২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুহুরীর সীমানা নির্ধারণ বাদ রেখেই মানচিত্র চূড়ান্ত

  • ৩১টির মধ্যে ৩ স্ট্রিপ ম্যাপ সই;###;বাকি একটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি চায় দুই দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্তে মুহুরী নদীর সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বাংলাদেশ ও ভারতের নতুন মানচিত্রের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন নতুন করে মুহুরী নদীর সীমানা জরিপ দাবি করেছে ভারত। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই মুহুরী নদীর সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়।

গত সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে দুই দেশের মানটিত্রের নকশা চূড়ান্ত করা হয়। এই মানচিত্র অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্তে নতুন করে সীমানা চিহ্নিত হয়। এ সময় দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত এলাকার ৩১টি স্ট্রিপ ম্যাপের মধ্যে ৩০টি ম্যাপই সই হয়েছে। তবে একটি স্ট্রিপ ম্যাপ সই হয়নি। আর সেটি হলো বিলোনিয়া সীমান্তের মুহুরী নদীর সীমানা সংক্রান্ত স্ট্রিপ ম্যাপ। বিলোনিয়া সীমান্তে মুহুরী নদীর সীমানা নিয়ে বিতর্ক উঠার কারণে এই ম্যাপে সই হয়নি। ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষ মুহুরী নদীর সীমানা নিয়ে নতুন করে জরিপ দাবি করেছে। তবে ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ১৯৭৭-৭৮ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যৌথভাবে যে সীমানা জরিপ করা হয়েছে, সে অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করা হোক। তবে বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি ভারত। তারা নতুন করে মুহুরী নদীর সীমানা জরিপ দাবি করে। সে কারণে এই স্ট্রিপ ম্যাপটিতে আর সই হয়নি।

২০১১ সালের সীমান্ত প্রটোকলে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৭-৭৮ সালের যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি মুহুরী নদী এলাকার নক্সায় প্রদর্শিত বার্নিংঘাটের দক্ষিণ সীমায় গিয়ে মিলবে। এরপর তা উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে বার্নিংঘাটের বাইরের সীমা বরাবর গিয়ে বর্তমান মুহুরী নদীর কেন্দ্রে মিশবে। এটি আবার বিদ্যমান মুহুরী নদীর মধ্যস্রোত বরাবর গিয়ে সীমান্ত পিলার পর্যন্ত যাবে। এটি হবে স্থায়ী সীমানা। ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী নদীর বর্তমান ধারা স্থিতিশীল রাখতে উভয় দেশের সরকারের নিজ নিজ অংশে বাঁধ দেয়া উচিত বলে মনে করে এমনটিও এতে উল্লেখ করা হয়। ঢাকায় এবারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ওই এলাকায় নতুন করে সীমানা জরিপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চেয়েছে ভারত।

সূত্র জানায়, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছিটমহল বিনিময় ও সীমানা নির্ধারণসহ প্রায় সকল বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও বিলোনিয়া সীমান্তে মুহুরী নদীর সীমানা নিয়ে ঐকমত্য হওয়া যায়নি। তবে দুই দেশ এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চাইছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এর আগে এক হাজার ১১৪টি স্ট্রিপ ম্যাপ সই ও বিনিময় হয়েছে। তবে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী অপদখলীয় জমি ও অচিহ্নিত এলাকার ৩১টি স্ট্রিপ ম্যাপ চূড়ান্ত বাকি ছিল। ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ৩০টি ম্যাপ চূড়ান্ত করে সই হলেও একটি বাকি রয়েছে। আর সেই একটি ম্যাপই হলো মুহুরী নদীর সীমানা সংক্রান্ত।

মুহরী নদী ভারতের ত্রিপুরার লুসাই পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই নদী বঙ্গোপসাগরে পতিত হওয়ার আগে চট্টগ্রাম এবং ফেনী জেলাকে পৃথক করেছে। মুহুরী বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত হিসেবে কাজ করে। তবে ঘনঘন প্রবাহ পথ পরিবর্তনের জন্য এই নদী দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল বহু বছর। বিবদমান এই নদীর সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উভয় দেশ ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তির ভিত্তিতে নদীর প্রবাহে সীমানা নির্ধারণের পক্ষে একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালের সীমান্ত নির্ধারণী পিলারের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৪৪ একর জমির মালিকানা লাভ করে। তবে মুহুরী নদীর উপর জেগে ওঠা ১৪৪ একর মুহুরীর চরের ধান চাষের উপযোগী ফসলি জমির মালিকানার জন্যই দীর্ঘদিন উভয় দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। সর্বশেষ ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বাংলাদেশ সফরে এই সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সেই সময় উভয় দেশ সীমান্ত চিহ্নিতকরণে সম্মত হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত ৬ জুন ঢাকা সফরের মধ্যে দিয়ে সীমান্ত চুক্তি বিল বিনিময় হয়। মোদির সফরের মধ্যে দিয়ে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়। সে অনুযায়ী গত ২৩-২৪ জুলাই ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের সীমানার নতুন মানচিত্রের নকশা চূড়ান্ত হলেও শুধু বিলোনিয়া সীমান্তের মুহুরী নদীর সীমানা নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।