১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিটে আটকে আছে ৩৫ হাজার মামলা

  • ৪ হাজার মামলায় আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে নিষ্পত্তি হয়নি এমন পুঞ্জীভূত মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত ও অর্থঋণ আদালতে এ সব মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। এ সব মামলার বিপরীতে আটকে আছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এর মধ্যে শুধু উচ্চ আদালতে রিটের কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৪ হাজার ২৫০টি মামলা। আর এগুলোর বিপরীতে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৪৫ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গত রবিবার সচিবালয়ে তিন দফা পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম এ সব কথা বলেন। ব্যাংক সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সব বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। ‘বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে’ জানতে চাইলে ব্যাংক সচিব বলেন, ‘ বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রাধিকার ঋণ খাতে (কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত) ঋণ বিতরণ ও আদায়, খেলাপী ঋণ আদায় পরিস্থিতি, মামলা সংক্রান্ত বিষয় এবং যে সব কাজ করা উচিত কিন্তু ব্যাংকগুলো সেই কাজগুলো সচরাচর করে না কিংবা গাফিলতি করে বৈঠকে সেগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে সব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি এ কাজগুলো মন্ত্রণালয়ে এর আগে করা হয়নি। আমিও শুরু করেছি মাত্র মাস ছয়েক হলো। এ কাজগুলো কেন করা হচ্ছে না সব কিছুই একটা জবাবদিহিতার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। রাতারাতি এ সব অবস্থার পরিবর্তন হবে না। তবে আগের চেয়ে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. আসলাম আলম বলেন, ‘মামলাগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে নিষ্পত্তি হয়নি এমন পুঞ্জীভূত মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। এ সব মামলার বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বিপুল পরিমাণ টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আড়াই বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ তিনি জানান, শুধু উচ্চ আদালতে রিটের কারণে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৪ হাজার ২৫০টি মামলা। আর এগুলোর বিপরীতে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ৪৫ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। ব্যাংক সচিব বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলেও আমাদের পক্ষে দ্রুত এ সব মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমাদের হাতে নয়। আমরা শুধু আইন মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বলতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে বর্তমানে উচ্চ আদালতে ৬টি বেঞ্চ রয়েছে। এ সব বেঞ্চে রাজস্ব বোর্ড সম্পর্কিত মামলাই অধিক প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এ কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে আমরা এখান থেকে দু’টি বেঞ্চ পৃথকভাবে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা এখনো হয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আসলাম আলম বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের করা হয় সাধারণত সেগুলোর কোন জবাব দেয়া হয় না, শুনানিতে আদালতে কেউ উপস্থিত হয় না। এ সব কারণে মামলার রায় ব্যাংকগুলোর বিপক্ষে চলে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ছয় মাসে অবস্থার এটুকু উন্নতি হয়েছে যে, বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৩৬টি মামলা ছাড়া আর সব মামলার জবাব দেয়া হয়েছে।’ ‘মামলায় সরকার পক্ষ জিতুক কিংবা অর্থ আদায় হোক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো এটা চায় না এ ধরনের কথা প্রায়ই শোনা যায়। এটা সত্যি কি না’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে, ব্যাংকগুলো এটা চায় না। তবে এক্ষেত্রে তাদের গাফিলতি আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপর পক্ষ যতটা দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ দেয় ব্যাংকগুলোর পক্ষে তা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ব্যাংকের যে সব আইনজীবী মামলার পরিচালনায় ভাল পারফরমেন্স দেখাতে পারছেন না তাদের পরিবর্তে নতুন আইনজীবী নিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের পার পেয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ব্যাংক সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী পরিচালনা বোর্ড সদস্যদের দায়ী করার কোন বিধান রাখা হয়নি।