২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হোক

অতীতের তুলনায় বর্তমান শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের নেপথ্যে শিক্ষার্থীর একাগ্রতা, মনোযোগ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, অভিভাবকদের সতর্কতা ও গভীর পর্যবেক্ষণ কাজ করেছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে যে বিষয়টির ওপর বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে না তা হলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি কারও কাছেই ততটা গুরুত্ব না পাওয়ায় হতাশার উদ্রেক করে বৈকি। পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য কতটা নিশ্চিত হবে সে প্রশ্নও সামনে এসে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতা কাম্য হতে পারে না।

এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীকে প্রাপ্তবয়স্ক বলা যায় না। এ পর্যায়ে যাওয়ার আগে আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সিলেবাসের কারণে একজন শিক্ষার্থীকে সেই সকাল থেকে রাত অবধি একনাগাড়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিশ্রম করতে হয়, যা কিনা বয়সের কারণে বোঝাস্বরূপ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বই-খাতা মিলিয়ে শিক্ষার্থীর বড় ভারি ব্যাগ বহন, শহুরে শিক্ষার্থীর যাতায়াতের বাহন ও যানজটের বিষয়, একাধিক কোচিং বা প্রাইভেট শিক্ষকের ধকল, রাতে আবার পড়া তৈরি করাÑ এমন নিত্য বাস্তবতায় শিক্ষার্থীর শরীর ও মনের ওপর যে ধকল পড়ে তাতে তার স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। বিজ্ঞানীদের এমন অভিমত সবিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষার ফল বলছে, শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণ বেড়ে যাওয়ায় তা বহন করার কারণে দিন দিন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় শিশু শিক্ষার্থীদের বাড়ন্ত শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

সময়ের দাবিতে মেয়েরাও অতীতের তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে এসেছে। এর আনুপাতিক হার ছেলে শিক্ষার্থীদের কাছাকাছি। এই অধিকসংখ্যক নারী শিক্ষার্থীর মধ্যে বয়ঃসন্ধিক্ষণে স্বাস্থ্যসেবা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি এখনও নিশ্চিত না হওয়াটা পরিতাপের বিষয়। কোন কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঘণ্টার মধ্য বিরতিতে খাবার বা টিফিনের আয়োজন থাকে। এটা একটা সুন্দর ব্যবস্থা। তবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটা চালু করার পাশাপাশি পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবারও নিশ্চিত করা সময় ও বাস্তবতার দাবি। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিক্ষণের শারীরিক পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য উপকরণ, স্যানিটারি সামগ্রী ও তাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নিশ্চিত করাও আবশ্যক।

কবি বলেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে’। সেই শিশুদের শিক্ষাগ্রহণকালীনই যদি সুস্বাস্থ্যের বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি হয় তবে তা দুঃখজনক। একটা সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম শর্ত শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ। শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য যদি নিশ্চিত না হয় তবে সে জাতির ভবিষ্যতও হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের শিশু সনদেও এ বিষয়ে তাগিদ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অভিভাবকদের পাশাপশি শিক্ষকদেরও দায়িত্ব কোন অংশে কম নয়। সুষম খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক বিনোদন যেমন জরুরী, তেমনি তার বয়সের অনুপাতে ধারণক্ষমতার মধ্যে শিক্ষার সিলেবাস প্রণয়নও আবশ্যক। এ ব্যাপারে সরকারেরও করণীয় রয়েছে।