২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনার সড়ক থেকে খান এ সবুরের নাম প্রত্যাহার দাবিতে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী খান এ সবুরের নাম পরিবর্তন করে ঐতিহ্যবাহী যশোর রোডের নাম পুনর্বহালের দাবিতে রবিবার সকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনার উদ্যোগে পৃথকভাবে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামালের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, হাইকোর্টের রায় কার্যকর করে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক যশোর রোডকে তার স্বনামে বহাল করার আদেশ আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জারি করা না হলে যে কোন পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন দায়ী থাকবে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৩ সালে খুলনাবাসীর মতামতের দিক চিন্তা না করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (তখন পৌরসভা) সাধারণ সভার মধ্যে দিয়ে ঐতিহ্যবাহী যশোর রোডের নাম পরিবর্তন করে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় দালাল ও যুদ্ধাপরাধী খান এ সবুরের নামে সড়কটির নামকরণ করা হয়। বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ ও খুলনাবাসীর প্রতি অবমাননাকর। এ নিয়ে সব নাগরিকদের সংগঠন, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে সভা, সমাবেশ ও বিবৃতির মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবাদ করা হয়। নাম পরিবর্তনের জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরাবরে লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ২০১২ সালের ১৩ মে বরেণ্য লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বাদী হয়ে হাইকোর্টে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নামে সড়ক, প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা কেন নিষিদ্ধ হবে না এই মর্মে রিটপিটিশন দাখিল করলে মহামান্য আদালত ২০১২ সালের ১৪ মে এক রুলনিশি জারি করেন। যাতে উল্লেখ আছে ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নামে কোন সড়ক ও স্থাপনায় এদের নামকরণ করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে।’ কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কটির নাম পরিবর্তনের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। স্মারকলিপি পেশকালে উপস্থিত ছিলেন একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র নাথ সেন, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, অধ্যাপক শেখ আলমগীর কবির, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য শ্যামল সিংহ রায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ সাদী ভূঁইয়া প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ