১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সীমান্তে নিরাপদ এলাকা ॥ যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক মতৈক্য

  • আইএসের ওপর মার্কিন বিমান হামলা বাড়ানো হবে

তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র এক চুক্তির আওতায় তুর্কি-সিরীয় সীমান্ত বরাবর কার্যত এক নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার রূপরেখা নিয়ে একমত হয়েছে। এ চুক্তিটি উত্তর সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ওপর মার্কিন বিমান হামলার পরিধি ও গতি বৃদ্ধি করবে বলে মনে হয়। মার্কিন ও তুর্কি কর্মকর্তারা এ কথা বলেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

এ মতৈক্যের আওতায় আইএসকে ফোরাত নদের পশ্চিমে ৬৮ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা থেকে এবং পরে আলেপ্পো প্রদেশ থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রদেশটি সিরিয়ার সরকার বিরোধী পলোর নিয়ন্ত্রণে যাবে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আমেরিকার বিমানগুলো নিয়মিতভাবেই সিরীয় সরকারের ঘাঁটি, বিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোর সন্নিকটে আসতে থাকবে। আর এতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীরা সরাসরি উপকৃত হবে। ঐ নির্দিষ্ট ভূখ-ে অভিযান পরিচালনা করা হলে সেখানকার আকাশে বিমান উড্ডয়ন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার তুর্কি দাবি পূরণ করা হবে না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐ এলাকাটি তুরস্কে পালিয়ে যাওয়া প্রায় ২০ লাখ সিরীয় বেসরকারী, লোকজনের কিছু অংশের জন্য নিরাপদ স্থান হতে পারে। গত সপ্তাহে যখন তুরস্ক এর ইনসারলিক ঘাঁটি থেকে সশস্ত্র মার্কিন বিমান উড্ডয়ন করতে দিতে রাজি হয়েছে বলে জানায়, তখন ঐ মতৈক্য সম্পর্কে প্রথম জানা যায়। তুর্কি বিমানগুলো উত্তর সিরিয়ায় অভিযান শুরু করেছে।

সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে কোন কোন সিরীয় বিরোধী বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে, তা এখনও স্থির করা হয়নি। কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু শনিবার আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, যখন সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলো ইসলামিক স্টেটের হুমকি থেকে মুক্ত হবে, তখন সেখানে নিরাপদ জোন স্বাভাবিকভাবেই গঠিত হবে। তিনি বলেন, বাস্তুহারা লোকজনকে ঐসব নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় দেয়া যেতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা তুর্কিদের বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত হয়নি। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কোয়ালিশন বিমানগুলো আইএস লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর সব সময়েই দৃষ্টি রাখবে। কিন্তু তারা জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ঐ এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক সংরক্ষিত এলাকা বলে ঘোষণা করবে না। এটি সিরিয়ার প্রায় ৪০ মাইল গভীরে অবস্থিত।

মার্কিন প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্কের সঙ্গে কোন যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা তুরস্কের সঙ্গে উত্তর সিরিয়ার স্থল ভূমিতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইরত অংশীদারদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলছি। এর লক্ষ্য হলো আইএস মুক্ত এলাকা গড়ে তোলা এবং সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সীমানা বরাবর আরও নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ রবিবার বলেন যে, তুরস্কের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জোটের ২৮ সদস্য মঙ্গলবার ব্রাসেলসে শলা-পরামর্শ করবেন। তুরস্ক এর ভূখ-ে এক আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ন্যাটোর জরুরী বৈঠক আহ্বান করে। ন্যাটো ২০১৩ সালের প্রথম দিকে তুরস্কে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। এর আগে তুরস্ক অভিযোগ করে যে, সীমান্তের অপরদিক থেকে সিরীয় সরকারের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এর নাগরিকরা নিহত হয়েছে এবং সিরীয় বিমানগুলো তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।