১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নগর ও জনপদে ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি ॥ আসছে নতুন আইন

  • শহর কিংবা গ্রামে বহুতল স্থাপনা নির্মাণে অনুমতি বাধ্যতামূলক;###;ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নগর উন্নয়ন অধিদফতর গঠন করা হবে ;###;জাতীয় নগর ও অঞ্চল আইনের খসড়া চূড়ান্ত ;###;১৬ সচিবের সমন্বয়ে উপদেষ্টা পরিষদ হবে ;###;আইন না মানলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড

মশিউর রহমান খান ॥ দেশের যে কোন গ্রাম, শহর কিংবা নগরে যে কোন প্রকার ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে বাধ্যতামূলকভাবে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে। যত্রতত্র অবকাঠামো বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে অনুমতি ছাড়া তা নির্মাণ করতে দেবে না সরকার। ভূমির সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ও অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধে ‘নগর উন্নয়ন অধিদফতর’ নামে একটি সংস্থা এবং ‘জাতীয় নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পর্ষদ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কেউ কৃষিজমি, জলাভূমি বা প্লাবনভূমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ক্রয় বা অধিগ্রহণ করলে এবং কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ব্যতীত নির্মাণকাজ পরিচালনা করলেও তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ হবে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য। তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালতে আপীল করতে পারবেন। প্রস্তাবিত আইন অমান্যকারী ব্যক্তি, সংস্থা প্রতিষ্ঠানের মালিক সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানায় দ-িত হবেন।

সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদকে ভূমি ব্যবহার এবং নগর ও অঞ্চল উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়া হবে। এমনকি সরকারী কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাইলেও ওই অধিদফতরের অনুমতি ছাড়া তৈরি করা যাবে না। এছাড়াও এ ধরনের বিশেষ ভবন তৈরিতে ভূমির ধরন পাল্টাতে চাইলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক। নিয়ম বহির্ভূত সরকারী-বেসরকারী, ব্যক্তিমালিকানাধীন কোন কর্তৃপক্ষই ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। এছাড়া সকল প্রকার ভূমির ধরন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। এসব বিধান রেখে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইনের’ খসড়া চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সরকারী, আধাসরকারী বা বেসরকারী যে কোন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থা পরিকল্পনার বাইরে ইমারত, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলতে চাইলে জাতীয় নগর ও অঞ্চল উপদেষ্টা পরিষদ এবং নগর উন্নয়ন অধিদফতরের অনুমতি নিতে হবে। আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে যত্রতত্র বহুতল ভবন বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

আইনটির খসড়া সম্পর্কে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থার মতামত নেয়া হয়েছে। জনসাধারণ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। শীঘ্রই তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। নিয়ম ভেঙ্গে যত্রতত্র যাতে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন প্রকার স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে না পারে তা মনিটরের দায়িত্ব ভাগ করা থাকবে। শহর ও গ্রামে আলাদা আলাদা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। আর অনুমোদন ছাড়া আইন না মেনে ভূমি উন্নয়ন, স্থাপনা নির্মাণ করলে বা ভূমির ধরন পরিবর্তন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ- ও ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কৃষিজমিতে শিল্প কারখানা তৈরি করা, জলাশয় ভরাট করে আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ কিংবা শিল্প এলাকায় বা বাণিজ্যিক এলাকায় আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এর ফলে বর্তমানের ন্যায় যে কোন স্থানে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপন বা আবাসিক এলাকা তৈরি করতে পারবেন না। সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট নিয়ম পালন করেই ভবন বা কারখানা তৈরি করতে হবে।

কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। ভরাট হচ্ছে জলাভূমি, প্লাবনভূমি ও নিচু জমি। এসব জমিতে আবাসিক প্রকল্প, হাটবাজার, ইটভাঁটি, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, সরকারী- বেসরকারী ও ব্যক্তি খাতে অবকাঠামো, ইমারত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট ভূমির পরিমাণ ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার একর। কিন্তু ভূমি রক্ষায় রাষ্ট্রের সমন্বিত কোন পরিকল্পনা নেই। অপরিকল্পিতভাবে চলছে জমির ব্যবহার। যেখানেসেখানে হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা। ফলে অপরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে। গ্রামের কৃষিজমি দ্রুত অকৃষি খাতে যাচ্ছে। সংরক্ষিত ভূমি বলতে বর্তমানে কিছু নেই। জলাধার, বন, পাহাড় রক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলেও সরকারের মনিটরের অভাবে এর তোয়াক্কা করছেন না কেউ। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন জমি কমার মূল কারণ। ভূমি রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ না করলে সামনে ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে কৃষিজমি। তখন চরম খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের চাষযোগ্য কৃষিজমির ভবিষ্যত সঙ্কট দূর করতে এ আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ বন্ধ করে সারাদেশে চলমান অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমি রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর এক-চতুর্থাংশই এখন হুমকির মুখে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, বছরে বাড়ছে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। দিনে ২২০ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি অকৃষি খাতে যাচ্ছে। বছরে কমছে ৮২ হাজার হেক্টর জমি; যা মোট জমির একভাগ। বছরে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এক হাজার হেক্টর জমি। ৮০ শতাংশ সরকারী খাস জমিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্মাণ কাজের কারণে বছরে বিলীন হচ্ছে তিন হাজার হেক্টর জমি। গত ৩৭ বছরে শুধু ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে। জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০ এবং কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন-২০১০ গত ৬ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। তাই চলমান সমস্যার সমাধানকল্পে ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এআইনটি প্রণয়ন করছে বলে জানা গেছে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, নগর বা অঞ্চল উন্নয়নে পরিকল্পনা অনুমোদন করবে জাতীয় নগর ও অঞ্চল উপদেষ্টা পরিষদ। এক্ষেত্রে নগরের কোথায়-কী ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলা যাবে বা গড়ে তোলা যাবে না তা নির্দিষ্ট করা থাকবে। ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সহায়তা নেয়া হবে। সরকারী, আধাসরকারী বা বেসরকারী যেকোন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থা পরিকল্পনার বাইরে ইমারত, শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলতে চাইলে জাতীয় নগর ও অঞ্চল উপদেষ্টা পরিষদ এবং নগর উন্নয়ন অধিদফতরের অনুমতি নিতে হবে। এজন্য যে জমি ব্যবহার করা হবে তা কৃষিজমি, জলাভূমি, প্লাবনভূমি কিনা, সরেজমিন যাচাই করবেন স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট লোকজন। ভূমির ধরন, তা পরিবর্তন বা অবকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব, নির্মাণসংক্রান্ত প্রস্তাব পরিবীক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে মতামতসহ উপদেষ্টা পরিষদকে জানাবে নির্বাহী কমিটি। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের ক্ষেত্রে জমির ধরন পরিবর্তনেও এ আইনের অধীনে অনুমোদন নিতে হবে।

আইন অনুযায়ী, নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৬ সচিব নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে থাকবেন। যেসব মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সদস্য হিসেবে থাকবেন Ñ গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি, শিল্প, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, অর্থ, সড়ক পরিবহন, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও বন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, আইন ও বিচার, পরিকল্পনা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পরিষদের অধীনে একটি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা নির্বাহী কমিটি থাকবে; যার চেয়ারম্যান হবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নগর উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক (গবেষণা ও সমন্বয়)। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক, পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান, শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি, কৃষি, পানিসম্পদ, বন ও পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সড়ক পরিবহন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব।

উল্লেখ্য, নগর উন্নয়ন অধিদফতর সরকার ঘোষিত দেশের সব নগরের ম্যাপ, তথ্যচিত্র ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ ও পরিচালনার ব্যবস্থা করবে। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক), খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) নগর উন্নয়ন অধিদফতরের অনুমোদনসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভূমি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। পরিষদের সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার যে কোন এলাকার ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে যেকোন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বিদ্যমান কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থাকে এ দায়িত্ব দেয়া যাবে। তবে সরকারের চলমান উন্নয়ন নীতিমালা মেনেই নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা উপদেষ্টা পরিষদকে সব কর্মকা- পরিচালনা করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যেই সরকার নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে; যার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনের আওতায় নগর উন্নয়ন অধিদফতর গঠন করা হবে; যার মাধ্যমে দেশের সকল নগর ও গ্রামের স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। খসড়া আইনে সরকারী বা বেসরকারী সকল প্রকার ভবন বা অবকাঠামো স্থাপনে বা ভূমির ধরন পরিবর্তনেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শহরের পাশাপাশি গ্রামেও পরিকল্পিতভাবে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উল্টো। দেশে প্রতিদিন কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। যত্রতত্র গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবন বা গ্রাম ও শহরের যেকোন স্থানে আবাসিক এলাকা ও সুউচ্চ ভবন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কিছু গড়ে না ওঠায় কোন কোন স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা; যা দেখার পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেই। এছাড়া পৌরসভা থেকে শুরু করে গ্রামেও বর্তমানে বহুতল ভবন গড়ে উঠছে ক্ষেত্রবিশেষ যা দৃষ্টিকটু ও ঝুঁকিপূর্ণ বটে। ভূমির সঠিক ব্যবহার করতে দেশের বিদ্যমান আইনে শহর বা নগরের ভূমির ধরন পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব নয়। এর ফলে কৃষিজমি, জলাভূমি প্রভৃতি ক্রমেই অকৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো প্রতিরোধেই মূলত আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। সারা দেশের সব নগরের ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগযোগ্য হবে।

আইনটির যথাযথ প্রয়োগে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কেউ কৃষিজমি, জলাভূমি বা প্লাবনভূমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ক্রয় বা অধিগ্রহণ করলে এবং কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ব্যতীত নির্মাণকাজ পরিচালনা করলেও তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধ হবে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য। প্রস্তাবিত আইন অমান্যকারী ব্যক্তি, সংস্থা প্রতিষ্ঠানের মালিক সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানায় দ-িত হবেন। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থার মতামত নেয়া হয়েছে। জনসাধারণ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। আইনটি অনুমোদিত হলেই এ ব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।