১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক গ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ শ্রাবণের অবিরাম বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে খুলনা এখন অনেকটাই দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চলসহ জেলার নয় উপজেলার ৫ শতাধিক গ্রাম জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। এ সকল গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির ঊঠানে হাঁটু পানি। কোন কোন স্থানে কোমর পানি জমেছে। ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বিল বাঁওড়, ফসলি ক্ষেত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে অসংখ্য চিংড়ি ও মাছের ঘের। পানিতে ডুবে থাকায় শত শত হেক্টর জমির রোপা আমন ধানের বীজতলার চারা নষ্ট হয়েছে। বহু সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জেলার সকল নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতে পানির চাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়াসহ উপকূলীয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বেড়িবাঁধ।

পাইকগাছা উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। অনেক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হাঁটু পানিতে ডুবে আছে। ফসলের ক্ষেত, চিংড়ি ও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দাকোপ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি এখন পানিতে সয়লাব। এই উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার রয়েছে। এতে ৬৩টি সøুইজগেট থাকলেও তার প্রায় সবগুলোই অকেজো। পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় এই তিনটি পোল্ডারের অভ্যন্তরের অর্ধশতাধিক বিলে এখন পানি থৈ থৈ করছে। ৩২ নম্বর পোল্ডারের কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নের ২০টি বিলের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

মহেশখালী-চকরিয়া সড়ক বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশখালী থেকে জানান, একটানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে মহেশখালী উপজেলার প্রধান দু’টি সড়ক শাপলাপুর-জনতা বাজার ও গোরকঘাটা-বদরখালী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় তিনদিন ধরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ উপজেলা সদরে আসতে না পারায় একদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে অপরদিকে, লক্ষ লক্ষ টাকার পান ও চিংড়িমাছ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরাসরি গাড়ি যোগাযোগ বন্ধ থাকার ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাইকারী ব্যবসায়ী ও কাঁচামালের আড়তদাররা চট্রগ্রাম ও ঢাকা থেকে মালামাল আনতে না পারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ