১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমরা আত্মবিশ্বাসী ॥ ইমরুল

আমরা আত্মবিশ্বাসী ॥ ইমরুল
  • বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে দু’দিন বৃষ্টির কারণে খেলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে। তবে ড্রয়ের আগে ম্যাচের তিনদিন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ১৭ রানে এগিয়ে থেকে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের আয়ত্তে রেখেছিল। তাই ম্যাচ ড্র হয়ে গেলেও ইতিবাচক অনেক কিছুই ছিল যেসব নিয়ে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল। সেই অনুপ্রেরণা নিয়ে খেলে এবার ঢাকা টেস্টেও ভাল করার প্রত্যয় জানালেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। রবিবার ঢাকায় ফেরার পর বিশ্রামে ছিলেন ক্রিকেটাররা। তবে সোমবার সকাল থেকেই অনুশীলনে নেমে পড়েছেন তারা। অনুশীলন শেষে এসব কথা বলেন ইমরুল। বৃষ্টির দাপটে পরিপূর্ণভাবে ম্যাচ খেলা না হলেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ টেস্ট খেললেও কোন ম্যাচেই ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি টাইগাররা। কিন্তু এবার ড্র করেছে প্রথমবারের মতো। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি আমরা যদি ড্র করতে পারি সেটা বড় একটা অর্জন হবে আমাদের। চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে আমরা পজেটিভ ক্রিকেট খেলেছি। দুর্ভাগ্য যে বৃষ্টি হয়েছিল। তারপরও আমরাই ইতিবাচক খেলেছি। আমরা যদি ওই আত্মবিশ্বাস রাখি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে ঢাকা টেস্টে আগের মতোই এগোতে পারব।’ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের এক নম্বর দল। তাদের বিপক্ষে ড্র করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন বাংলাদেশের জন্য। বিশ্বসেরা বোলাররা আছেন প্রোটিয়া দলে। এ কারণে ব্যাটিং করাটা এবং রান পাওয়াটা খুব একটা সহজ নয়। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘আমরা খেলেছি বিশ্বের এক নম্বর দলের সঙ্গে। তারা বাজে বল কম করে। ওরা ভাল জায়গায় বল করে। চট্টগ্রামের উইকেট এমন ছিল, আপনি উইকেটে থাকতে পারবেন কিন্তু শটস খেলতে পারবেন না।’

চট্টগ্রাম টেস্টে বড় কোন ইনিংস খেলতে পারেননি ইমরুল। কিন্তু এবার দ্বিতীয় টেস্টে দারুণ কিছু করতে চান। দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটা একটু বেশি। সে কারণে ঢাকা টেস্টে নামার আগে ওপেনারদের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওপেনার হিসেবে চেষ্টা করি আমরা যতক্ষণ উইকেটে থাকার। আমরা বেশিক্ষণ উইকেটে থাকলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা সহজ হয়ে যায়। তারা আরামে রান করতে পারে। এটাই ওপেনারদের মৌলিক পরিকল্পনা থাকে।’ তবে উইকেট ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। কারণ চট্টগ্রামের সঙ্গে মিরপুরের উইকেটে থাকবে পার্থক্য। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই দলের কারও মধ্যেই। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস তো সবারই থাকে। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের থাকে। প্রত্যেকটা দলে থাকে। বাইরে থেকে বলা কঠিন আমরা এভাবে খেলব, ওভাবে খেলব। উইকেট দেখে পরিকল্পনা করতে হয়। চট্টগ্রামের উইকেট এক রকম ঢাকার উইকেট এক রকম। নির্ভর করছে উইকেটের কন্ডিশনের ওপর।’ চট্টগ্রাম টেস্টে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। সবমিলিয়ে ২৩০ ওভার খেলা হয়নি। অর্থাৎ হিসেবে কষলে আড়াই দিন হয়েছে আসলে খেলাটা। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঢাকা টেস্টেও হানা দিতে পারে বৃষ্টি। ফলাফল পরের বিষয়। ওদের সঙ্গে ভাল করলে অন্য দলগুলোর বিপক্ষে কাজে লাগবে। ওরা ওয়ানডে সিরিজ হারার পর থেকেই জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।’

দলের কোচ হিসেবে শ্রীলঙ্কান চান্দিকা হাতুরাসিংহে দারুণ কাজ দেখিয়েছেন। তবে তিনি কোন ক্রিকেটারেরই খেলার নিজস্ব ধরনে পরিবর্তন আনার জন্য বলেননি। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘কোচ অবশ্যই সমর্থন দেন। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছেন। শটস খেলার বিষয়ে বাধা নাই। এটা আমার কাছে খুব ভাল লাগে। কোন বাধ্যবাধকতা নাই, তুমি তোমার মতো খেল এভাবেই বলেন সবসসময়।’ তরুণ উদীয়মান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস দারুণ খেলছেন। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। এ বিষয়ে ইমরুল বলেন, ‘লিটন খুব ভাল খেলোয়াড়। আমি মনে করি ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে সামনে। ও যেভাবে ব্যাট করে এটা ধরে রাখতে পারলে ও অনেক উপরের পর্যায়ে খেলবে। এখন আমাদের দলটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। দলের ভেতর পরিবেশটাই পাল্টে গেছে। এখন যে আসে সেই চিন্তা করে পারফর্ম করতে হবে। কারণ একটা ম্যাচে খারাপ করলে পরের ম্যাচে থাকটা কঠিন। আমার মনে হয় এটা ইতিবাচক একটা বিষয়। বাংলাদেশ দলের জন্য ইতিবাচক একটা বিষয়। নতুন যারা আসেন তারা ভাল করার জন্য ক্ষুধার্ত থাকেন যে আমাকে ভাল করতে হবে। এ জন্যই নতুনদের পারফর্মেন্স ভাল হচ্ছে।’