১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেই মেক্সিকোই গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন

  • গোল্ডেন বল গুয়ার্ডাডোর, গোল্ডেন বুট ডেম্পসের মেক্সিকো ৩-১ জ্যামাইকা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সেমিফাইনালে পানামার বিপক্ষে ‘জোর’ করে জয় ছিনিয়ে নেয়া মেক্সিকোই কনকাকাফ গোল্ডকাপ ফুটবলের শিরোপা জয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে মেক্সিকো ৩-১ গোলে পরাজিত করে জ্যামাইকাকে। এটি মেক্সিকানদের রেকর্ড সপ্তম শিরোপা।

ফাইনাল মহারণে মেক্সিকোর হয়ে গোল করেন টুর্নামেন্ট সেরা আন্দ্রেস গুয়ার্ডাডো, জেসুস করোনা ও অরিবে পেরাল্টা। জ্যামাইকার হয়ে সান্ত¡নাসূচক গোলটি করেন স্ট্রাইকার ড্যারেন ম্যাটক্স। দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন মেক্সিকোর আন্দ্রেস গুয়ার্ডাডো। সর্বোচ্চ গোলের গোল্ডেন বুট এ্যাওয়ার্ড জয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন্ট ডেম্পসে। সর্বোচ্চ সাত গোল করেন তিনি। তারই স্বদেশী গোলরক্ষক ব্র্যাড গুজানের হাতে উঠেছে গোল্ডেন গ্লাভস। সেরা ভবিষ্যত তারকা নির্বাচিত হয়েছেন মেক্সিকোর জেসুস করোনা। আর ফিফা ফেয়ার প্লে এ্যাওয়ার্ড জিতেছে রানার্সআপ জ্যামাইকা। টাইব্রেকারে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে পানামা। দল দুটির স্থান নির্ধারণী ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসতি ছিল। শিরোপা জয়ের পর উৎসবে ভাসছে মেক্সিকো। দেশটিতে চলছে উৎসব আনন্দ। মেক্সিকোর কোচ মিগুয়েল হেরেরা বলেন, আমরা খুব খুশি। ছেলেরা নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছে। এই অর্জন দেশের জনগণের জন্য। আসরের সেরা খেলোয়াড় গুয়ার্ডাডো বলেন, এই অনুভূতি প্রকাশ করার নয়। আমি খুব খুশি। নিজের অর্জনের জন্য তো বটেই, দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনন্দের মাত্রা আরও বেড়েছে। সেরা খেলোয়াড়ের পাশাপাশি গৌরবময় আরও একটি কীর্তি গড়েছেন গুয়ার্ডাডো। গোল্ডকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি ফাইনালে গোল করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত গোল্ডকাপে ১০ গোল করেছেন গুয়ার্ডাডো। ২০০৭ আসরের ফাইনালে গোল করলেও হারতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২০১১ সালের ফাইনালে গোল করে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। এবারও ফাইনালে গোল করেছেন। প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। সর্বশেষ চার আসরে এটি মেক্সিকোর তৃতীয় শিরোপা। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলতে এসে জ্যামাইকানদের খালি হাতেই ফিরতে হলো। ফাইনাল ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিল। মেক্সিকোর দুর্গে শুরু থেকেই আক্রমণ শাণাতে থাকে জ্যামাইকা। তবে মিনিট দশেক পর থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অধীনে নেয় হেরেরার শিষ্যরা। ম্যাচের ৩১ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে মেক্সিকোকে এগিয়ে নেন জোসে আন্দ্রেস গুয়ার্ডাডো। টুর্নামেন্টে এটি তার ষষ্ঠ গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিগুয়েল হেরেরার শিষ্যরা। বিরতির পরও দাপুটে ফুটবল উপহার দেয় মেক্সিকো। ৪৬ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন তরুণ মিডফিল্ডার জেসুস ম্যানুয়েল করোনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফেরার জন্য তেমন কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি জ্যামাইকা। উল্টো ৬১ মিনিটে মেক্সিকান স্ট্রাইকার পেরাল্টার গোলে তারা ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে জ্যামাইকার হয়ে সান্ত¡নাসূচক গোল করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা স্ট্রাইকার ড্যারেন ম্যাটক্স। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সত্তর হাজার দর্শকের সামনে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠেন গিলের্মো ওচোয়া-গুয়ার্ডাডোরা।