২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লোভ-লালসার উর্ধে উঠে ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোল

  • ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা লোভ-লালসার উর্ধে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জনগণের সেবা করার জন্য ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভোগের মধ্যে সুখ নয়, ত্যাগের মাধ্যমেই নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই নিজেকে একজন সত্যিকার দেশপ্রেমী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। যারা ভোগের গড্ডলিকায় নিজেকে বিলিয়ে দেয় তারা নিজেরা হয়ত ভোগবিলাসে জীবন কাটাতে পারে। কিন্তু দেশকে কিছু দিতে পারে না। এর প্রমাণ তোমরা বাংলাদেশেই দেখেছ। তবে মনে রেখ, আমি কখনও কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি, আর কোনদিন দেবও না।

সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগ নেতারা সাক্ষাত করতে গেলে তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের জনগণকে মুক্তির পথ দেখিয়ে আসছে। আওয়ামী লীগ আদর্শ নিয়ে চলে। কারণ আদর্শ ছাড়া, নীতি ছাড়া কখনও কোন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। তাই নবনির্বাচিত ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লোভ-লালসার উর্ধে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জনগণের সেবা করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবনির্বাচিত ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অনুষ্ঠানে তাঁর প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বিদায়ী সভাপতি এসএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম বক্তব্য রাখেন। এ সময় সভাপতিম-লীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববিসহ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যে দায়িত্ব পেয়েছ এবং তোমাদের যারা নির্বাচিত করেছে তাদের প্রতি সম্মান রেখে তোমরা তোমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে। কারণ, আওয়ামী লীগ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তখন বঙ্গবন্ধু ছাত্রদের নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ছাত্রদের বঙ্গবন্ধু দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়, দেশের উন্নতি হয়। তার একটিই কারণ, আওয়ামী লীগ আদর্শ নিয়ে চলে। যে আদর্শ বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। কাজেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে এই অল্প বয়স থেকেই সেভাবে নিজেদের তৈরি করতে হবে। কারণ, আমি কী পেলাম সেটা বড় কথা না, আমি দেশকে কী দিলাম, সাধারণ মানুষকে কী দিতে পারলাম, সেটিই বড় কথা। একজন রাজনীতিবিদের জীবনে এটাই হচ্ছে চরম সত্য। কাজেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও সব সময় এটাই চিন্তা করতে হবে, আমি দেশ এবং দেশের মানুষকে কতটুকু দিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য জাতির পিতা এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই ছাত্রলীগ পথ দেখাচ্ছে। আর তোমাদের মাঝ থেকেই উঠে আসবে আগামীদিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারা। আমরা একটা আদর্শ নিয়ে চলি। কারণ আদর্শ ও নীতি ছাড়া কোন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। তাই লোভ-লালসার উর্ধে উঠে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জনগণের সেবা করতে হবে। এটাই জাতির পিতার আদর্শ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ একে একে ধ্বংস করা হয়েছিল। যারা স্বাধীনতা চায়নি, গণহত্যা করেছে, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছিল, তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া বাঙালী জাতির দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানা খাতে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। যদি আমরা ভোগের রাজনীতি করতাম তাহলে এটা করতে পারতাম না। কারণ রাজনীতিটা আমাদের কাছে দেশ সেবা করার সুযোগ।

বঙ্গবন্ধুর আসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময় এদেশের মানুষকে ভালবেসেছেন এবং অতিরিক্ত ভালবেসেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের তিনি একমাত্র নেতা যিনি সংগঠন করার জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। সংগঠন ছাড়া আসলে কোন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না। সংগঠন যত শক্তিশালী হবে ততই কিন্তু আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের উন্নতি করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা জাতির পিতার কথা বলি। কিন্তু শুধু মুখে বললে হবে না। তাঁর জীবনের লক্ষ্য-আদর্শ জানতে হবে। শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ শক্তিশালী ছিল বলেই অতীতের সকল চড়াই-উৎরাই পার করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আদর্শ নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। আদর্শহীন সংগঠন হলো কা-ারীহীন নৌকার মতো। কোথায় ভেসে যাবে কেউ জানে না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শ নিয়ে সবাইকে তৈরি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগ ছিল বঙ্গবন্ধুর অগ্রগামী দল। প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে ছাত্রলীগ। তাই, আমি ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বলব, পরবর্তী প্রজন্ম যেন ভুল না করে সে জন্য এই (মুক্তিযুদ্ধের) আদর্শ ধারণ করে চেতনা ধরে রাখা। আর আমরা বিজয়ী জাতি এ কথাটা মনে রেখে মাথা উঁচু করে কথা বলা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের মূল কথাটা হচ্ছে পড়াশোনা করতে হবে। নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। উপযুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য কিন্তু এটা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের ছাত্রদের প্রতি মানুষের যে আস্থা-বিশ্বাস ছিল, সেটা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। আর পরাজিত শক্তির দোসররা যেন আর এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে ব্যাপারেও দেশবাসীকে সতর্ক করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাঝখানে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। কিন্তু সবাইকে মনে রাখতে হবে যদি কেউ কোন অন্যায় করে আমি কিন্তু প্রশ্রয় দেব না।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ছাত্রলীগকে আমি প্রশংসা করতে চাই, ধন্যবাদ জানাতে চাই এ কারণে যে, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে কোন গ-গোল ছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা যেভাবে আপনাদের কাউন্সিল করে এসেছেন; এটা দেশের সামনে একটা উদাহরণ। তিনি বলেন, আমি জানি, ছাত্রলীগকে নিয়ে অনেক অপপ্রচার চলে। তবে আপনারা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের একটিমাত্র গণতান্ত্রিক দল, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস যে আপনারা আমাদের স্বাধীনতা, চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবেন।