১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

কৃষকদের কাছে আরও সহজে ব্যাংক ঋণ

  • কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচী ঘোষণা আজ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকারের বাজেট নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বরাবরের মতো এবারও কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচী ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। গবর্নর ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে বিকেল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ নীতিমালা ঘোষণা করবেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা ছাড়াও সকল তফসিলী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত উপস্থিত থাকবেন।

কৃষকদের কাছে আরও সহজে ব্যাংক ঋণ পৌঁছে দেয়াই এবার এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। এবার কৃষি বা পল্লী ঋণ বিতরণে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি বা পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য ৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করে দেয়া হয়। আর বাকি ৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা ছিল রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য। এর আগের বছর বাজেটে কৃষি বা পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বলেন, এবারের কৃষি ঋণ নীতিমালা বিগত বছরগুলোর তুলনায় আরও সহজ নির্দেশনা সংবলিত এবং তা কৃষকবান্ধব হবে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ থাকছে। আসছে কৃষি নীতিতে অধিকহারে কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলো দুগ্ধ উৎপাদন ও মাছ চাষের জন্য অধিকহারে ঋণের কথা বলা হবে। এছাড়া ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কৃষি সহায়তা খাত হিসেবে সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতি এবং সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনে ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দেয়া হবে। আবার কৃষি নীতিমালায় সেচ প্রকল্প পরিচালনা করার জন্য কৃষকরা যেন সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেই ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলো তাদের আঞ্চলিক পর্যায়ে বার্ষিক অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার পরিবর্তে এখন থেকে ত্রৈমাসিক অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। তবে শাখাগুলো এখন থেকে ঋণ বিতরণে মাসিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, গেল অর্থবছরের (২০১৪-১৫) ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি খাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১৩ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২৫ কোটি টাকা বা ৩ শতাংশ কম।

চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে বিতরণ করা হয় ১৪ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা ওই বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণের হার ছিল ৯৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কৃষি খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হওয়ায় এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। কৃষিঋণ বাড়াতে এবং কৃষকদের সুবিধা দিতে প্রতিটি ব্যাংকে আলাদা কৃষিঋণ বিভাগ গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার দেয়া তাগিদ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নানাবিধ সুবিধা দেয়ার পরও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। এ খাতের ঋণে সুদের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাই এসব ব্যাংক যাতে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করে সে জন্য আরও কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের থেকে কোন ব্যাংক কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে অনার্জিত অংশের পুরোটাই বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা রাখতে হবে। আর এ অর্থের ওপর কোন সুদ দেয়া হবে না।

অর্থাৎ কোন ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১০০ টাকা হলে ওই ব্যাংক যদি বছর শেষে ৮০ টাকা বিতরণ করে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হবে। এর আগে অনার্জিত অংশের ৩ শতাংশ জমা রাখতে হতো। অর্থাত ১০০ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে ৮০ টাকা বিতরণ হলে ৬০ পয়সা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখলে চলত। তবে কোন ব্যাংক যদি তাদের মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারত, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে এ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতো না। কিন্তু এখন থেকে এ সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।