২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরফের পাহাড়, লালচে বায়ুম-ল, অসংখ্য খাতে ভরা প্লুটো

বরফের পাহাড়, হিমবাহ, লালচে ধোঁয়াশা ভরা বায়ুম-ল, অসংখ্য খাত আর ভাঁজে ভরা এই বামন গ্রহ প্লুটো। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান নিউ হরাইজনসের সংগ্রহ করা তথ্যের মাত্র পাঁচ শতাংশই ডাউনলোড করা সম্ভব রয়েছে। তাতেই যে ছবি উঠে আসছে তা বিস্মিত বিজ্ঞানীদের প্লুটো নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আরও তথ্যের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা।

এমনটা যে ঘটতে চলছে তা নিয়ে আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিউ হরাইজনসের গবেষক দলের প্রধান এ্যালান স্টার্ন। নিউ হরাইজনসের পাঠানো তথ্য সবার সামনে তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবারই তিনি বলেন, আরও বিস্ময়ের জন্য অপেক্ষা করুন। অপেক্ষার পরে প্রতিবারই বিস্ময় আরও বাড়ে। এবার যেমন নতুন বিস্ময়, প্লুটোর বুকে সচল হিমবাহ। যে হিমবাহ রয়েছে প্লুটোর হৃদয়ের মতো দেখতে অংশে। এই বরফ নাইট্রোজেন, মিথেন জমে তৈরি। আর তা একের পর এক খাতকে ভরিয়ে, উপচিয়ে চলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ভূপৃষ্ঠের তলায় রয়েছে উত্তপ্ত সমুদ্র। সেই তাপই হিমবাহকে সচল রাখছে। মজা করে স্টার্ন এটিকে বলেছেন, ‘স্পন্দিত হৃদয়।’ নতুন এক বরফের পাহাড়েরও সন্ধান মিলেছে। যার নাম রাখা হয়েছে এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারির নামে। পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে প্লুটোর লালচে আভা, অনেকটা যেন মঙ্গলের মতো। এই লালচে ধোঁয়াশা প্লুটোর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় একশো মাইল ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত। সূর্যালোক সেই লাল ধোঁয়াশার মধ্যে ডুব দিয়ে এক অপরূপ জগত তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য বিশেষ ধরনের কণা, ‘থোলিনস’-এর জন্য এমন হয়েছে। তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের ফলে বা হাইড্রোজেন হারিয়ে কোনও কণা ‘থোলিনস’-এ রূপান্তরিত হয়ে গেছে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। নিজের কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে প্লুটোর পাশে ঘুরতে পৃথিবীর হিসেবে ২৪৮ বছর লাগে। প্লুটোর উত্তর মেরু ১২০ ডিগ্রি কোণে ঝুঁকে রয়েছে। তাই তৈরি হয়েছে এই লাল আভা। নিউ হরাইজনস এখন প্লুটো থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে চলে গেছে। বিজ্ঞানীদের হিসেবে, প্লুটোর বায়ুম-ল ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। এমন চললে তা একদিন মিলিয়ে যেতেও পারে। তার আগেই সেই বায়ুম-ল নিয়ে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে নিউ হরাইজনস। জানা গেছে প্লুটোর হৃদয়ের মতো দেখতে অংশে বিপুল পরিমাণে কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত আছে। প্লুটো পেরিয়ে নিউ হরাইজনস এখন কুপার বেল্টে পৌঁছে গেছে। এই যানের পারমাণবিক জ্বালানি আরও প্রায় দু’দশক যানটিকে সচল রাখবে। চলবে নানা অনুসন্ধান।

- আনন্দবাজার পত্রিকা

নির্বাচিত সংবাদ