২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইস্টার্ন বাইপাস এবং পূর্বাঞ্চল থেকে সায়েদাবাদ মেট্রো

  • সহযোগিতায় জাপান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যানজট নিরসনে রাজধানীর চারপাশে সার্কুলার সড়ক ও সড়ক নির্মাণ (ইস্টার্ন বাইপাস) ও পূর্বাচল থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত মেট্রোরেল-১ নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ দুটি প্রকল্প নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। মঙ্গলবার জাইকার সদর দফতরে সংস্থাটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডমিচি হিডিয়াকির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জাপান সফররত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়। স্ট্র্যটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের (এসটিপি) সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এমআরটি-৬ (মেট্রোরেল) প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর প্রকল্পে আর্থিক সহযোগিতায়ও জাইকা। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসটিপি সংশোধন করায় রাজধানীতে যানজট নিরসনে ৬টি প্রকল্পের পৃথক পৃথক নাম দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), অপর তিনটি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) অর্থাৎ মেট্রোরেল।

মঙ্গলবার বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস ও মেট্রোরেল রুট-১ নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব ছাড়াও মেট্রোরেল রুট-৫, যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে চ্যানেল নির্মাণ, পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত চরজানাজত সংযোগ, ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-কালনা সংযোগ সড়ক, পাঁচগাছি সেতু, সোনাপুর-সোনাগাজী জোরারগাছ সড়ক নির্মাণে জাইকার মাধ্যমে জাপান সরকারের অর্থায়নের প্রস্তাব করেন।

মন্ত্রী ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে উত্তরা হতে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল-৬ নির্মাণ, ২য় কাঁচপুর, ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতি সেতু নির্মাণ, ঢাকা মহানগরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) হালনাগাদকরণ এবং ই-টিকেটিংয়ের ক্লিয়ারেন্স হাউস স্থাপনে জাইকার অর্থায়নের জন্য ধন্যবাদ জানান।

জাইকার পক্ষ হতে জানানো হয়, কৌশলগত পরিকল্পনা হালনাগাদকরণের পাশাপাশি মেট্রোরেল রুট-১ ও ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যমুনা নদীর ওপর দিয়ে একটি রেলসেতু নির্মাণে জাপান সরকার অর্থায়ন করবে বলে এ সময় জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফরকালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনসহ অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ খাতের প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নিতে জাইকা কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

এ সময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য জাপান সরকার ও জাপানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বীকৃতিদানকারী প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। তিনি জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানান। তিনি মেট্রোরেল-৬ এর কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।