১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জোনের বাইরে ইয়ার্ড করলে জরিমানা ৩০ লাখ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ অনুমোদন না নিয়ে রিসাইক্লিংয়ের জন্য জাহাজ আমদানি করলে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আর নির্ধারিত জোনের বাইরে কোনো ইয়ার্ড করা হলেও একই শাস্তি পেতে হবে।

জাহাজ ভাঙাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার পর এবার আইন করে আমদানি, পরিবেশ রক্ষা এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা।

এর আগে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন-২০১৫’ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগে বিধিমালা ছিল। যদিও আইন বাস্তবায়নের জন্য বিধিমালা করা হয়। কিন্তু ২০১১ সালের হাইকোর্টের অনুশাসনে বিধিমালা করা হয়েছিল। আগে ছিল শিপ ব্রেকিং (জাহাজ ভাঙা)। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এটিকে শিপ রিসাইক্লিং বলা হচ্ছে। এ শিল্প স্টিল মিলের কাঁচামাল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ শিল্পের সঙ্গে স্টিল মিলের শ্রমিকরা জড়িত। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আইনে। উপকূলের পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করতো। তবে শিল্প হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণে শিল্প মন্ত্রণালয় আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেছে। আইনে সমন্বিত কর্মব্যবস্থাপনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাহাজ পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণে রিসাইক্লিং বোর্ড করার বিধান রাখা হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। এছাড়া মন্ত্রণালয়, সংস্থা, শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বিশেষজ্ঞরা সদস্য থাকবেন। এ শিল্পের জন্য জোন করা হবে। জোনের বাইরে কেনো ইয়ার্ড করা যাবে না।

মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা জানান, অনুমোদন ছাড়া রিসাইক্লংয়ের উদ্দেশে যদি কেউ জাহাজ আমদানি করেন তাহলে, ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর জেল বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে। পরিবেশ রক্ষায় এই আইনে এ শিল্পের জন্য আলাদা জোন করার বিধান রাখা হয়েছে। নির্ধারিত এ জোনের বাইরে কোনো ইয়ার্ডও করা যাবে না। জোনের বাইরে ইয়ার্ড করলে ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর জেল বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা ৬ মাস জেল বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিধিমালায় বিস্তারিত থাকবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।