক একটি শিল্প গুটিকতক অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য ধ্বংস হতে পারে না। সেজন্য আবশ্যক হলো দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এক্ষেত্রে মৎস্য অধিদফতর ও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে নয়, সরাসরি প্রান্তিক চাষীদের কাছে থেকে চিংড়ি কেনা হলে এ অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে ধারণা করা যায়। পাশাপাশি চিংড়ি ঘেরগুলোকে মানসম্মত করাসহ বিদেশী বাজারের প্রসার ঘটানোও সময়ের দাবি। সেইসঙ্গে পিসিআর টেস্ট করার বিষয়টিও নিশ্চিত করাও জরুরী। সাদা সোনার কৃষ্ণকাল কোনক্রমেই কাম্য নয়।