২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্ষা বৃষ্টিতেও পদ্মা সেতুর কাজ চলছে পুরোদমে

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মাওয়া থেকে ফিরে ॥ পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বর্ষা এবং বৃষ্টিতেও থেমে নেই, হরদম চলছে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ। ঈদের ছুটিতে এমনকি ঈদের দিনও কাজ করেছেন কর্মীরা। এ্যাপ্রোচ, নদীশাসন ও মূল সেতু সর্বত্রই কাজ আর কাজ। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতুর প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি জুলাই পর্যন্ত পদ্মা সেতুর নদীশাসনে কাজ হয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।

তবে ড্রেজিংয়ে বালু রাখার স্থান নির্ধারণের জটিলতায় নদীশাসনের কাজ কিছুটা পিছিয়ে আছে। সিডিউল অনুযায়ী প্রায় এক-চতুর্থাংশ পিছিয়ে আছে। তবে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেছেন, পিছিয়ে আছে বলা ঠিক হবে না। প্রথম বছর তো নদীশাসনে কেনাকাটা আর প্রস্তুতিই বেশি। আপাতত বর্ষা মৌসুমের দু’মাস নদীশাসনের ড্রেজিংয়ের বালু নদীর স্রোতে ফেলা হবে। এরপর কোথায় ফেলা যায় তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তিনি বলেন, ড্রেজিংয়ের বালুর স্থান নির্ধারণ নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকেই দায়ী করা যাবে না। কারণ ঠিকাদার স্থান নির্ধারণ করে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে জানাবে তারা ইয়েস অর নট বলবে।

এদিকে, আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

এই নদীশাসনের ঠিকাদার চীনের সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। তারা গত ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করে। প্রথমদিকে কাজের অগ্রগতি ছিল সিডিউলের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু ড্রেজিংয়ের বালু রাখার ক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণ নিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের যথাসময়ে সিদ্ধান্ত দেয়া নিয়ে কথা উঠেছে। তবে সিইজিআইএস বলেছে, এটা ঠিক নয়।

ড্রেজিংয়ের বালুতে জাজিরা প্রান্তে পাশের একটি লেক সম্প্রতি ভরাট করা হয়েছে। এখানে মোট উত্তোলিত বালুর সামান্য অংশ রাখা গেছে মাত্র। এখন ড্রেজিং এক রকম বন্ধ। তবে আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে আবার ড্রেজিং শুরু হচ্ছে এবং আপতত দু’মাসের জন্য সমাস্যার সমাধান হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাজিরা প্রান্তের উত্তরে মেইন চ্যানেলের পাশে নদীতে বালু ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই বালু স্রোতের সঙ্গেই পদ্মায় মিলিয়ে যাবে। বর্ষার দু’মাস এখানে প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ঘনমিটার বালু ফেলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাজ যথাযথভাবে করা গেলে নদীশাসনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা কাজের গতি বাড়িয়ে যথাযথ স্থানে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে।

এটি সম্পন্ন হলে তা হবে নদীশাসন প্রকল্পের মোট ড্রেজিংয়ের মাত্র ১০ শতাংশ। কিন্তু আরও ৯০ শতাংশ ড্রেজিংয়ের বালু কোথায় ফেলা হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। এই নিয়ে সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন হরদম সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএসের (সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড জিওগ্র্যাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস) উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকার তার প্রতিষ্ঠানের যথাসময়ে সিদ্ধান্ত না দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয় উল্লেখ করে বলেন, ড্রেজিংয়ের বালু অনেক বেশি। এই হিউজ বালু ফেলা হলে তা পরিবেশের ক্ষতি হবে না, এমনটি পর্যালোচনা করেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পরিবেশ ও নদীর যাতে কম ক্ষতি হয় সেভাবইে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, নদীতে ড্রেজিংয়ের বালু ফেলা হলেই কম ক্ষতিকারক। নদীতে ফেলার ক্ষেত্রে এমনভাবে ফেলা হবে, যাতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন না হয়। এছাড়া বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে।

তিনি বলেন, মরুভূমির মতো চরে স্তূপ করে বালু ফেলা হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। বন্যা লেভেলে বালু ফেলা হলে পলি পড়ে পরবর্তীতে ফসলের উপযোগী হয়, এমনভাবে এই বালু ফেলা হলে ১৮ স্কয়ার কিলোমিটার জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু এত বিশাল জায়গা পাওয়া মুশকিল। আর এসব স্থানে বালু ফেলা হলে অনবরত মনিটরেরও প্রয়োজন রয়েছে। তিনি অগ্রগতি সম্পর্কে বলেছেন, নদীশাসনের কাজে অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটু পেছনে রয়েছে। তবে শুরুতে একটু সমস্যা থাকেই। তাই অগ্রগতি একটু কমই হয়েছে।

কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্টের (সিএসসি) জ্যেষ্ঠ পরিবেশবিদ ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, অনেক স্টাডি করেই নদীতে বালু ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখনও স্টাডি চলছে। যে কোন সময় নয়, বর্ষা মৌসুমেই এটি ফেলা হবে। এতে সমস্যা নেই। তিনি বলেন, পদ্মায় স্রোতের সঙ্গে ওয়ান বিলিয়ন টন বালু আসে উজান থেকে। সেক্ষেত্রে যেটা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ মাত্র। বর্ষাকালে যখন পানির লেভেল বেশি থাকবে তখনই এই বালু স্রোতের সঙ্গে চলে যাবে।

এদিকে পদ্মা সেতুর মূল পাইলিংয়ের প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। আগামী অক্টোবরে এই পাইলিংয়ের কাজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ