১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সন্তোষ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত তিন (এপ্রিল-জুন) মাসে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈ-মাসিকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করা হয়। সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, মন্ত্রিসভা যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করতে হয়।

গত বছরের দ্বিতীয় ত্রৈ-মাসিকের চেয়ে এ বছর ত্রৈ-মাসিকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বেশি ভালো। এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে ১৩টি। এই সময়ে ৬৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৪টি। এই সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ৩টি। কোনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি। নীতি বা কর্মকৌশল অনুমোদন হয়েছে ২টি। চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক অনুমোদন হয়েছে ৯টি। সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে ৫২টি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সব সময়ই দীর্ঘ মেয়াদি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের বিষয় নয়। তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত সাধারণত মন্ত্রিসভায় আসে না।

সরকারের নীতি ও কর্মকৌশল মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। যতো বেশি সময় যাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার তত বেশি হবে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

২০১৪ সালের দ্বিতীয় ত্রৈ-মাসিকে (এপ্রিল-জুন) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ৫৯টি। ত্রৈ-মাসিক বাস্তবায়ন ৩৩টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৫৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বর্তমান ত্রৈ-মাসিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৬৮টি। বাস্তবায়ন ৪৪টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬৪ দশমিক ৭১ শতাংশ।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ৪ অনুশাসন

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে চারটি অনুশাসন রয়েছে।

প্রথম অনুশাসন-প্রত্যেক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রতিমাসে সমন্বয় সভা করে। সেই অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যেন পর্যালোচনা করা হয়। তাতে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আরো ভালো হবে।

দ্বিতীয়ত- মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত সরকারের মাল্টিসেক্টারাল পলিসি রয়েছে। সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একট্রা এফোর্ট প্রয়োজন। এ জন্য উদ্যোগী মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এটা করা হচ্ছে। তবে এটাকে রিমার্ক করা হয়েছে।

তৃতীয়ত- সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও দিতে হবে।

চতুর্থ অনুশাসন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি সচিবরা পর্যালোচনা ও মনিটরিং করেন। সচিবদের পাশাপাশি মন্ত্রিরাও পর্যালোচনা ও মনিটরিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন।

যখন মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তখন যেন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং সংস্থার বাস্তবায়ন চিত্র প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন।

এর আগের মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ত্রৈ-মাসিক প্রতিবেদন, ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন-২০১৫’ নীতিগত এবং ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন আইন-২০১৫’ চূড়ান্ত অনমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া গত ২৫ জুন কাঠমাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত নেপালের পুনর্বাসন ও উন্নয়নের জন্য আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর অংশগ্রহণ, গত ২৫ থেকে ২৯ মে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ইউএন এসকাপের ৭১তম বার্ষিক অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ, গত ৩১ মে থেকে ১৩ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১০৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং গত ১৮ থেকে ২০ জুন অস্ট্রেলিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত সাসটেনেবল এনার্জি ফর ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক ফোর্থ ভিয়েনা এনার্জি ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসহ সাতটি বিষয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।