২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম গতিশীল করতে বিশেষ উদ্যোগ

  • অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার অঙ্গীকার মতবিনিময় সভায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা। সোমবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অধিদফতরের সকল পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের মতবিনিময় সভায় এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা করেন তাঁরা। রাজধানীতে অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রথমবারের মতো সারাদেশের সকল পরিচালক ও উপ-পরিচালকরা এক সঙ্গে মিলিত হন। সভায় জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো সংস্কার, প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের সরবরাহ বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন উন্নয়ন কর্মসূচীর ওপর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার সমস্যাসমূহ তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ নূর হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং মাঠ পর্যায়ের পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অধিদফতরের পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দেড় বছরে স্বাস্থ্য সেক্টরের অর্জন ও সুনাম আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমরা অনেক কিছুতেই শ্রেষ্ঠ হতে চাই। স্বাস্থ্য সেক্টর তথা পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে এড়িয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি দেশের সঠিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা ও দক্ষ জনবল সঠিকভাবে নিরূপণ করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম যেন গতি হারিয়ে ফেলেছে, তা পুনজ্জীবিত করে তুলতে হবে। আর্থিক বরাদ্দের সমস্যা নেই। নতুন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আরও নিয়োগ দেয়া হবে। অধিদফতরের ক্যাডার ও নন ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাও সমাধান হওয়ার পথে। নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত ও শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আরও কর্মক্ষম, সৃজনশীল ও উদ্যমি হওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ নূর হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, কোন অবস্থাতেই দায়িত্ব পালনে অবহেলা সহ্য করা হবে না। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও গতিশীল করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চাহিদা পূরণ করা হবে। স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কাজে ফাঁকি দেয়া যাবে এবং আপনাদের অধিনস্থ সকলকেও সেইভাবে কাজে লাগাতে হবে। মহাপরিচালক আরও বলেন, কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় নব্বই শতাংশ শূন্যপদ পূরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি শূন্যপদ পূরণের জন্য জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মহাপরিচালক আরও জানান, গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ২০১১ সালের তুলনায় ৪৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ শতাংশ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানিক ও দক্ষ সেবাদানকর্মী দ্বারা প্রসবের হার বেড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ হয়েছে। শিশু মৃত্যু হ্রাসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে নবজাতকের মৃত্যুর হার ৩২ থেকে ২৮, এক বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ৪৩ থেকে ৩৮ এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ৫৩ থেকে ৪৬ এ হ্রাস পেয়েছে। অপূর্ণ চাহিদা হ্রাস পেয়ে ১৪ থেকে ১২তে এসেছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের কথা ॥ সভায় মাঠ পর্যায়ের পরিচালক ও উপ-পরিচালকরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাঁদের একজন হলেন বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক তৈয়বুর রহমান জানান, জনবল সঙ্কট রয়েছে। ৪২টি উপজেলায় শতকরা ৫০ ভাগ পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়াতে কেবিন ও এ্যাম্বুলেন্স দরকার। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও মেডিক্যাল অফিসার দরকার বলে জানালেন চুয়াডাঙ্গা জেলার উপ-পরিচালক রেজাউল করিম।