২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাইকোথেরাপি

সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশিতে আমরা ডাক্তারের কাছে যেতে কোন লজ্জা বোধ করি না। বরং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না করলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে বলে মনে করি। অথচ মনের কোন সমস্যা হলে লুকিয়ে রাখি। আসলে মনের ছোটখাটো সমস্যা থেকেই পরবর্তীতে মানসিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘ সময় মন খারাপ লাগা, পড়তে ইচ্ছা করে না, কোন কাজে মন লাগে না, খেতে ইচ্ছা করে না বলে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে অথবা বেশি খাওয়া হচ্ছে বলে মোটা হয়ে যাচ্ছি। এসব সমস্যায় শুরুতেই গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করলে, পরবর্তীতে শিশু ও ব্যক্তির মধ্যে যে কোন মানসিক রোগ হওয়ার পথ তৈরি করে।

কাউন্সিলিং : যে কোন ধরনের মনের সমস্যার সমাধানে, সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতায় সাহায্য করতে মনোবৈজ্ঞানিক কাউন্সিলিং বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যক্তিকে কাউন্সিলিং নিতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকতে হবে। ব্যক্তি জীবনে কোন মানসিক জটিলতা তৈরি হলে, একজন দক্ষ মনোবিজ্ঞানীর সহযোগিতা নিয়ে ব্যক্তি খুব সহজেই মানসিক রোগের আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। দৈনন্দিন জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হওয়া খুব জরুরী।

মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি বা সাইকোথেরাপি

যখনই ব্যক্তির মধ্যে কোন মানসিক রোগ তৈরি হয়ে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে তার সাইকোথেরাপি প্রয়োজন হবে। যখন বন্ধু-শুভাকাক্সক্ষীর পরামর্শে ও কাউন্সিলিং এ কোন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি যখন নিজেকে নিজে সাহায্য করার যোগ্যতা হারায়, তখনই তার অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর অধীনে সাইকোথেরাপি নেয়া প্রয়োজন। কারণ মানসিক রোগ সৃষ্টি হলে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় অনেক বেশি জটিলতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন, অনেক মানসিক রোগীই তার মানসিক সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সজাগ থাকেন। সে জানে কি কি কারণে তার সমস্যা হচ্ছে। কি করলে বা কি কি পদক্ষেপ নিলে তার সমাধান হবে তাও সে জানে। কিন্তু সে নিজে শত চেষ্টা করেও সমস্যার কোন সমাধান করতে পারছে না, তখনই তার সাইকোথেরাপি প্রয়োজন। একজন দক্ষ সাইকোথেরাপিস্টের সহযোগিতা নিলে, কোনরূপ ওষুধ ছাড়াই সে মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে।

নিরোটিক ও স্কিজোফ্রেনিয়া রোগীর জন্য সাইকোথেরাপি জরুরী প্রয়োজন। মানসিক রোগীর বোধশক্তি কম থাকলে অথবা চিকিৎসা নেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও তাকে সাইকোথেরাপি দেয়া সম্ভব হতে পারে। অনেক রোগী আছে যারা কথা বলে না, মূক-বধির, এমনকি কোন কথার অর্থও বোঝে না, কারো দিকে তাকায় না। বিশেষ করে অটিসটিক, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদেরকেও সাইকোথ্যারাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের ঘনিষ্ঠজনের সহায়তা প্রয়োজন হবে।

পাশ্চাত্য সমাজে সাইকোথেরাপি : বাংলাদেশের জন্য মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা বা সাইকোথেরাপি অনেকটা নতুন ধারণা মনে হতে পারে। কিন্তু পাশ্চাত্য সমাজে তা খুবই জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি। সেখানে সকল ব্যক্তি, পরিবার, স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনোবিজ্ঞানীর সহযোগিতা নিয়ে বিশাল সফলতা অর্জন করে আসছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ চিকিৎসার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্তমান সমাজের একক পরিবারে দাম্পত্য সমস্যা, ব্যক্তিগত সমস্যা, শিশুকে নিয়ে সমস্যা, পেশাগত সমস্যায় ও যে কোন মানসিক জটিলতায় মনোবিজ্ঞানীর কাছে সুষ্ঠু সহায়তা নেয়া যেতে পারে। মানসিক সব ধরনের সমস্যাই মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে, এ সাধারণ তথ্যটি আমরা অনেকেই জানি না। শৈশবে বা রোগের শুরুতে ব্যক্তি এ চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পেলে আর দশ জনের মতই সে আত্মনির্ভরশীল ও নিজস্ব সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

মনের অসুস্থতাই শরীরকে অসুস্থ করে, মনের সুস্থতাই শরীরকে সুস্থ রাখে। এ বিষয়টি আজকের বিশ্বে সবাই জানেন। যার কারণে পাশ্চাত্য ও বহির্বিশ্বের মানুষ মনের আনন্দ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিদিন অনেকটা সময় ব্যয় করে থাকে। জীবনের যে কোন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে, তারা শুরুতেই মনোবিজ্ঞানীর সহযোগিতা গ্রহণ করে। ফলে অবাঞ্ছিত সমস্যা থেকে সহজেই বাইরে বেরিয়ে আসার পখ খুঁজে পাওয়া সহজ হচ্ছে। তাই পাশ্চাত্য সমাজ মনের আনন্দকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে শান্তি ও স্বস্তির জীবন বেছে নিয়েছে।

মনোবিজ্ঞানী উম্মে কুলসুম কলি

মনস্তত্ত্ববিদ, গবেষক ও সাইকোথেরাপিস্ট, অরকিড সাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার

ফোন: ০১৬২০৬১৯৬৮৬, ০১৭১১০১৮০৯৪