২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, কয়েক হাজার ঘরবাড়ি এখনও পানির নিচে

  • দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ ॥ দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের কয়েক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বরগুনার সাগর ও তৎসংলগ্ন নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব জেলার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উত্তাল হয়ে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে রাক্ষুসে মেঘনা। ২৪ ঘণ্টার আকস্মিক ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ৪শ’ মিটার এলাকার শতাধিক ঘরবাড়ি, অর্ধশতাধিক দোকানপাট ও একটি মসজিদ। সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার সর্বত্র পানি আর পানি। কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বানভাসিদের। মাতামুহুরী নদী থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। চট্টগ্রামের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক লাখ লোক পানিবন্দী অবস্থায় দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বন্যা কবলিত এলাকার পরিবারগুলোর মধ্যে জেলা প্রশাসন নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করছে। বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে।

ফেনী, ফুলগাজীর বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতার।

জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে রাক্ষুসে মেঘনা। গত ২৪ ঘণ্টার আকস্মিক ভাঙ্গনে মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে অন্তত ৪শ’ মিটার এলাকা। শতাধিক ঘরবাড়ি, অর্ধশতাধিক দোকানপাট, একটি মৎস্যঘাট, একটি মসজিদ, একটি পারাপার ঘাট ও ভোলা-লক্ষীপুর সড়ক ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিআউব্লিউটিসির ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে বিপাকে রয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন নদীর তীরবর্তী মানুষ। কেউ কেউ আবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে ভোলা ইলিশা ফেরিঘাট অন্যত্র স্থানান্তর করে দ্রুত যাতে ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি সার্ভিস চালু করা যায় তার জন্য ৩ সদস্যের একটি টিম ভোলা ফেরিঘাট এলাকা পরির্দশনে এসেছে। ভোলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্র্তাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে আগামী ১৫ দিনে মধ্যে ভোলা-লক্ষীপুর সড়ক মেরামত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে টানা বর্ষণে ও জোয়ারে ভোলার কুকরীমুকরী,ঢালচর, নেয়ামতপুর,মদনপুরসহ দুর্গম চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

কুতুবদিয়া ॥ সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণে কক্সবাজারের দ্বীপ কুতুবদিয়ার সর্বত্র পানি আর পানি। কয়েক হাজার বসতবাড়ি ডুবে থাকায় বানভাসি মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্র্ধাহারে। বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার আউশ ফসল ও আমনের বীজতলা। খালবিলে ভেসে গেছে ঘের-পুকুরের মাছ ।

কক্সবাজার ॥ চকরিয়া ও পেকুয়ায় টানা ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দুপুরের পর থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। নতুন করে প্লাবিত উপকূলীয় অঞ্চলের কোনাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও পশ্চিম বড়ভেওলাসহ পাঁচ ইউপি। এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে বুকসমান পানিতে। ভেঙ্গে পড়েছে অভ্যন্তরীণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ। উপকূলীয় অঞ্চলের বানভাসি বেশিরভাগ মানুষ আঞ্চলিক মহাসড়কে পলিথিনের তাঁবু টানিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

আমতলী, বরগুনা ॥ উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে লঘুপাচটি নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। সাগর ও তৎসংলগ্ন নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চর ও নিম্নাঞ্চল পাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার ভারি থেকে ভারি বর্ষণে ফের জলাবদ্ধতায় জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।

বান্দরবান ॥ বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার কারণে জেলার দুর্গম থানছি উপজেলায় ত্রাণ পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার।

ফেনী ॥ ফুলগাজীর বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হলেও দাগনভুঞা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ফুলগাজী এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী পানি ধীরে ধীরে ভাটির দিকে নেমে যাচ্ছে। মুহুরী নদীর পানি দুপুর ১২ টায় পরশুরাম পয়েন্টে বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফুলগাজী উপজেলার বন্যা কবলিত গ্রামের বাড়িগুলো থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফির আসতে শুরু করেছে।

কলাপাড়া ॥ মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে কলাপাড়ায় সাগর ও নদী উত্তাল হয়ে আছে। ফলে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণকারী অধিকাংশ জেলে ট্রলার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। বন্ধ রয়েছে মাছ শিকার ।