২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রহ্মপুত্র তীর প্রতিরক্ষা কাজে অনিয়ম

রাজুমোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদাররা সিডিউল বহির্ভূতভাবে জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে বরাদ্দকৃত টাকা তাদের পকেটস্থ করছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় সিডিউল মোতাবেক জিও ব্যাগে বালুভর্তি না করে ভিডি বালু ও উপরের মাটি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর স্রোতে ব্যাগের ভেতরে ভর্তিকৃত মাটি ধুয়ে খালি ব্যাগগুলো ভেসে উঠবে। ফলে সরকারী এই উদ্যোগ কোন উপকারে না এসে বরং ২২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রমনা ইউনিয়নে দুই কিলোমিটার কাজের মধ্যে ৮২৫ মিটার এলাকার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি এক হাজার ১৭৫ মিটার এলাকার পিচিং কাজের টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারকৃত এলাকায় নদী ভাঙ্গনকে সাময়িক বন্ধ করার জন্য বালুভর্তি জিও ব্যাগ এবং পরবর্তী অংশ ইতোপূর্বে করা পিচিং হতে জোড়গাছ বাজার পর্যন্ত প্রস্তাবকৃত এক হাজার ৮০ মিটার এলাকার মধ্যে সাত শ’ মিটার এলাকার নদী ভাঙ্গন সাময়িক বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য জরুরীভিত্তিতে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।

এসব এলাকায় প্রতি ৪৫ মিটার এলাকা হিসেবে মোট ১৫টি সাইডে বিভিন্ন ঠিকাদার সিডিউল বহির্ভূতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাপারীপাড়া ও মাস্টারপাড়া এলাকার ঠিকাদার সাইদুর রহমানের সাইডসহ বিভিন্ন ঠিকাদারের সাইডে বালুর পরিবর্তে ভিডি বালু ও মাটি দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করে নদীতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হবিবর রহমানসহ, জনি আহামেদ, আব্দুল মজিদ, শ্রী জয়, নরেশ জানান, জরুরীভিত্তিতে কাজের জন্য জিও ব্যাগে বালুভর্তি না করে ভিডি বালু দেয়ায় এগুলো কোন উপকারে আসবে না। অল্প দিনের মধ্যে বস্তার ভিডি বালু ক্ষয়ে গিয়ে আবারও ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে।

এ সময় পাউবোর ওয়ার্ক এসিসট্যান্ট পরেশ চন্দ্রের কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্য নিতে হলে অফিসে যোগাযোগ করেন।

এ ব্যাপারে পাউবোর এসডিই মোখলেছুর রহমানের কাছে জিও ব্যাগে বালুর পরিবর্তে ভিডি বালুভর্তির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলাম মোল্লা জানান, পাউবোর লোকজন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কোন সমন্বয় করে না। এমনকি কোন ব্যাপারে তারা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার প্রয়োজনও বোধ করে না।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নির্বাচিত সংবাদ