২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার সিপিএলে শাহরুখ-জুহির বাজিমাত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান যেখানে হাত দেন সেখানেই সোনা ফলে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) আট আসরে দুইবার চ্যাম্পিয়ন (২০১২, ২০১৪) কলকাতা নাইট রাইডার্স, তবে অর্থ-প্রতিপত্তি আর গ্ল্যামারের বিচারে প্রতিবার তারাই সেরা! নাইট বস শাহরুখ এবার নেমেছেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (সিপিএল), সেখানে প্রথম চালেই কিস্তিমাত। ২০১৫ সিপিএলের ফাইনালে বাবার্ডোজ ট্রাইডেন্টসকে ২০ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে কিং খানের ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিল। মজার বিষয়, জয়ের নায়ক শাহরুখের জন্মভূমি ভারতের শত্রুদেশ পাকিস্তানের কামরান আকমল! ৬০ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে খান সাহেবের মুখে শেষ হাসি এনে দেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। টুর্নামেন্টজুড়ে রেড স্টিলকে দারুণ নেতৃত্ব ডোয়াইন ব্রাভো, দুর্দান্ত অলরাাউন্ড নৈপুণ্যে টুর্নামেন্টসেরর পুরস্কার পকেটে পোড়েন উইন্ডিজ ক্রিকেটের এই ‘ক্রেজি বয়’।

লড়াইটা মাঠের মতো বাইরেও ছিল জমজমাট। প্রতিপক্ষ ট্রাইডেন্টসের মালিক দুই হলিউড স্টার মার্ক ওয়ালবার্গ ও জেরার্ড বাটলার। বলিউড বনাম হলিউড। শেষ হাসি খান সাহেবের! সিপিএলে দল কেনার পর নিজের উদ্বোধনী সংস্করণেই চ্যাম্পিয়ন রেড স্টিল। কলকাতার মতো এখানেও তার সঙ্গে মালিকানার অংশীদার জুহি চাওলা ও তার স্বামী জয় মেহতা। পোর্ট অ স্পেনে টস জিতে বাটিং নেয়া রেড স্টিলের হয়ে জয়ের পথ তৈরি করে দেন ব্যাটসম্যানরা। যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও আকমল। ৩৮ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ঠিক ৫০ রান করে আউট হন ডারবানে জন্ম নেয়া ডেলপার্ট। অপরপ্রান্তে উইকেট পড়লেও ব্যাট হাতে ঝড় অব্যাহত রাখেন আকমল। পাকিস্তান জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই তারকা ৪৬ বলে খেলেন ৬০ রানের চমৎকার ইনিংস, ছিল ৫ চার ও ২ ছক্কার মার।

শেষদিকে অধিনায়ক ব্রাভো ১৫ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় রেড স্টিল। তবে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনিংয়ে নামা বড়া তারকা জ্যাক ক্যালিস। ট্রাইডেন্টেসের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রিয়াদ এমরিট ও কাইরেন পোলার্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারলেও ১৫৮ রানে থেমে যায় ট্রাইডেন্টস। সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান মিসবাহ-উল হকের, অধিনায়ক পোলার্ড অপরাজিত ২০। স্টিলের হয়ে স্পিনার সুলায়মান বেন ২৪ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচসেরা আকমল।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত শাহরুখ খান ট্রফির ছবি পোস্ট করে নিজের টুইটারে লেখেন, ‘মন চাইছে ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিলের জন্য ওখানে উড়ে গিয়ে নাচ করি! আমি দারুণ খুশি। ছেলেরা অসাধরণ খেলেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ডোয়াইন ব্রাভো। মেন্টর হিসেবে দলের সঙ্গে থেকে কাজ করেছে ক্যালিস, ওর উপস্থিতি দলকে অনুপ্রাণিত করেছে।’ ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগো দল হিসেবে নতুন নয়। সিপিএলের সবচেয়ে সফল ফ্রাঞ্চাইজি এটি। এর আগে চারবার চ্যাম্পিয়ন তারা। তবে শাহরুখ কিনে নেয়ায় এবার ত্রিনিদাদ এ্যান্ড টোবাগোর সঙ্গে ‘রেড স্টিল’ সংযুক্ত করে নতুন নামে অংশগ্রহণ করে। নতুন মোড়কে পুরনো মদে ভালই মাতালেন শাহরুখ-জুহি। ‘ইয়েস বস’, ‘রাজু বানগিয়ার’ ছন্দে ক্যারিবিয়ান সাগরে ক্রিকেটের ঢেউ তুললেন এক সময়ের পর্দা কাঁপানো বলিউডি জুটি।