২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার নিজেকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ মুশফিকের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দলগত নৈপুণ্যে ক্রমশ নিজেদের উন্নতির গ্রাফ উর্ধমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ দলের। ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক কালে দারুণ ফর্মে আছে বলেই সেটা দলের ভাল করার পেছনে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এ ভাল সময়টা এনে দেয়া অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলছেন ধীরে ধীরে। ২০১৪ প্রায় পুরোটাই যখন খারাপ গেছে সে সময়ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক। তবে গত বছর অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ৭ টেস্ট খেলেছে এর মধ্যে ৩ জয়, ৩ ড্র ও মাত্র একটি পরাজয় দেখে যেকোন সময়ের চেয়ে সেরা সাফল্য দেখিয়ে ফেলেছে। অথচ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়টা পার করছেন মুশফিক। ব্যাট হাতে দারুণভাবে ব্যর্থ টাইগার দলপতি নিজেও ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছেন না রান না পাওয়ার কারণ। টানা ১১ ইনিংসে কোন অর্ধশতক নেই তার। চট্টগ্রাম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথমবার ড্রয়ের ম্যাচেও মাত্র ২৮ রান করেছেন। এরপর অবশ্য রানে ফেরার আকুতিটা শোনা গেছে তার কণ্ঠেইÑ ‘শুধু টেস্ট ম্যাচে না, তিন ফরম্যাটেই গত ম্যাচগুলোতে আমি ভাল কিছু করতে পারিনি। এ কারণে আমি কিছুটা হতাশ। আমি ভাল খেলছি তবে ইনিংস বড় হচ্ছে না। এটা আমারও চিন্তায় আছে।’ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে রানে ফেরার চ্যালেঞ্জ তাই মুশফিকের।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দারুণ পরিশ্রমী মুশফিক। সবার আগে মাঠে আসেন এবং সবার পরে যান। দলের অনুশীলন না থাকলেও একাই এসে অনুশীলন করেন। পরিশ্রমের সুফল পেয়েছিলেন অধিনায়ক হওয়ার পরই। সবচেয়ে সুবর্ণ সময়টা কাটিয়েছেন ২০১৩ সালের ৮ মার্চ থেকে গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে খেলা ১৪ ইনিংসে তিনি করেছেন ৫৭.৬৯ গড়ে ৭৫০ রান। এর মধ্যে দেশের টেস্ট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন গলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের মার্চে। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে সেদিন তিনি ২০০ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। ওই কারণেই সম্ভবত আরও অনুপ্রাণিত এবং উজ্জীবিত হয়ে ব্যাট চালিয়ে ধারাবাহিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছিলেন। আর নাম হয়ে গিয়েছিল ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। মুশফিক ছাড়া বাংলাদেশের মিডলঅর্ডার কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু দলগত নৈপুণ্যে গত বছরটা এতটাই খারাপ গেছে দলের শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ওপর চাপ কমাতে ওয়ানডে ও টি২০ নেতৃত্ব মাশরাফি বিন মর্তুজার কাঁধে চাপিয়ে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। তবে টেস্টে দলগতভাবে আবারও জেগে ওঠেছে বাংলাদেশ দল ওয়ানডের মতোই। সর্বশেষ সাত টেস্টের রেকর্ড তাই বলে। কিন্তু এ সময়টাতেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন মুশফিকের।

গত ১১ ইনিংস অর্ধশতকের দেখা পাননি। সর্বশেষ অর্ধশতকটি হাঁকিয়েছিলেন সফরকারী জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে। করেছিলেন ৬৪ রান। কিন্তু এরপর থেকেই ছন্দপতন। এই ১১ ইনিংসে তিনি করেছেন ১৬.৯ গড়ে মাত্র ১৬৯ রান। অবশ্য ক্যারিয়ার শুরুর পর চতুর্থ টেস্ট থেকেই বাজে সময়টা শুরু হয়েছিল। সে সময় টানা ১০ ইনিংসে তিনি মাত্র ৬.৭৭ গড়ে করতে পেরেছিলেন ৬১! ইনিংসগুলোর চেহারা ছিল এমনÑ ১১*, ১, ৭, ৬, ৮, ০, ৭, ২, ১৫ ও ৪! এবার তার চেয়েও দুঃসময়ে মুশফিক। নিজেও ফিরতে চান রানের মধ্যে। এ বিষয়ে তিনি সাগরিকা টেস্ট শেষে বলেন, ‘আশা করছি আগামী দুটি ইনিংসের মধ্যে একটি ইনিংসেও যদি আমি ভাল করতে পারি তবে কামব্যাক করতে পারব। আর অধিনায়ক ও সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে দল আমার কাছ থেকে এটুকু চায়। আমিও তা দিতে চেষ্টা করব। এখন ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছি। এটি এখন আরও বেশি জরুরী।’ মুশফিকের রানে ফেরাটা অবশ্যই জরুরী দলের জন্য এবং তার নিজের জন্য। কারণ বর্তমানে টেস্টে তিনি উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি পেয়ে শুধু ফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। ক্রমেই অপরিহার্যতা কমে আসছে মুশফিকের। নিজেকে এবার মিরপুর টেস্টে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ হিসেবে ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ তার।

নির্বাচিত সংবাদ