১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জঙ্গীদের বিচার ও শাস্তি

জঙ্গী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার পরও তাদের বিপুলসংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া এবং মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বেশকিছু জঙ্গীর ফাঁসি অকার্যকর থাকার বিষয়টি অনভিপ্রেত। এর ফলে এদের ছায়া বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গত পাঁচ বছরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা ৩৫০টি মামলার একটিরও বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা থেকে শুরু করে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেয়া পর্যন্তÑ এই চার ধাপে চার দফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। এই প্রক্রিয়ার কারণে দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় মামলার অগ্রগতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। ২০১২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদনকৃত ১১৮টি মামলার একটিরও বিচার শেষ হয়নি। জঙ্গীদের বিচার ও শাস্তি সংক্রান্ত অপর চিত্রটিও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। দেশের কারাগারগুলোতে এখন শীর্ষ জঙ্গীসহ ৪৬১ জঙ্গী বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৮ জঙ্গী সদস্য সাজাপ্রাপ্ত। মৃত্যুদ-ের আদেশপ্রাপ্ত জঙ্গী ২৭ জন। বিভিন্ন মামলায় দুর্ধর্ষ জঙ্গীদের গ্রেফতারের পর আদালতে ফাঁসির আদেশসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। অথচ গত ৫-৬ বছর ধরে একজন জঙ্গীরও ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়নি। এই সুযোগে জঙ্গীরা কারাগারে বসে নানা কৌশলে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত। চিঠির মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়া চিঠিতে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্য মিলেছে। স্মরণযোগ্য, কিছুকাল আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তিন জঙ্গীকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সহযোগী জঙ্গীরা।

আমরা দেখেছি এ দেশকে জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র বানানোর প্রচেষ্টা বার বার ব্যর্থ হয়েছে অতীতে। জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ সে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তৎপর ছিল হিযবুত তাহরীরসহ নানা নামের সংগঠন। দেশে একযোগে ৬৩ জেলায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, উদীচীর অনুষ্ঠানে, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।

অতি সম্প্রতি দেশে জঙ্গীদের এমন কিছু তৎপরতার সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে যা জানিয়ে দিচ্ছে জঙ্গীরা তাদের কৌশল পরিবর্তনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে। প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের পর প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তিন তরুণকে হত্যার ঘটনায় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত ‘ইসলামিক স্টেটের’ (আইএস) সদস্য সন্দেহে দুজন গ্রেফতার হয়েছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠী যে এখনও সক্রিয় রয়েছে তা অনস্বীকার্য। কিন্তু তাদের বিস্তৃতি কতটা পরিব্যপ্ত, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ব্যাপক তদন্ত প্রয়োজন।

জঙ্গীদের অনিষ্পন্ন মামলাসমূহের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় গতি আনা আবশ্যক। সেইসঙ্গে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের দ- যথাসময়ে কার্যকর করা হলে জনমনে যেমন স্বস্তি আসবে, তেমনি জঙ্গীদের কাছেও সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে যাবে যে বাংলাদেশে জঙ্গীকর্মকা-ের কোন স্থান নেই।