২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাচারকৃত ১৫৯ জনকে শর্ত ছাড়াই ফেরত দিচ্ছে মিয়ানমার

  • বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে দেশটির

গাফফার খান চৌধুরী ॥ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দিন দিন কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। সম্প্রতি বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে ফেরত আনা এবং অপহৃত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দুই সদস্যকে সে দেশের কাছে ফেরত দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে নানা দিক দিয়েই সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। তারই ধারাবাহিকতায় কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই বিদেশে পাচার হওয়াদের মধ্যে উদ্ধারকৃত ১৫৯ জনকে ফেরত দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই তাদের কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু সীমান্তে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ করবে। ফেরত আসাদের জবানবন্দী গ্রহণ করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল সেখানে উপস্থিত থাকছে। সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে জানান, ইতোমধ্যেই সিআইডির দুজন উর্ধতন কর্মকর্তা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। সিআইডির দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের হস্তান্তরকালে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফেরত আসাদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হবে। জবানবন্দী শেষে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করবে সিআইডি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা পাচারের সূত্রধরে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) বিভিন্ন সময় গোলাগুলিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছিল। শেষ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ জুন ভোর সাড়ে পাঁচটায়। বিজিবির ৬ সদস্য দুটি নৌকায় কক্সবাজারের নাফ নদীর জাদিমোড়া এলাকায় টহল দিচ্ছিল। বিজিবির নায়েক রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি মাছ ধরার নৌকাতে তল্লাশি চলছিল। এ সময় মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে ৭ থেকে ৮ জন সাদা পোশাকধারী বিজিবির টহল দলের উপর গুলি চালায়। বিজিবিও গুলি ছুড়ে পাল্টা জবাব দেয়। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবির সিপাহী বিপ্লব আহত হন। আরেক সিপাহী বেলাল পানিতে নেমে গুলি চালালে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে পানিতে পড়ে যান। এ সময় মিয়ানমারের ৮ থেকে ১০ জনের একটি সাদা পোশাকধারী দল সেখানে উপস্থিত হয়। বিজিপির এক সদস্য বিজিবির নায়েক রাজ্জাকের নাকে কামড় দেয়। পরে আহত অবস্থায় অস্ত্রগোলাবারুদসহ নায়েক রাজ্জাক ও নৌকার দুই মাঝিকে ধরে নিয়ে যায় বিজিপি। নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়া নিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে বিজিপি। নায়েক রাজ্জাকের রক্তাক্ত ও হ্যান্ডকাফ পরিহিত ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে দুই দেশের জনগণ ও কূটনীতিক পর্যায়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার। নানা নাটকীয়তা শেষে শেষ পর্যন্ত আট দিন পর গত ২৫ জুন নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয় মিয়ানমার সরকার। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে দুই দেশের তরফ থেকেই তৎপরতা চলতে থাকে।

সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই নিয়মিত অভিযানকালে বান্দরবানের আলীকদমের গভীর জঙ্গল থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার বিজিবির হাতে উদ্ধার হয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপহৃত দুই সদস্য। উদ্ধারকৃতদের বরাত দিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত দুই সেনা সদস্যকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে গভীর জঙ্গলে রেখেছিল। বিজিবির অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাদের গভীর জঙ্গলে ফেলেই পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত দুই জনই অসুস্থ ছিলেন। বেশি অসুস্থ থাকা একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। অপরজন প্রাথমিক চিকিৎসায়ই সুস্থ হয়ে উঠেন। মিয়ানমার থেকে অপহৃত দুই সেনাবাহিনী সদস্যকে উদ্ধারের পর কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই মিয়ানমারের কাছে ফেরত দেয়া হয়। এমন ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও উন্নতি হয়। বিজিবির সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির ধারাবাহিকতায়ই ১৫৯ জনকে মিয়ানমার কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই ফেরত দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কোন বাংলাদেশী উদ্ধার হলে তাদেরও বিনাশর্তে ফেরত পাওয়া যাবে।