২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জল্লাদ জিহাদী জন আইএস ছেড়ে পালিয়ে সিরিয়ায়!

ইসলামী স্টেটের কুখ্যাত জল্লাদ জিহাদী জন চরমপন্থী গোষ্ঠী ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জানা যায়, সে এখন যুদ্ধবিদীর্ণ সিরিয়ায় দৌড়ের ওপর আছে এবং হয়ত অন্য জিহাদী গোষ্ঠীতে ভিড়ে গেছে। ব্রিটিশ কুয়েতী কম্পিউটার সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট ও পরে নির্মম ঘাতকে পরিণত মোহাম্মদ এমওয়ার্জি আইএস নেতারা তাকে হত্যা করতে পারে এই ভয়ে জিহাদী গোষ্ঠী ছেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর ডেইলি মেলের।

জাপানী ফটো সাংবাদিক কেনজি গোতোর লোমহর্ষক শিক্ষকদের পর প্রায় ছয় মাস ধরে ভিডিওতে এই ব্রিটিশ জিহাদীকে দেখা যায়নি। গত জানুয়ারিতে মনোযোগের কেন্দ্র থেকে হঠাৎ করে হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে এমওয়াজির হদিস সম্পর্কে জল্পনাকল্পনা চলছিল। একজন মুখোশধারী জল্লাদরূপে গণমাধ্যমে তাকে তুলে ধরার চাপ এবং তার আসল পরিচয় ঘিরে প্রচারণা এমওয়াজির আকস্মিকভাবে আইএস ত্যাগের সিদ্ধান্তের পিছনে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ এবং আমেরিকান বিশেষ বাহিনী সিরিয়া ও ইরাকে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে- এই উদ্বেগও তার আইএস ত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে এমওয়াজিকে একটি মহার্ঘ নিশানা বলে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সে ছিল বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির আইএসের বর্বর গণমাধ্যম কৌশলের একটি বিশিষ্ট মুখ। একটি সূত্র ‘দ্য মিরর’কে বলেছে, আইএস দলপতিরা হয়ত এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এমওয়াজি এখন পরিহারযোগ্য ব্যক্তি এবং জিহাদী গোষ্ঠীর জন্য সে আর অপরিহার্য অস্ত্র নয়। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডিজ অব র‌্যাডিক্যালাইজেশনের (আইসিএসআর) গবেষণা ফেলো নিক কাদের ভাই আইএস থেকে জিহাদী জনের প্রস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘তাকে ঘিরে প্রকাশ পাওয়া এসব গল্প এই প্রথম নয়। গত কয়েক মাস ধরে সে সিরিয়া, তুরস্ক ও লিবিয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানা যায়।’ মেইন অনলাইনকে কাদের ভাই বলেন, ‘এটা মনে করা ঠিক হবে না যে, তারা (আইএস) তাকে ‘একটা পাথরের মতো ফেলে দেবে’- এটা এমন নয় যে, সে একজন পশ্চিমী বন্দী যে প্রচারণামূল্য হারিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জিহাদী জন তার প্রাণের ভয় করে। এই দাবি একজন নিবেদিত সালাফি-জিহাদপন্থীর ক্ষেত্রে খাটে না। তারা সর্বান্তকরণে তাদের আত্মপরিচয়কে গ্রহণ করেছে এবং মৃত্যুকে পরোয়া না করার অঙ্গীকার করেছে। আইএস জিহাদী জনকে লিবিয়ায় পাঠিয়ে দিয়েছে বলে গুজব ছড়ানোর পর সে সংবাদের শিরোনাম হলো। লিবিয়ায় সে সুস বন্দুকধারী সাইফুদ্দিন রেজগুইর সঙ্গে একটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগদান করে বলে অনুমান করা হয়।