২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৯২ ভাগ চালক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স পাচ্ছে

৯২ ভাগ চালক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স পাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা মহামারী আকার ধারণ করেছে দাবী করে প্রধানমন্ত্রীকে এ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নেয়ার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সাথে দেশের বুদ্ধিজীবি, পেশাজীবি, সামাজিক শক্তি, রাজনীতিবীদ সহ সর্বস্তরের মানুষকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার দাবী জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচীতে এ দাবী জানানো হয়। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর ৫ হাজার কোটির সম্পদ হানী ও ৮ থেকে ১০ হাজার প্রাণহানি ঘটে। ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ আহত হয়। নিহত এবং পঙ্গু হওয়ায় যাত্রীদের ৫১ শতাংশ পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এসব পরিবার দারিদ্রতার কাতারে নেমে যাচ্ছে। যা মধ্য আয়ের দেশে যাত্রার পথে প্রধান প্রতিবন্ধক।

মানববন্ধনে সংগঠনের দাবীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা আরো বলেন সারা দেশে ৩ লক্ষ অবৈধ নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজি বাইক ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ফিটনেস বিহীন যানবাহন মহাসড়কের চলতে দিয়ে নিরীহ যাত্রীদের হত্যা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর ১ লক্ষ ২২ হাজার যানবাহনের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ফিটনেস বিহীন যা দেখার কেউ নেই। এখানে ৮২ শতাংশ চালক ঘুষ দিয়ে ১০ শতাংশ চালক ইউনিয়ন বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স পাচ্ছে। যা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হলে গাড়ীর চালক বা মালিকের বিরুদ্ধে ২০ ভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা, ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে অপমৃত্যু মামলা হয়। এ পর্যন্ত ৭৫ হাজারের বেশী মামলা হলেও কোন মামলায় মালিক বা চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই। যা সড়ক দুর্ঘটনাকে বৃদ্ধি উস্কে দিচ্ছে বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে দাবী করা হয়

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে এ সমস্যা স্বীকার করতে হবে দাবী করে বক্তারা বলেন, সারা দেশে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ থেকে ৫০ জন যাত্রী মারাগেলেও সরকারী হিসেবে প্রতি বছর নিহতের সংখ্যা ২ হাজারের কম দেখানো হচ্ছে। পুলিশের প্রতিবেদনে প্রতি বছর ৪ হাজার, বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে ১২ হাজার, যাত্রী কল্যাণের হিসেবে ৮ থেকে ১০ হাজার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে ১৭ হাজার যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে।