১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হচ্ছে বাংলাদেশের একটি শহর

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী বছর সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানীর মর্যাদা পাচ্ছে বাংলাদেশের একটি শহর। সার্ক কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে ২০১৬ সালের জন্য সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণার প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত তিনটি শহর হচ্ছে কুষ্টিয়া, কুমিল্লা ও বগুড়া। এই তিন শহরের মধ্যে একটি শহরকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে মনোনীত করা হবে। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই এ বিষয়য়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক বসন্তে কোতুয়েল্লা ও উপ-পরিচালক সুন্দরীয়া দেবী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আগামী বছর সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হচ্ছে এ দেশের একটি শহর। কুষ্টিয়া, কুমিল্লা ও বগুড়াÑএই তিন শহরের একটি শহর এই মর্যাদা পাবে। মূলত প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের ভিত্তিতে এই তিন জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার থেকে আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত সার্ক প্রতিনিধিরা এই তিন জেলা পরিদর্শন করে একটি শহরকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানীর জন্য বাছাই করবেন। প্রতিনিধিরা প্রথম যাবেন হবে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে। পরবর্তীতে তাঁরা কুমিল্লার ময়নামতি ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ এসব শহরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বি¡ক স্থান পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে তাঁরা যে একটি শহরকে বাছাই করবেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে সাংস্কৃতিক রাজধানী হবে কোন শহরটি। বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সভ্যতার বন্ধনকে দৃঢ় করার প্রত্যয়ে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানকে চিহ্নিত করাই এই কর্মসূচীর প্রধান উদ্দেশ্য। এর ফলে সার্কভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তৈরি হবে একটি অভিন্ন ধারণা। আর বাংলাদেশের একটি শহর যখন সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানীর হবে তখন সারা পৃথিবীর মানুষ জানবে কিভাবে ক্রমশ বিকশিত হচ্ছে এ দেশের সংস্কৃতি চর্চা। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে সার্ক কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের মাধ্যমে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানীর ধারণাটি উঠে আসে। সেই কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানীর মর্যাদা পেয়েছে আফগানিস্তানের বামিয়ান শহর। আগামী বছর এদেশের একটি শহর পাবে সেই মর্যাদার আসনটি।

সার্ক কালচারাল সেন্টারের পরিচালক বসন্তে কোতুয়েল্লা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সুসংহত রাজনীতির পাশাপাশি এদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে মনোনীত হচ্ছে বাংলাদেশের একটি শহর।

সঙ্গীতাসর প্রাণের খেলায় রবীন্দ্রনাথের গান ॥ মানবমনের জীবন-উপলব্ধির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গান জীবন-বোধের নানা সূক্ষ্ম সংবেদনশীল উপলব্ধি শ্রোতার অভিজ্ঞতার দিগন্তকে বিস্তৃত করে। তাঁর গানের চেতনাধারায় স্নœাত হয়ে সঙ্গীতানুরাগীর মনে বিরাজ করে অফুরান প্রাণশক্তি। মঙ্গলবার রাজধানীর সঙ্গীতানুরাগীরা সুরের সেই মায়াজালে অবগাহন করলেন। শ্রাবণ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাণের খেলা শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানে গাওয়া হলো বিশ্বকবির গান। আগামী বাইশে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সঙ্গীতাসরে তাঁর রচিত গান শোনালেন কণ্ঠশিল্পী বুলবুল ইসলাম ও শ্রেয়সী। কণ্ঠের মাধুর্যে গানে গানে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্নিগ্ধ অনুভূতি ছড়িয়ে দেন শিল্পীদ্বয়।

শিল্পকলায় ছৌ নৃত্য পরিবেশনা ॥

ময়ূরভঞ্জ ছৌ নাচের এক শৈল্পিক কলা। নৃত্যের বিভিন্ন কলার সমন্বয়ে তৈরি নান্দনিক এই নাচটি। আর নৃত্যযোগের আয়োজনে এই নাচের ওপর দুই সপ্তাহের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের নন্দিত নৃত্যশিল্পী সন্তোষ নায়ার পরিচালিত কর্মশালাটিতে অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন জেলার ৬৫জন প্রশিক্ষণার্থী। সেই কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে মঙ্গলবার ময়ূরভঞ্জ ছৌ নৃত্যের আসর বসেছিল শিল্পকলা একাডেমিতে। সন্ধ্যায় একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ভিন্নধর্র্মী নাচের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

‘নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা’ ॥

ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যৌথভাবে ‘নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা’ শিরোনামে দেশের চলচ্চিত্রকারদের নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের বছরব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো ন্যূনতম দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শিত হয়। দর্শনীর টাকা দর্শকের উপস্থিতিতেই নির্মাতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। আজ বুধবার প্রদর্শিত হবে উৎসবে জুলাই মাসের জন্য নির্বাচিত ৭টি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী, দুইটি প্রামাণ্য ও একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র।