২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছুটির দিনে সময় মেপে

  • ফারহানা তাসনিম

এখন নাগরিক জীবনযাপনে ব্যস্ততা সবাইকে রীতিমতো অস্থির করে রাখছে। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য একটু সময় দেবার ফুরসত হয় না অনেকের। মানুষ যন্ত্র বা রোবটের মতো নয় কোনভাবেই। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কাজের ফাঁকে অবসর দরকার। সবাই শত ব্যস্ততার ফাঁকে নিজের জন্য অবসর সময় বের করে নেয় ঠিকই। কাজের অনেক ব্যস্ততার ফাঁকে মনের মাঝে ভেসে ওঠে প্রিয়জনের মুখটি। মোবাইল ফোনের দিকে চোখ থাকে, কখন তার ফোন আসে। দুদ- তার সঙ্গে কথা বলার পর মনটা প্রশান্তিতে ভরে যায়। প্রিয় মানুষকে দূরে রাখলে তার জন্য মনটা কেবলই অস্থির হয়। সারাদিনের অনেক ব্যস্ততা শেষে যখন বাড়ি ফেরে মানুষ তখন ক্লান্তির ভারে শরীর নুয়ে আসতে চায়, প্রাণ খুলে কথা বলা, প্রিয় মানুষটির চোখে চোখ রেখে মনের কিছু একান্ত অনুভূতি প্রকাশ করার ইচ্ছাটাও মরে যায়। এ কারণে নাগরিক ব্যস্ততার মধ্যে মানুষ যখন ছুটির দিনগুলো পায় শুধুমাত্র নিজের জন্য তখনও নানা ব্যস্ততা থাকে। এগুলো ঘরোয়া কাজের ব্যস্ততা। যেমন বাজার করা, ঘরের নানা কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করা, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন নাগরিক জীবনের মানুষগুলো বাড়ি ফেরে তখন কাজের ক্লান্তিতে মন খুলে হাসারও সুযোগ পায় না। তাই বেশিরভাগ মানুষ এখন ছুটির দিনে কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়ে ঘরের কোণে। গুটিয়ে রাখতে চায় নিজেদের। চুটিয়ে অবসর মুহূর্তগুলো উপভোগের ইচ্ছাটা মরে যায় অনেক টেনশন এবং ব্যস্ততার চাপে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। আপনার প্রিয়জনকে দেবার মতো এটুকুই শ্রেষ্ঠ সময়। তাই অলসতা ত্যাগ করে চুটিয়ে আনন্দফুর্তি করুন। সময়টাকে উপভোগ করুন। দেখবেন, সপ্তাহান্তের এই নিরন্তর ব্যস্ততায় ছুটে বেড়ানোর আমেজে বাকি পুরো সপ্তাহ কেটে যাবে নিচ্ছিদ্র আবরণে ভর করে।

ৎকয়েক দিন আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন কিভাবে কাটাবেন ছুটির দিনগুলো। একটা চেক লিস্ট তৈরি করুন। সময়টাকে আগেই গুছিয়ে নিন যাতে এর অপচয় না হয় এবং সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়।

ছুটির দিনগুলোতে দু’জনে মিলে কাটাবেন না দল ভারি করতে সঙ্গে আরও কাউকে নেবেন, চিন্তাভাবনা করুন। সময়টুকু ভাগ করে নিন। কোথায় যাবেন, কেন যাবেন, সেখানে গিয়ে কি কি করবেন; এগুলোর প্রোগ্রাম-সিডিউল আগে থেকে ঠিক করে নিন। বেড়াতে গিয়ে খুব বেশি দৌড়ঝাঁপের প্রয়োজন নেই। তাহলে ক্লান্তির কারণে ছুটির পরদিন অফিসের ঝক্কিঝামেলা সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকার বাইরে কোথাও যেতে চাইলে ট্রান্সপোর্টের ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। বেড়াতে যেতেই যদি দিনের অর্ধেকটা সময় চলে যায় তাহলে সেখানে গিয়ে মজা করবেন কখন? তবে হ্যাঁ, লং ড্রাইভে যেতে চাইলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার।

ছুটির দিনে কোথাও যাবার সময় সঙ্গে পছন্দের জিনিসগুলো নিয়ে নিন। যেমন খুব প্রিয় কোন খাবার, প্রিয় ড্রিংকস, ল্যাপটপ, এমপি থ্রি, ক্যামেরা, সিডি, প্রিয় কোন লেখকের বই।

বেড়াতে যাবেন তার একটা আমেজ আগের দিন রাতেই নিয়ে রাখুন। এতে সকালবেলা আলাদা একটা আনন্দময় অনুভূতি উপভোগ করবেন। অল্পবিস্তর পরিশ্রম আর গায়ে লাগবে না।

বেড়াতে যাবার আগে প্রিয়জনের জন্য কোন সারপ্রাইজ গিফট রাখতে পারেন। যেটা স্পটে গিয়ে দেবেন। তবে অনেক বন্ধুবান্ধব মিলে গেলে এটা একটা একটু খেলো মনে হতে পারে। দু’জনে একটু কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটান। সেটা হতে পারে প্রকৃতির নির্জনে অথবা ঘরের কোণে। যদি সে আপনাকে কিছু বলতে চায় কিংবা তাকে আপনার কিছু বলার থাকে তবে এটাই শ্রেষ্ঠ সময় হবে।

প্রকৃতিকে উপভোগের পাশাপাশি আপনার প্রিয় মানুষটিকেও উপভোগ করুন। তার মাঝে লুকিয়ে থাকা সুন্দর বিষয় ও উপাদানগুলো নাগরিক ব্যস্ততায় হয়ত খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না। ছুটির দিনে একান্ত মুহূর্তগুলোতে তার সুন্দর বিষয়গুলো খুঁজে বের করুন। এতে করে পরস্পরের প্রতি ভালবাসা বাড়বে। শুধুমাত্র বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে নয় ঘরে বসেও ছুটির দিনটি চমৎকারভাবে কাটানো যেতে পারে। ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই বাসায় ভাল খাবারদাবার রান্না করে। পছন্দের আইটেম বাজার থেকে এনে জম্পেশ রান্না হয়। খাওয়াদাওয়ার ব্যস্ততায় সময়টা কোনদিকে পেরিয়ে যায় টের পাওয়া যায় না। এতে করে বাড়িতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু একটু ধীরে ধীরে পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু সাজানো হলে বাড়িতে বসেই ছুটির দিনটি উপভোগ করা যায়। ছুটির দিনগুলো বাড়িতে থাকলে পছন্দের সিনেমাটি দেখে নিতে পারেন ডিভিটিতে।

ছবি : আরিফ আহমেদ