২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মরিনহোর এক নম্বর মেসিই

  • স্পেশাল ওয়ান রোনাল্ডোর চেয়ে এগিয়ে রাখছেন হ্যাজার্ডকে, সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নেইমারের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালীন লিওনেল মেসির জ্বালা কম সইতে হয়নি জোশে মরিনহোর! প্রায়শই স্পেশাল ওয়ানকে মাটিতে নামিয়েছেন বার্সিলোনা তারকা। সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে থাকার সময় মেসিকে ঠিকই জর্জরিত করেছেন কথার বাণে। তবে সেগুলো যে নিছকই প্রতিপক্ষকে কাবু করার জন্য তা পর্তুগীজ কোচ নিজেও জানেন। কিন্তু তার মনের কথা যে ভিন্ন, সে কথা অনেকবারই বলেছেন রিয়াল ছাড়ার পর। আরও একবার তাই সাক্ষাতকারে মেসিকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন পর্তুগীজ লৌহমানব। বলেছেন, শ্রেষ্ঠত্বে মেসির আশপাশে কেউ নেই। আর সাবেক শিষ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন বর্তমান শিষ্য ইডেন হ্যাজার্ডকে।

২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনহো। ওই সময় রোনাল্ডো ও মরিনহো জুটিবদ্ধ ছিলেন গ্যালাক্টিকো শিবিরে। মরিনহো চলে আসার পর গত মৌসুমে কোন শিরোপার স্বাদ পাননি সি আর সেভেন। অন্যদিকে বেলজিয়াম উইঙ্গার ইডেন হ্যাজার্ড জিতেছেন গত মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা। শুধু তাই নয়, ইপিএলের সেরা ফুটবলারও হন তিনি। সাক্ষাতকারে এ প্রসঙ্গে বর্তমান চেলসি কোচ মরিনহো বলেন, এখন আর রোনাল্ডোকে শীর্ষ দুই ফুটবলারের মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। কারণ সে কোন শিরোপা নিয়ে নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে না। ‘ফ্যান্টাস্টিক’ রোনাল্ডোকে যেখানে শিরোপার স্বাদ ছাড়াই মাঠে নামতে হবে, সেখানে হ্যাজার্ড নামবেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় নিয়ে।

মেসি ও রোনাল্ডোর দ্বৈরথ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনহো বলেন, গতবার রিয়াল কী কোন শিরোপা জিতেছে? না, জেতেনি। ক্লাব পর্যায়ে শিরোপা ছাড়া কোন ফুটবলারকে বিচার করা ঠিক নয়। মেসি ট্রেবল জিতেছে। তিন তিনটি শিরোপার স্বাদ নিয়ে সে নতুন মৌসুম শুরু করবে। দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ আর কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলার দারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে সে বর্তমান ফুটবলে জড়িয়ে রয়েছে। একটি দারুণ মৌসুম শেষ করেছে মেসি এবং তার দল ও ক্লাব। শীর্ষ ফুটবলারের তালিকায় মেসির ধারে কাছে কেউ নেই বলে আমার মনে হয়। অন্যদিকে হ্যাজার্ডও কম যাননি। বেলজিয়াম তারকা গত মৌসুমে চেলসির হয়ে ৫২ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১৯টি। রিয়াল তারকা রোনাল্ডো ক্লাবের হয়ে ৫৪ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল। আর বার্সার আর্জেন্টাইন তারকা মেসি ৫৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫৮টি।

রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা বেশি হলেও জিততে পারেনিনি কোন ট্রফি। অন্যদিকে মেসি ও হ্যাজার্ড পেয়েছেন দারুণ সাফল্য। এ প্রসঙ্গে মরিনহো বলেন, রোনাল্ডো গত মৌসুমে দারুণ খেলেছে। সে দারুণ ফুটবলার ছিল গত মৌসুমে। রিয়ালের হয়ে অনেক গোল করেছে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত, রোনাল্ডো গত মৌসুমে যত ভালই খেলুক না কেন, সে তার দলকে শিরোপা পাইয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতি ফুটবলারকে মাথায় রাখতে হবে, এককভাবে ভাল খেললেও দল যদি তাতে কোন উপকার না পায়, তবে সেটি তার ব্যক্তিগত খেলায় বাজে প্রভাব ফেলবে। এসব দিক দিয়ে হ্যাজার্ড রোনাল্ডোর চেয়ে এগিয়ে। আর মেসির সঙ্গে তো কারও তুলনাই হয় না।

বার্সিলোনার আরেক তারকা নেইমার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। কাতালানদের হয়ে যেমন তিনি ছয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তেমনি জাতীয় দল ব্রাজিলের জার্সিতেও আরও সাফল্যের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আগামী বছর শতবর্ষপূর্তি কোপা আমেরিকা ও রিও ডি জেনিরোতে’তে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক আসরে খেলতে চান ব্রাজিল অধিনায়ক। এ কারণে বার্সিলোনার তারকা দেশের জার্সি গায়ে খেলার জন্য আগেভাগেই ক্লাবের কাছে ছুটির আবদার জানিয়েছেন। ২০১৬ সালের ৩ থেকে ২০ আগস্ট ব্রাজিলে বসবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক গেমস। রিও ডি জেনিরোতে ওই টুর্নামেন্টে খেলতে চান নেইমার। এছাড়া এর আগে ২০১৬ সালের ৩ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া কোপা আমেরিকার আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেও ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামতে চান তিনি। সাক্ষাতকারে লক্ষ্যের কথা জানিয়ে নেইমার বলেন, সত্যিই আমি কোপা আমেরিকা আর অলিম্পিক গেমসে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামতে চাই। আমি দেশের জার্সি গায়ে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। তবে ঝামেলা আছে একই সময় স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সায় লা লিগার ম্যাচ থাকায়। রাউন্ড ভিত্তিক এ লীগের ম্যাচ থাকবে আগস্টের শুরুর দিকে। যে কারণে অলিম্পিকের আসরে খেলতে ক্লাব থেকে অনুমতি নাও পেতে পারেন নেইমার। আর সে কারণেই আগে ভাগেই সেলেসাও তারকা ক্লাবকে ছুটির কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দেশের জার্সি গায়ে কোন ক্লাবের ফুটবলারকে অলিম্পিকে খেলাতে হলে অবশ্যই ক্লাব এবং দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এককভাবে কোন ক্লাব কিংবা কোন দেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। এর আগে ২০০৮ সালে এ নিয়মের ভিত্তিতে আর্জেন্টাইন বর্তমান অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে দেশের জার্সি গায়ে খেলার অনুমতি দিয়েছিল বার্সা। সেবার দেশের হয়ে স্বর্ণ জিতেছিলেন মেসি।