২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গমেলা ২০১৫ মঞ্চ মাতালো দেশের তারুণ্য

  • পান্থ আফজাল

অবশেষে প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো। জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পর্দা উঠল ‘বঙ্গমেলা’র। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ফেয়ার ফ্যাক্সের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর আর্টস প্রাঙ্গণ মাতালো বাংলাদেশের তরুণরা। নৃত্য গীতের ছন্দে ছন্দে তারা পরিবেশন করল ‘আলোর পথ যাত্রী অনুষ্ঠানটি। দেশের প্রখ্যাত নৃত্য শিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল ‘ধ্রুতি’ নৃত্যাঙ্গনের শিল্পীরা এই নৃত্য গাঁথা পরিবেশন করেন। দুদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও ওয়ার্দার পরিবেশনায় ২৬ জুলাই শ্যামা পরিবেশিত হয়।

২৫ জুলাই দুপুর ১২টার কিছু পরে দু’দিনব্যাপী এই মেলার দ্বার উন্মোচন করা হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনের এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল দারুণ উপভোগ্য। এতে আলোর পথযাত্রী, আগুনের পরশমণিসহ ৪৫ মিনিটের অসাধারণ কোরিওগ্রাফি করেছেন ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল ‘ধ্রুতি নাট্যালয়’। ধ্রুপদ আয়োজিত বঙ্গমেলা ২০১৫ সালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলোর মিছিলের থিম ছিল দাসত্বের শৃঙ্খলে বাধা এক দুঃশাসনের রাজত্বে নিষ্পেষিত জনগোষ্ঠীর গল্প। যে জাতির মাঝে বহু শতাব্দীর অচলায়তনে বাঁধা ছিল পরাধীনতার নিকষ কালো অন্ধকার। নিমজ্জিত জনগোষ্ঠীর মাঝ থেকে সহসা জেগে ওঠে কিছু মানুষ কিছু প্রাণ। দাসত্বের সেই শৃঙ্খল ভেঙে উঠে আসে এক তরুণ যে ছিল প্রাণবন্ত। অন্ধকারের সে অমানিশা ভেদ করে প্রাণবন্ত সে তরুণ আলোর বর্তিকা হাতে যাত্রা শুরু করে এক নতুনের আবাহনে। সেই স্বপ্নের ক্ষীণ আলোর প্রদীপের নিচে এসে জড়ো হয় শহরের বহ্নিশিখা এক তরুণী। আর এদের ধরেই এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে প্রতিটি হৃদয় এক হয়ে এগিয়ে চলে আলোর মিছিলে। মেধা বন্দ্যোপাধ্যয় এবং দেবাশীষ চত্রুবর্তীর কথা ও আবৃত্তিতে এবং ওয়ার্দার কোরিওগ্রাফিতে এমন অনবদ্য পরিবেশনা স্রোতা দর্শক সকলকে মুগ্ধ করে।

বাংলাদেশ হতে ‘ধ্রুতি নাট্যালয়’র গুণী নৃত্যশিল্পীরা যুক্তরাষ্ট্রের এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দেয়ার পূর্বে ওয়ার্দা রিহাবের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান পেয়ে আমি সত্যিই নিজেকে ধন্য মনে করেছি। বিদেশের বুকে বাঙালীদের উদ্যোগে করা এ উৎসব আমাদের শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবার সঙ্গে পরিচয় করাতে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি ও আমার দল এই উৎসবে অংশগ্রহণের ডাক পেয়ে খুবই আনন্দিত। আমরা একটি নাচের কোরিওগ্রাফি ও আমার পরিচালিত নৃত্যনাট্য শ্যামা পরিবেশন করব এ অনুষ্ঠানে। আমি আশা রাখি দশর্করা আমাদের এই পরিবেশনাকে সাধুবাদ দেবেন।

ধ্রুপদের ব্যবস্থাপনায় ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী বৈষম্যের দেয়ালে আটকে থাকা ক্ষতবিক্ষত মানুষের মনের সংকীর্ণতার বাঁধ ভেঙ্গে মুক্তধারায় ফিরে আসার প্রত্যয় ঘোষিত হয় এবারের বঙ্গমেলায়। দু’দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানমালা সাজানো হয়েছে সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তিসহ নানা অনুষ্ঠানে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি যেন তার অচলায়তনের সীমানা ছাড়িয়ে যেন মুক্তধারায় বেরিয়ে আসে এ প্রত্যয় নিয়ে বঙ্গমেলা আয়োজন করা হয়। দু’বাংলার গুণী শিল্পীরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতির নির্মলধারা, দেশ, প্রকৃতি এবং মাটির মানুষের জীবনের সৌন্দর্য আর রূপ এবং লাবণ্যের অনবদ্য নির্যাস থাকবে অনুষ্ঠানজুড়ে। তবে গৌরবের বিষয় হলো এমন আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কোরিওগ্রাফিতে ছিল বাংলাদেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব। এর আগে ভারতের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২৫ বৈশাখ উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী ‘কবিপক্ষ’ নামে গানও গীতিলেখ্য নৃত্যনাট্য বিষয়ক একটি উৎসবের আয়োজন করেছিলেন কলকাতার রবিন্দ্রসদনে। সে অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহণ করে তাদেরকে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা ভারতবর্ষ হতে বাছাই করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে ওয়ার্দা রিহাবের ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যটি সিলেক্ট হয়। ভারত ছাড়াও রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে ওয়ার্দা রিহাব ও তার মনিপুরি নৃত্য শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ শ্যামা মঞ্চস্থ করেছিলেন। এ প্রয়োজনাটির পরিচালনা, কোরিওগ্রাফি ও ডিজাইন করেছিলেন ওয়ার্দা নিজেই। এবার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে শ্যামা মঞ্চস্থ হলো সুদূর আমেরিকায়।