২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনৈতিক সহিংসতা ও পদ্মা সেতুতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় না হওয়া

  • সংশোধিত এডিপি দুই কারণে কাক্সিক্ষত বাস্তবায়ন হয়নি;###;বাস্তবায়ন হার ৯১ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কাক্সিক্ষত বাস্তবায়ন হয়নি সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (আএডিপি)। সদ্য সমাপ্ত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ হার দাঁড়িয়েছে ৯১ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে বাস্তবায়িত হয়েছিল ৯৩ শতাংশ। মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এসব তথ্য জানা গেছে। তবে বাস্তবায়ন কম হওয়ার দুটি কারণ জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ দুটি কারণ হলো প্রথমত রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দ্বিতীয়ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাক্সিক্ষত অর্থ ব্যয় না হওয়া। অন্যদিকে ১০০ থেকে ১২৫টা প্রকল্প বর্তমানে বছরের পর বছর ধরে চলছে। এগুলো বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান, বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার এবং পরিকল্পনা কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে টানা তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বাস্তবায়ন কিছুটা কম হয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতুর টাকা পুরোটা খরচ না হওয়ায় (৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অব্যবহৃত) এডিপির সার্বিক বাস্তবায়ন কম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এডিপির মতই গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভাল। মূল্যস্ফীতির কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের ভাল রেকর্ড। কংক্রিটের রাস্তার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন, বিদেশে কোথাও বিটুমিনের রাস্তা নেই। সব দেশেই কংক্রিটের রাস্তা। আমরা কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করতে পারলে খরচ অনেক কমে আসবে। সড়ক দুর্ঘটনাও কমবে। বিদেশীরা যদি কংক্রিটের রাস্তা করতে পারে তবে আমরা কেন পারব না? তিনি বলেন, বৃষ্টির পানিতে বিটুমিনের সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দেশের আর্থিক অপচয়ও হচ্ছে। আমরা অস্বাভাবিক মৃত্যু চাই না। কংক্রিটের সড়ক হলে দেশে দুর্ঘটনা কম ঘটবে। কারণ বিটুমিনের সড়কে দ্রুত সময়ে পরিবহনের টায়ার নষ্ট হয়ে যায়। যানবাহন ব্রেক ফেল করে।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ব্যয় হয়েছে ৭১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৫ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২২ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।

শতভাগ ও তার ওপরে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়ন করেছে দশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হচ্ছে, বিদ্যুত বিভাগ ১০১ ভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ শতভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় শত ভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১১১ ভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ১০৬ ভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ১০২ ভাগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শতভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শতভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০১ ভাগ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০১ ভাগ।

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে পিছিয়ে থাকা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৬ ভাগ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৪ ভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) ৫৮ ভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৫৪ ভাগ, অর্থ বিভাগ ৬০ ভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬৬ ভাগ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৬৩ ভাগ, সুপ্রীমকোর্ট ৫৫ ভাগ, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ৫৪ ভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৫ ভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৬৩ ভাগ।

কোন কোন মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার শতভাগের বেশি কিভাবে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্প শেষ হওয়ার সুযোগ থাকলে ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প শেষ করে ফেলা হয়। এতে করে ওই বছর ওই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার বেড়ে যায়। তিনি জানান, অচিরেই ৫০ কোটি টাকার বেশি সরকারী ক্রয়ে ইলেক্ট্র্রনিক্যালি অনুমোদন দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সম্পর্কে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০ কোটি টাকার বেশি সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়ালি অনুমোদন করে থাকেন। অচিরেই তিনি এ অনুমোদন ইলেক্ট্রনিক্যালি করবেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আহম মুস্তফা কামাল বলেন, এখন থেকে একটি প্রকল্পের সংশোধন বারবার করা যাবে না। প্রকল্পের সংশোধনের প্রয়োজন হলে নতুন প্রকল্প হিসেবে আনতে হবে। যেসব প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে চলছে সেসব প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘১০০ থেকে ১২৫টা প্রকল্প বর্তমানে বছরের পর বছর ধরে চলছে। আমরা মনে করি এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আর দরকার নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেতে এ প্রকল্পগুলো আমরা একনেকে উত্থাপন করব।

সূত্র জানায়, ৭৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (আরএডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছিল ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ৫০ হাজার ১০০ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ সময় ব্যয় করতে না পারার আশঙ্কায় মূল এডিপি থেকে বরাদ্দ কমে যায় ৫ হাজার ৩১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৮০ হাজার ৩১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।