২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আদালত চাই

  • কর্মশালায় অভিমত

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করার ওপর জোর দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা। তাদের মতে, এ বিষয়ে যে পক্ষ আইন অমান্য করবে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব সম্মেলন কপ২১-এ সামনে রেখে জলবায়ু বিষয়ে আইনী বাধ্যবাধকতা ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অভ্যন্তরীণ আইন কঠোর হওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং নবায়নযোগ্য এনার্জির ক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়া প্রয়োজন।

রবিবার রাতে ঢাকায় ফ্রান্স রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের বিষয়ে মানুষের উপলব্ধি প্যারিস জলবায়ু আলোচনা থেকে প্রত্যাশা’ শীর্ষক কর্মশালা থেকে এসব মতামত উঠে আসে। কর্মশালায় এশিয়া অঞ্চলে জলবায়ু বিষয়ে ঢাকায় পরিদর্শনরত ফ্রান্স এ্যাম্বেসেডর এট-লার্জ ফিলিপি জেলার ‘কপ২১: চ্যালেঞ্জ এবং পরিপ্রেক্ষিত’ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জামান। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়ুনডন, নরওয়ে রাষ্ট্রদূত মেরেটি লান্ডেমো, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড স্টাডিজের (বিসিএএস) নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। বিসিএএসের গোলাম রাব্বানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম এবং ফ্রেন্ডশীপের পরিচালক রুনা খান জলবায়ু বিষয়ে পৃথক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করতে হবে। এ বিষয়ে যে পক্ষ আইন অমান্য করবে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

কর্মশালায় ফিলিপি জেলার বলেন, বিভিন্ন সুস্পষ্ট লিখিত দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পাশাপাশি আইনী বাধ্যবাধকতা বিষয়ক চুক্তি এ ইস্যুতে ছয়টি মূল চ্যালেঞ্জের একটি। প্রত্যেকেরই যথাযথ পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, সবুজ তহবিল এটার একমাত্র সমাধান নয়। বরং এটা সমাধানগুলোর অন্যতম একটি সমাধান। আর্থিক বিষয়ও এখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু সরকারী অর্থায়ন নয়, বেসরকারী অর্থায়নও এখানে একটি বড় বিষয়। তবে এটা সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে যে চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে তা খুব ভালভাবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি সম্মেলনে প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি ঘটবে এমন আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সেখানে কিছু বিষয়ে উন্নয়ন হবে এবং মানবিকতা রক্ষা করতেই সমঝোতা মেনে নেয়া হবে। আতিক রহমান বলেন, সবাইকেই এ বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে হবে। দারিদ্র্য ইস্যুতে তিনি বলেন, দরিদ্রতা বহুমাত্রিক ইস্যু এবং একটি একমাত্রিক কিছু প্রয়োগ করে দূর করা সম্ভব না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। মানুষের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবাইকে সামগ্রিকভাবে পালন করতে হবে। তাছাড়া কৃষিক্ষেত্রেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এটাও চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, অর্থায়ন এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সবাইকে তাই অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দাতাদের এখানে সম্পৃক্ত হতে হবে। আর ব্যবসায়ীদেরও এ খাতে বড় অবদান রাখতে হবে।