২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষতিগ্রস্তদের আইপিওতে কোটার মেয়াদ এক বছর বাড়ল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ২০ শতাংশ কোটার মেয়াদ আরও এক বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি এক সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠানো হয়েছে। আগের বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের কোটার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের লোকসান পুষিয়ে দিতে এই সুবিধা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান।

এর আগে আইপিওতে ক্ষুদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কোটার মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বিএসইসি। আর গত ১৪ জুলাই বিএসইসির মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত আবেদন অনুমেদান করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে এ মেয়াদ বাড়াতে আর কোন বাধা নেই।

জানা গেছে, আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের কোটার মেয়াদ শেষ হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের কোটার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়। আর অর্থ মন্ত্রণালয় এটিতে সম্মতিও দিয়েছে।

এর আগে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ ২০১২ সাল থেকে দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের জুনে এ কোটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় বিনিয়োগকারীর দাবির মুখে কোটার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৫ পর্যন্ত আনা হয়। অর্থাৎ বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হলে তিন দফায় আইপিওতে ২০ শতাংশের কোটা বরাদ্দের সময় বাড়ানো হলো।

জানা যায়, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ২০১১ সালের ২৩ নবেম্বর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিশেষ স্কিম দেয়ার জন্য ওই বছরের ২৭ নবেম্বর ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফায়েকুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে বিভিন্ন সুপারিশসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দের কথা বলা হয়।

এরপর ওই বছরের ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০ শতাংশ কোটায় আবেদন করার জন্য ১৮ মাস সময় বেঁধে দেয় (১ জুলাই ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩)। ৩০ এপ্রিল বিশেষ স্কিম কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করে বিএসইসির কাছে জমা দেয়। এর মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ২০৪টি ব্রোকারেজ হাউসের ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮৩ জন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্যভুক্ত ১০৩টি ব্রোকারেজ হাউসের ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৭ জন এবং ২৫ টি মার্চেন্ট ব্যাংকের ৩৯ হাজার ১২০ জন বিনিয়োগকারী রয়েছেন। এতে করে সর্বমোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী কোটা সুবিধার আওতায় আসেন।

২০১২ সালের ২৬ জুন মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ এবং আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ কোটাসহ বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পরবর্তীতে ৩ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান সমন্বয়ের কথা চিন্তা করে কোটা বরাদ্দের সময়সীমা আরও ৬ মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে ২০ শতাংশ কোটা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি আইপিওতে কোটা বরাদ্দ শুরু করে।

পরবর্তীতে পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিশেষ স্কিমের আওতায় সকল পাবলিক ইস্যুতে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের মেয়াদ ১ জুলাই, ২০১৪ তারিখ থেকে ৩০ জুন, ২০১৫ পর্যন্ত অর্থাৎ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করার জন্য কমিশনের ৫১৬তম সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিএসইসির সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় আইপিওতে কোটার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসেই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাই কোটার মেয়াদ যেন আরও একবছর বাড়ানো হয় সেজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে বিএসইসি।

নির্বাচিত সংবাদ