২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তাল ঢেউয়ে কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙ্গন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২৬ জুলাই ॥ কুয়াকাটা সৈকতের পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তা-বে বেলাভূমে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের প্রশস্ততা কমে এখন অর্ধেকে পৌঁছেছে। সেইসঙ্গে সৈকত লাগোয়া নারিকেল, তাল, ঝাউবাগান নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধসহ হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমিসহ মূল্যমান স্থাপনা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে সৈকতের আধুনিক স্থাপনা এলজিইডির বায়োগ্যাস প্লান্ট কাম রেস্ট হাউস। ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আড়াই কিলোমিটার প্রস্থ সৈকতটি এখন পড়েছে সাগরে বিলীনের শঙ্কায়। ঢেউয়ের তা-ব থেকে সৈকত রক্ষায় ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি পরীক্ষামূলক প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে সৈকতের অন্যতম সৌন্দর্যম-িত (ফয়েজ মিয়ার বাগান) নারিকেল বাগানের দুই-তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে গেছে। জাতীয় উদ্যানের অধীন ইকোপার্কের অর্ধেকটা বিলীন হয়ে গেছে। এখন নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ঝাউবাগান ও কড়ই বাগান। প্রত্যেক জোয়ারে শত শত গাছ উপড়ে পড়ছে। বর্ষা মৌসুমে অবস্থা এমন হয়েছে যে, কুয়াকাটা বীচে এখন আর জোয়ারের সময় ওয়াকিং জোন থাকছে না। নদীর পাড়ের মতো ঢেউ আঘাত হানছে কিনারে। আবার ভাটার সময় বীচে নামতে হয় সিঁড়ির মাধ্যমে। খাড়া হয়ে ভাঙ্গন চলছে। সৈকতে যাওয়ার সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে অর্ধেকটা। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সাগরপাড়ের বিদ্যুত লাইন। বেড়াতে আসা পর্যটকরা এসব দেখে উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেছেন।

ডাব বিক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, দুই-এক বছরের মধ্যে সাগরপাড় রক্ষায় ব্যবস্থা না নিলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। বেড়িবাঁধের বাইরের দু’শতাধিক দোকানি এখন রয়েছেন সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে বিলীনের শঙ্কায়। তারা জানান, দেশের জাতীয় সম্পদ কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা রক্ষায় জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সাংস্কৃতিক, সংবাদ এবং উন্নয়নকর্মী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, সৈকত রক্ষায় এ বছরই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। নইলে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম সৌন্দর্যম-িত কুয়াকাটা শ্রীহারা হয়ে পড়বে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমিকে জোয়ারে ঢেউয়ের আঘাত থেকে রক্ষায় একটি প্রকল্প উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।