২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘সাফল্যের ক্ষুধা আছে আমাদের’

‘সাফল্যের ক্ষুধা আছে আমাদের’
  • তামিম ইকবাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আর মাত্র একদিন। আজকের দিনটি শেষ হলেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে যাবে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট। যেটি টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্টই শুধু নয়, দুই দলের মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ সিরিজেরই শেষ ম্যাচ। এ ম্যাচটিতেও সাফল্য চান বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল। নিজেই বলেছেন, ‘সবার মধ্যেই সাফল্যের ক্ষুধা আছে।’ মঙ্গলবার দুপুরে অনুশীলন শুরু করার আগে দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তামিম নিজের মনের কথাগুলো জানিয়েছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

* ঢাকা টেস্ট প্রসঙ্গে-

চট্টগ্রামে আমরা যতা টেস্ট ম্যাচ খেলেছি, আমার মনে হয় আমরা ভালই খেলেছি। এটা এই সিরিজের শেষ ম্যাচ। চট্টগ্রামের টেস্টটিতে আমরা যেভাবে এগোচ্ছিলাম, সেভাবে যদি আমরা এখানেও খেলতে পারি, তাহলে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য সব মিলিয়ে খুব ভাল একটি সিরিজ হবে।

* লম্বা একটি সেশন শেষ হওয়া প্রসঙ্গে-

২০১৫ সালটা খুব ভাল গেছে। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। এরপর আমাদের লম্বা অবসর আছে। এটা আমাদের সবার জানা আছে। সঙ্গে এও জানা আছে যে, আমরা বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের সঙ্গে টেস্ট খেলতে যাচ্ছি। তাদের বিপক্ষে ভাল ফলাফল পেতে চাইলে আমাদের সব বিভাগের শতভাগ ভাল পারফর্ম করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আমরা যে পরিকল্পনা করব, সেটাকে পুরোপুরিভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোন কিছুতেই ছাড় দেয়া যাবে না, কারণ যাদের সঙ্গে খেলব, তারা এক নম্বর দল। আমাদের শুরুটা ভাল করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর ছন্দটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে, তা আমাদের দলের জন্য খুব ভাল ব্যাপার হবে। ম্যাচের শুরুতে আমরা ব্যাটিং-বোলিং যাই করি না কেন, শুরুটা ভাল করতে হবে। সেটা হলে, সেই ছন্দ ধরে এগোতে হবে সামনে।

* বাংলাদেশের টেস্ট পারফর্ম প্রসঙ্গে-

টেস্টে আমরা এখনও খুব বড় কিছু অর্জন করিনি। এ মাঠে (মিরপুরে) হোক, বা অন্য যে কোন মাঠেই হোক। কিন্তু এখন আমরা আগের চেয়ে ভাল খেলছি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে এখন আমরা লড়াই করতে পারি। উইকেট কেমন আচরণ করবে, সে বিষয়ে সবারই ধারণা আছে। যেটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম সেশনটা আমাদের খুব ভাল করতে হবে। পরে ওই ছন্দটা ধরে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আশা করি এই ম্যাচটি (দ্বিতীয় টেস্ট) একটা ভাল টেস্ট ম্যাচ হবে।

* দীর্ঘ সিরিজের পরও শেষ দিকে এসে বাংলাদেশের ভাল খেলার রহস্য প্রসঙ্গে-

আমার কাছে মনে হয়, এটা নির্ভর করে ‘মাইন্ড সেট’এর ওপর। সত্যি কথা, এ বছরের আগ পর্যন্ত আমরা খুব বড় কিছু অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু এ বছর সেটা পেরেছি। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে। দলের প্রতি খেলোয়াড়ের মধ্যে সাফল্যের ক্ষুধা আছে। সবাই উন্নতি করতে চায়। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। এখানে আমাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়লে তা পারফর্মে প্রভাব ফেলে। আমাদের ফিজিও-ট্রেইনাররা আমাদের নিয়ে প্রচুর কাজ করেন। একেক দিন একেক ধরনের অনুশীলন করানোর চেষ্টা করেন। যাতে কেউ ক্লান্ত হয়ে না পড়ে। আমরা সবাই ওই অনুশীলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপভোগ করি। অনুশীলন, টিম মিটিং এসব আমরা এখন উপভোগ করা শিখে গেছি। আমার মনে হয়, যে কোন বিষয় উপভোগ করা শিখলে সেটার ফলাফল ভাল হয়।

* ফলাফল প্রসঙ্গে-

চট্টগ্রাম টেস্ট সমতায় ছিল। দুটি দিন খেলা হয়নি; হলে, যে কোন দিকে ফলাফল যেতে পারত। দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দল। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে তারা খুবই ভাল। ওদের সঙ্গে লড়তে হলেও আমাদের সেরাটা খেলতে হবে। আমরা ঢাকা বা চট্টগ্রাম, যেখানেই খেলি না কেন, সেরাটাই খেলতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে খুবই শক্তিশালী দল। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকাকে খুব বেশি সুযোগ দেয়া যাবে না।

* সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ওপেনিং জুটি বড় করা প্রসঙ্গে-

চট্টগ্রামে যে উইকেট ছিল, সেখানে রান করা কঠিন ছিল। ওই ধরনের উইকেটকে আমি ‘ইজি টু ব্যাট, হার্ড টু স্কোর’- ‘ব্যাটিং করা সহজ, কিন্তু রান তোলা কঠিন’; বলি। চট্টগ্রামে আমরা যারা সেট হয়েছিলাম, আমি, সাকিব, রিয়াদ ভাই, লিটন- আমাদের একজনের দায়িত্ব ছিল স্কোরটা বড় করা। সেটা আমরা করতে পারিনি। পারলে চট্টগ্রাম টেস্টে আমরা আরও ভাল অবস্থানে যেতে পারতাম। ঢাকা টেস্টে এটাই করতে হবে। টেস্টে সেট হওয়াটা কঠিন। প্রথম ২০ রান করা সহজ, কিন্তু পরের ৪০ রান করা ততটা সহজ নয়। টেস্টে প্রথম ২০ রান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি হই, বা দলের যেই হোক, শুরুটা যদি ভাল হয়, ইনিংস যতটা বড় করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। কেউ বড় ইনিংস খেলে দিলে অন্যদের জন্য কাজ সহজ হয়ে যায়।

* বিশেষ গুরুত্বের দিক প্রসঙ্গে-

ওয়ানডেতে কোন একটা দিকে খারাপ হলে, অন্যদিকে ভাল খেলে সেটা পুষিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু টেস্টে সব দিকেই ভাল কিছু করতে হবে। আমরা যতই রান করি, পরে যদি ২০ উইকেট নিতে না পারি, তাহলে ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে না। বোলিংয়ে ওদের উইকেট দ্রুত ফেলতে হবে, ব্যাটিংয়ে আবার উইকেট ধরে রাখতে হবে। বড় জুটি গড়তে হবে। সুতরাং টেস্টে কোন একটা দিককে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। চট্টগ্রামে পেসারদের জন্য কিছুই ছিল না। তারপরও মুস্তাফিজ-শহিদ যেভাবে বোলিং করেছে, তা দারুণ ছিল। যা হোক, আমাদের সব দিকে খুব মনোযোগ খেলতে হবে।