২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলেজে ভর্তি বিড়ম্বনা

বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিধান রেখে ভর্তি নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় ভাল ভাল কথা থাকলেও দেশের বহু ভাল ছাত্র উৎকণ্ঠায় আছে ভর্তি নিয়ে। নামীদামী কলেজের আসন সংখ্যা ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যার বিস্তর ব্যবধানই এর প্রধান কারণ। তবে ভর্তি ফি সম্পর্কে নীতিমালায় অভিভাবকদের জন্য কিছু সুসংবাদ ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশে সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালমানের কলেজ আছে প্রায় ১৬০টি। এতে সবমিলিয়ে ৬০ থেকে ৬৫ হাজারের মতো আসন আছে। অথচ এবার ১০ বোর্ডে শুধু জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। সুতরাং স্বীকৃত ভাল কলেজের বাইরে অন্য কলেজে ভর্তি হতে হবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেধাবী ছাত্রকে। যদিও প্রায় দেড় হাজার বেসরকারী কলেজ বর্তমানে ভুগছে ছাত্র সঙ্কটে।

অনলাইনে কলেজে ভর্তি পদ্ধতি প্রবর্তনের কারণে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সৃষ্ট সমস্যার জট এখনও সম্পূর্ণ সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। দফায় দফায় মেধাতালিকা প্রকাশ করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। জটিলতা কাটবে কিনা তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন অভিভাবক সমাজ। বিপাকে পড়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। নানা ভুলভ্রান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যবস্থাপনাগত নানা ত্রুটি। স্বস্তির বিষয় হলো, নীতিনির্ধারকরা এসব সমস্যা সম্পর্কে অবহিত আছেন। শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে এর জন্য খোলাখুলি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তার মন্তব্যটি এখানে উদ্ধৃতিযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘কম ঢাল-তলোয়ার নিয়ে আমরা বড় যুদ্ধে নেমেছি। প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিশাল কর্মকাণ্ডে কিছু ত্রুটি হয়েছে।’ কাজটি যে বিশাল তা অনস্বীকার্য। তাছাড়া একাদশ শ্রেণীতে প্রথমবারের মতো অনলাইনে পছন্দক্রম অনুযায়ী একযোগে সারাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভর্তির উদ্যোগটি চ্যালেঞ্জিং শুধু নয়, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণও বটে। নতুন কিছু করতে গেলে প্রথম প্রথম অনভিপ্রেত সঙ্কটের ভেতর পড়ার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা চলে না। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এ নিয়মের পক্ষেই মত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, অনলাইন ভর্তি পদ্ধতি যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে শিক্ষার্থীরা বহুবিধ হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। ভর্তি কোচিংয়ের নামে অপশিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার প্রবণতাও হ্রাস পাবে অনেকাংশে।

আমরা মনে করি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করে শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠার নিরসন ঘটাতে হবে। কারণ সময় বয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ থেকে খসে পড়ছে একেকটা মূল্যবান দিন। তাই ভবিষ্যতে আরও যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন করাই সমীচীন হবে। তবে এইসঙ্গে এ কথাও পুনর্ব্যক্ত করা জরুরী যে, দেশের কলেজগুলোর শিক্ষাদানের মান উন্নত করার কথাও ভাবতে হবে। রাজধানীর বাইরে রয়েছে গোটা দেশ। শুধু রাজধানীর গুটিকতক নামকরা কলেজের দিকে তাকিয়ে থাকলে আগামীতে ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের হতাশা আরও বাড়বে। তাই এমন একটি সুষ্ঠু পরিচালনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা চাই যাতে আগামী দশ বছরে দেশের অন্তত ৫০ ভাগ কলেজের মান নিয়ে গর্ব করা যায়। সেজন্যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে কালবিলম্ব না করে।