২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবসৃষ্ট কারণ পৃথিবী বাসযোগ্য রাখার পথে বড় বাধা

  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে আবদুল কালামের ভাষণ

এপিজে আব্দুল কালামের মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা পরেও সৃজনপাল সিংয়ের ঘোর যেন কাটছে না। তার কথায়, তিনটি বইয়ের লেখক হিসেবে নয়, সমাজকর্মী বা কর্পোরেট কনসালট্যান্ট হিসেবেও নয়, সোমবার থেকে হয়ত আমার একটাই পরিচয় সকলে মনে রাখবেন। এপিজে আব্দুল কালামের শেষ দিনের ছায়াসঙ্গী ছিলাম আমি। যে দিনটা আমি নিজে দ্রুত ভুলে যেতে চাই। ফেসবুকে এক মর্মস্পর্শী পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনের।

গত ৬ বছর ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী কালামের সফর সঙ্গী তথা কালামের বইয়ের সহ-লেখক সৃজনপাল সিং। তিনি জানান, সোমবার বেলা ১২টায় দিল্লী থেকে কালাম ও সৃজনপাল সিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। গুয়াহাটিমুখী বিমানে কালামের আসন সংখ্যা ছিল ১-এ। পরনে ছিল কালচে ছাই রঙের স্যুট। সৃজনের কথায়, বর্ষার আকাশে প্রায় আড়াই ঘণ্টার উড়ান। খারাপ আবহাওয়ায় বিমানের নাচানাচি আমার একেবারে না-পছন্দ। বিমানের ঝাঁকুনিতে ভীত আমাকে শান্ত করতে কালাম স্যার স্রেফ জানালার পাল্লা নামিয়ে বলেন, ‘ব্যস, এখন আর ভয়কে দেখতে পাচ্ছ না। তাই ভয় পাওয়ার কারণও নেই।’ কিন্তু, ফিরতি বিমানে যে কালাম স্যারের তেরঙা ঢাকা মরদেহ নিয়ে তিনি দিল্লী ফিরবেন, স্বপ্নেও ভাবেননি সৃজনপাল। শেষ দিনের স্মৃতিচারণে সিং জানান, আড়াই ঘণ্টার বিমান সফরের পরে ফের আড়াই ঘণ্টা গাড়িতে শিলং। পথে বহু বিষয়ে আলোচনা হয়। পাঞ্জাবে জঙ্গী হানা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন কালাম। শিলং আইআইএম-এ তাঁর ভাষণের বিষয় ছিল ‘ক্রিয়েটিং আ লিভেবেল প্ল্যানেট’। কালাম বলছিলেন, ‘মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলোই এই পৃথিবী বাসযোগ্য রাখার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যে হারে হিংসা, দূষণ ও মানুষের হঠকারি কাজকর্ম বাড়ছে তাতে আর বড়জোর তিরিশ বছর এই দুনিয়ায় থাকা যাবে।’ সিং বলেন, ‘তখনও কী জানতাম, বক্তা নিজে আর মাত্র তিন ঘণ্টা পরেই পৃথিবী ছাড়তে চলেছেন!’