২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঞ্জাবে থানায় জঙ্গী হামলা ॥ এসপিসহ নিহত ১১

পাঞ্জাবে থানায় জঙ্গী হামলা ॥ এসপিসহ নিহত ১১
  • গুরুদাসপুরে কার্ফু ॥ ভারতজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতের পাঞ্জাবে গুরদাসপুর জেলার দীনানগর শহরের একটি থানায় সন্দেহভাজন জঙ্গীদের ভয়াবহ হামলায় পুলিশ সুপারসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গুরদাসপুরের পুলিশ সুপার বলজিত সিংসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ও তিন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া হামলাকারী তিন সন্দেহভাজন জঙ্গীও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে থানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় ৩০০ সেনা। ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের (এনএসজি) কর্মীদেরও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় গুরদাসপুরে কার্ফু, পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরসহ সারাদেশে হাইএ্যালার্ট জারি করা হয়। খবর জিনিউজ, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ওয়েবসাইটের।

পুলিশ জানায়, ভোর পাঁচটার দিকে এ হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর পোশাকে ৪/৫ জন বন্দুকধারী এ হামলায় অংশ নেয়। তারা গাড়ি, বাস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, থানা ও আবাসিক ভবনে হামলা চালায়। ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। হামলাকারীরা প্রথমে সড়কের পাশের একটি খাবারের দোকানে হামলা চালায়। পরে তারা একটি মারুতি ৮০০ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়। গাড়িতে থাকা ঘুমন্ত এক ব্যক্তিকে তারা হত্যা করে। এরপর তারা চলন্ত একটি বাসে নির্বিচারে গুলি ছোড়ে এবং থানার কাছের একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তারা হামলা চালায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় দুই রোগী নিহত হয়। বন্দুকধারীরা একপর্যায়ে থানায় ঢুকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পুলিশ সদস্যদের পরিবার থাকে এমন একটি আবাসিক ভবনেও তারা হামলা চলায়। থানার পাশের পরিত্যক্ত এক বাড়িতে তিন বন্দুকধারী লুকিয়ে পুড়ে। পরে ওই এলাকা ঘিরে রাখে সেনারা। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জঙ্গী নিহত হয়।

জঙ্গীদের মধ্যে একজন মহিলা সদস্য রয়েছে বলে জানান আহত এক পুলিশকর্মী। হামলার পেছনে পাক মদদপুষ্ট জঙ্গীরাই রয়েছে বলে অনুমান সেনা গোয়েন্দাদের। হামলাটি লস্কর-ই-তৈয়বা বা জঈশ-ই মোহাম্মদের জঙ্গীরা করেছে বলেই ধারণা করছে গোয়েন্দারা।

সেনা গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের নারোয়াল দিয়ে ভারতে ঢোকে জঙ্গীরা। এরপরই নাশকতার উদ্দেশে গুরদাসপুরের দিকে রওনা হয় তারা। হামলার কারণ বিশ্লেষণে উঠে আসছে অন্য একটি তত্ত্বও। তা হলো দিনকয়েক আগেই কাশ্মীর থেকে কয়েক জঙ্গীকে পাঞ্জাবে আনা হয়েছিল।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদল ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, পাক সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর সকালেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে গুরদাসপুরেই রেললাইন থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি তাজা বোমা। রেললাইনে বোমা পাওয়ায় ওই লাইনের সব ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়। থানায় হামলা করার আগে বন্দুকধারীদের অমৃতসর-পাঠানকোট হাইওয়েতে জম্মু-কাশ্মীর থেকে আগত একটি চলন্ত বাসে হামলায় চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।

এদিকে এ সন্ত্রাসী হামলার পর এক প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস অভিযোগ করে যে, মারাত্মক নিরাপত্তা ঘাটতি এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বলা হচ্ছে যে, তারা পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছে। আর এটা যদি সত্য হয় তাহলে এটা নিরাপত্তার ঘাটতি এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলে কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

কংগ্রেসের এ ধরনের অভিযোগের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, এ ধরনের হামলা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়, বিশেষ করে কংগ্রেসের মতো দলের কাছ থেকে এটা কাম্য নয়।

এ ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি চাই। কিন্তু আমাদের ওপর আঘাত এলে আমরা তার সমুচিত জবাব দেব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ছয়টায় নিরাপত্তা নিয়ে জরুরী বৈঠক হয়। এতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এ হামলার ঘটনা নিয়ে তিনি পার্লামেন্টে একটি বিবৃতি দেবেন।