২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়ের লক্ষ্যে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা ॥ মরকেল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কোনভাবেই ‘জয় চাই, জয়ের জন্যই নামব’ এমন কথা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটারদের মুখ থেকে বের করা যায় না। শুধুই প্রতিপক্ষকে সমীহ করেন তারা। আর ভাল খেলার কথা বলে যান। মঙ্গলবারও যেমন প্রোটিয়া পেসার মরনে মরকেলও ভাল ক্রিকেট খেলতে চাওয়ার কথাই বলেছেন। জানিয়েছেন, ‘দুই দলেই ভাল বোলার রয়েছে। ভাল একটি টেস্ট ম্যাচই হবে ঢাকায়। এটি দিয়েই আমাদের সফর শেষ হচ্ছে। ভাল ক্রিকেট খেলাই লক্ষ্য আমাদের।’

দ্বিতীয় টেস্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথাও জানালেন মরকেল, ‘আশা করি এই ম্যাচটাও (ঢাকা টেস্ট) বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কারণ, বাংলাদেশ এখন রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। তার ওপর নিজেদের মাটিতে খেলতে নামবে তারা। সুতরাং, এখানেও তাদের ভাল করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশকে তাই হালকা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। আশা করি, এই টেস্টটা আমাদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক হবে।’

বৃষ্টিতে ভেসে গেছে প্রথম টেস্ট। চট্টগ্রামে ড্রেসিং রুম আর হোটেলেই আবদ্ধ থাকতে হয়েছে প্রোটিয়াদের। ঢাকা টেস্টেও বৃষ্টি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার রোদ ঝলমল আকাশ দেখে দারুণ খুশি সফরকারীরা। মরকেল যেমন এখন আশা করছেন ঢাকা টেস্ট পাঁচদিনেই হবে, ‘আশা করি, ঢাকা টেস্ট পাঁচ দিনে গড়াবে। আমাদের ক্রিকেটাররা মাঠে নামার জন্য ক্ষুধার্ত।’ সঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা খুবই খুশি। সত্যি বলতে, টানা বৃষ্টির কারণে ড্রেসিং রুমে বসে থাকতে থাকতে আমাদেরও বিরক্তি ধরে গিয়েছিল। সবাই খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আর ভাল লাগছিল না। আমরা খেলতে চাই। সেটাই যদি না পারি এবং হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়, তাহলে কারও ভাল লাগার কথা নয়। আশা করি এবার বৃষ্টি কমবে এবং আমরা ভালভাবেই ম্যাচটি শেষ করতে পারব।’

রবিবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পরও বৃষ্টি নিয়ে চিন্তিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটাররা। বৃষ্টি যে পড়ছিল। মঙ্গলবার তাতে স্বস্তি যুক্ত হয়েছে। সোমবার ঠিকমত অনুশীলন করতে না পেরে ডানহাতি ওপেনার ডিন এলগার তো বলেই ফেলেছিলেন, ‘এটা খুবই হতাশাজনক। বিশেষ করে চট্টগ্রামে যা হয়েছে। এখন তো মনে হচ্ছে বৃষ্টি আমাদের অনুসরণ করছে। এখানেও বৃষ্টি হচ্ছে। এটা এমন একটি বিষয় যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। ক্রিকেটে যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়েই কথা হয়। কিন্তু এটা এমন একটা বিষয়, যাতে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কারোর হাতে।’ এরপরও খেলায় উন্নতির কথা ঠিকই বলেছেন এলগার, ‘আপাতত আমরা আমাদের খেলা উন্নতির চেষ্টা করব। তবে যেসব সুবিধা আছে তা কাজে লাগাব। ভাগ্য ভাল যে, চট্টগ্রামে আমরা কিছু সময় খেলতে পেরেছি। সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, কার কী করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৃষ্টির জন্য অনেক কিছু করতে পারছি না।’ খারাপ আবহাওয়ায় মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটছে বলেই জানিয়েছিলেন এলগার, ‘সবকিছুই নিজের উপর নির্ভর করে। অনেকটা সুইচ বন্ধ ও চালু করার মতো বিষয়। যখন খেলা থাকে না, তখন খেলা নিয়ে ভাবনাও না রাখা উচিত। খেলার বাইরে আমি খেলা নিয়ে ভাবি না। যখন অনুশীলন করি, কিংবা ম্যাচ খেলি, তখন আবার সুইচ অন করে দেই, মনোযোগ ফিরিয়ে আনি। আপাতত বৃষ্টির কারণে হতাশা ভর করছে। অনেক অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এখন এখানে বর্ষাকাল। এটা হতাশাজনক, সম্ভাব্য সেরা উপায়ে এ সময়টা কাটানোর উপায় বের করতে হবে।’

অবশ্য সবকিছুর উর্ধে ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চান এলগার, ‘আমরা চট্টগ্রামে আমাদের পরিকল্পনা ঠিকমতো প্রয়োগ করতে পারেনি। কিন্তু এখানে আমরা করতে চাই। ব্যাটিংই আমাদের প্রধান জায়গা। আমরা জানি, ভাল কিছুর জন্য এখানে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। প্রথম টেস্টে যা হয়েছে, তার জন্য কোন অজুহাত দেখাব না। আমরা ঢাকায় ঘুরে দাঁড়াব। আমাদের সে সম্ভাবনা এখনও আছে।’ এলগারের মতো সম্ভাবনা দেখছেন মরকেলও। যখন বৃষ্টি কেটে গিয়ে রোদ আসল, তখন যেন প্রোটিয়াদের মুখে হাসিও ফুটল। সেই হাসি নিয়েই বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে , ভাল ক্রিকেট খেলে ভাল ফলও আনতে চায়।

নির্বাচিত সংবাদ