২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একাত্তরের পরাজিত শক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে

  • ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জঙ্গী মৌলবাদীদের তথ্যপ্রযুক্তি সন্ত্রাসবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছে। অস্ত্র হাতে আইএসের চেয়েও তারা ভয়ঙ্কর। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুরনো আইনকে সংস্কার করা হবে। আগামী বছরের শুরুতে সাক্ষ্য আইন উপহার দেয়া সম্ভব হবে। এর ফলে সন্ত্রাসীদের শনাক্তকরণ সহজ হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করায় বহির্বিশ্বের বহু দেশ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। এমনকি অনেকেই বাংলাদেশের ডিজিটাল মডেলকে তাদের দেশে কাজে লাগানো শুরু করেছে। প্রতিটি মানুষ বর্তমানে ডিজিটাইজড। কোন চাহিদাকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে ঘোষণা করা হলে তা হবে ইন্টারনেট। তবে এ ইন্টারনেট জগতেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিরা সাইবার সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত। প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে ব্লগার হত্যা করা হচ্ছে। এদের অনেকেই দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে ব্লগারদের নিরাপত্তা বিধানসহ সব রকমের সহায়তা প্রদান করতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানী ধানম-ির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘জঙ্গী মৌলবাদীদের তথ্যপ্রযুক্তি সন্ত্রাস সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিরা উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে। তবে আমাদের তরুণরাও বসে নেই, তাদের কর্মকা-ে তা বার বার প্রমাণিত। সাইবার যুদ্ধেও ওইসব পরাজিত শক্তি আবারও পরাজিত হবে। সাইবার সন্ত্রাসীদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করবই।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ২০১৩ সালের সংঘটিত তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংস্কার করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০১৫-এর খসড়া আইসিটি খাতের সবার সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করা হয়েছে, প্রয়োজনে এর সংস্কারও হবে। সাইবার সন্ত্রাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারের প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ কিংবা কোন রাষ্ট্র কর্তৃক কোন চাহিদাকে যদি মৌলিক চাহিদাতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তাহলে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হতো ইন্টারনেট। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। অপরাধীরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে যতই ঐক্যবদ্ধ থাকুক, অবৈধ অর্থ ব্যবহার করুক, কোনক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, জঙ্গী সন্ত্রাসীরা ফেসবুক ও ব্লগে পোস্ট দিয়ে বলছে; ওই ব্লগারকে হত্যা করা ইমানি দায়িত্ব। অভিজিৎ নিহত হয়েছে বইমেলায়। ফারাবী নামের এক মৌলবাদী সন্ত্রাসী অভিজিতকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিল। দু’বছর ধরে আসামি তার অপকর্ম চালায়। অভিজিৎ নিহত হবার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে বলা হচ্ছে তাকে আটকে রাখা যাচ্ছে না। রাজীবকে হত্যার পর ফারাবীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু দেখা গেল সে ছাড়া পেয়ে গেল। আর একটি ব্লগারও যেন কোনক্রমে হত্যা না হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। এখনও আমরা শিল্পযুগে প্রবেশ করতে পারিনি। প্রযুক্তির সঙ্গে সেভাবে বিকশিতও হতে পারিনি। ১৯৯৬ সালে সরকার প্রথমবারের মতো প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে কম্পিউটারের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করে। ’৯৬ থেকে ২০০১ ছিল তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের স্বর্ণযুগ। ২০০৬ সালে এসে সেই ধারায় পতন ঘটে, সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হয়নি বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের ডিজিটাল মডেলকে বহির্বিশ্বের বহু দেশ মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ‘প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০১৫ (খসড়া)’র কয়েকটি ধারার সমালোচনা করে বলেন, আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলা হয়েছে। তবে এর ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়। আইনটির প্রয়োগ নিয়ে কি হয়েছে তাও অনেকেরই জানা। প্রস্তাবিত খসড়া আইনে ধারা ২-এর ১৬ নম্বরে ক্ষতি সম্পর্কে যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়। খসড়া আইনে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার কথা বলা হয়েছে, সেখানে ট্রেনিং ও ক্ষমতায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তদন্ত করার ক্ষেত্রে বুঝতে হবে আসলে আমাদের সীমাবদ্ধতা কোথায়।