২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পতন ঘটেছে। এর আগে নয় দিনের উর্ধগতির পরে রবিবার থেকেই বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা বেড়ে যায়, যার কারণেই সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও কিছুটা ভাটা পড়ে। এছাড়া ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এই প্রতিবেদনের প্রভাবেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দর ওঠানামা করছে। ফলে বাজারে এক ধরনের উত্থান-পতন চলছে। আর বাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর ওপর নজর রাখছেন। বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করেই প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আসছেন, ফলে বাজারে এক ধরনের স্থিতাবস্থা দেখা গেছে। এরই অংশ হিসেবে বাজারে কিছুটা লেনদেন কমেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ১১.২১ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭৫.২৭ পয়েন্টে। আগের দিনে সূচক কমেছিল ২১.৯০ পয়েন্ট।

এদিকে ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষে শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও চলতি সপ্তাহে তাতে ছন্দপতন ঘটছে। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও সোমবার এটি ৬০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৬৪৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রবিবারের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। লেনদেন কমার এ হার ১৪.১২ শতাংশ। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারে লেনদেন হয়েছিল ৮১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২০.৩৫ শতাংশ।

ডিএসইতে দিনটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৯টির, কমেছে ১৪৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির দর। সোমবারে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। দিনশেষে কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর এ কে সিরামিকসের লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ২৬ কোটি ২৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডেসকো। লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- স্কয়ার ফার্মা, শাহজিবাজার পাওয়ার, এসিআই, বিএসআরএম, গ্রামীণফোন, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, খুলনা পাওয়ার।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : হাক্কানী পাল্প, রূপালী ব্যাংক, বিডি ল্যাম্পস, বিএসআরএম লিমিটেড, পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড, জাহিন স্পিনিং, জেমিনি সী ফুড, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক। দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : মেঘনা সিমেন্ট, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ডাচ বাংলা ব্যাংক, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, কে এ্যান্ড কিউ, সিএমসি কামাল, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন ও বিজিআইসি।

এদিকে ঢাকার মতো দেশের অপর পুুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সব ধরনের সূচক কমেছে। সেখানেও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনের প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। সকালে ইতিবাচকভাবে লেনদেন শুরুর পর সিএসইর সার্বিক সূচক বা সিএসসিএক্স ২৬.৮৩ পয়েন্ট কমে দিনশেষে ৮ হাজার ৯০৪.৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পুরো দিনে লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৫টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ওলিম্পিক এক্সেসরিজ, বিএসআরএম লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড, বেক্সিমকো, স্কয়ার ফার্মা, মবিল যমুনা বাংলাদেশ, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মা।