২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেই চালানের আরও একটি ড্রামে কোকেন থাকতে পারে

  • কথিত ভোজ্যতেল

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সানফ্লাওয়ার অয়েল ঘোষণায় বলিভিয়া থেকে অবৈধভাবে আমদানি হয়ে আসা সেই চালানের আরও একটি ড্রামে কোকেন থাকতে পারে এমন সন্দেহ করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ড্রামটি পুনর্পরীক্ষা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছে সংস্থাটি। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান জানান, ইতোপূর্বে একটি ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পর্যবেক্ষণে চালানের ৫৯ নম্বর ড্রামটিতে কোকেন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে তিনি নির্দেশনা পেয়েছেন। আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই ড্রাম থেকে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি জানান। এর আগে ওই কন্টেনারে আসা ১০৭ ড্রামের মধ্যে ৯৬ নম্বর ড্রামে পাওয়া যায় কোকেনের অস্তিত্ব। বন্দর ইয়ার্ডে প্রাথমিক পরীক্ষায় কোন আলামত ধরা না পড়লেও সবকটি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় ঢাকার উন্নত ল্যাবে। সেখানে এক ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকার আর্মড ফোর্সেস ফুড এ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এবং সিআইডিতে। একাধিক পরীক্ষাতে কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান জাহান আলী লিমিটেডের নাম ব্যবহার করে এলসি ছাড়া চালানটি আনা হয় দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া থেকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ চালান আমদানির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। চালান আটকের পর প্রথমে গ্রেফতার করা হয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে। এরপর আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে মামলায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হল। গ্রেফতার বাকি ৫ জন হলো-কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার একে আজাদ, গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ম-ল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিএ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সে অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন সূত্রে তথ্য মিলেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কোকেনের চালানটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলে। তবে গোয়েন্দা সূত্রে ধরা পড়ে যাওয়ার পর পরীক্ষার জন্য এর নমুনা প্রেরণ করা হয় পরীক্ষাগারে। কিন্তু সেখানেও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রভাবিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এ ধরনের চালান আগেও ইউরোপে গেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। সফলতার সঙ্গে ওই চালানগুলো পাচার করতে সক্ষম হওয়ায় চট্টগ্রামকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়া ১০৭ ড্রামভর্তি সানফ্লাওয়ার ব্র্যান্ডের ভোজ্যতেল আটক করে সিলগালা করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের আলামত ধরা না পড়লেও পরে ঢাকার দুটি ল্যাবে পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর বন্দর থানায় এ সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের হয়।