২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়ায় গলায় মুরগি ঝুলিয়ে বিক্রি

সমুদ্র হক বগুড়া অফিস ॥ অস্তিত্বের লড়াইয়ে মানুষকে কতভাবেই না জীবিকার পথ খুঁজে নিতে হয়। বর্তমানে শহরাঞ্চলের প্রধান সড়কগুলোর ধারে ও ফুটপাথে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসে গ্রাম থেকে আসা ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা। কেউ পাড়া মহল্লায় ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করে নিত্যপণ্য। এর মধ্যেই বগুড়া শহরে দেখা গেল গলায় ৬০/৭০টি মুরগি মালার মতো করে ঝুলিয়ে ফেরি করছে। পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কোন মুরগির টুঁটি সামান্য চেপে শব্দ করাচ্ছে। তা ছাড়া মুরগির স্বভাবতো আছেই একসঙ্গে থাকলে চিউ চিউ করে চেঁচামেচি করা। পথচারী ও পথের ধারের দোকানিরা এমন অভিনব দৃশ্য দেখে মুরগি দরদাম করে। কেউ যদি কেজি দরে কিনতে চায় সে ব্যবস্থাও আছে। বহনযোগ্য ব্যাটারিতে চালিত ডিজিটাল স্কেল ছোট ব্যাগে থাকে। তবে ওজনের চেয়ে সাইজ অনুযায়ী প্রতিটি অথবা জোড়া মুরগি দরদামে কেনা হয়। গাবতলীর রামেশ্বরপুর গ্রামের রবিউল ছোট ও মাঝারি সাইজের ৬৯টি মুরগির মালা গলায় পরে শহরে এনেছিল। প্রতিটি গড়ে আধাকেজি করে ওজনের মোট প্রায় ৩৫ কেজি মুরগি বহন করে সাইকেলে চেপে সে আসে শহরে। জানাল কোন মুরগি একশ’ কোনটি দেড়শ’/দু’শ টাকার বিক্রি করে। বাজারে বর্তমানে এই ধরনের পাকিস্তানী জাত হিসাবে পরিচিত মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২শ’ ২০ টাকা থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। সেই হিসেবে রবিউলের মালায় পরা মুরগি অনেকটা সস্তা। ছোট মুরগির ওজন ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম। মাঝারি মুরগি ৫শ’ গ্রাম থেকে উর্ধে এক কেজি পর্যন্ত আছে। মুরগির মালা পরে বেচতে অসুবিধা হয় কি না জানতে চাইলে সে বলে- তা তো হয়ই। মুরগির বিষ্ঠা জামায় ও শরীরে পড়ে। এক ধরনের গন্ধ ছড়ায়। মুরগির মাথা নিচু করা থাকে। বেশিক্ষণ থাকলে মুরগি নড়েচড়ে লাফ দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে কখনও ঠোকর দেয়। এ সময় শরীরে ব্যালান্স রাখা একটু কঠিন হয়। ব্যবসায় নেমে এসব তো সহ্য করতেই হয়, তা না হলে দুটো পয়সা আসবে কোত্থেকে!-উত্তর দেয় রবিউল। কখনও দুপুর কখনও বিকেলের মধ্যে বেচা শেষ হয়ে যায়। হাট থেকে পাইকারি দরে কিনে শহরে খুচরা বিক্রি করে। প্রতিদিন একই হারে বিক্রি হয় না। কোনদিন মুরগির মালায় না পরে ঘর থেকে বের হয় না। তারপরও খরচ বাদ দিয়ে মাসে অন্তত হাজার বিশেক টাকা থাকে। আগে যখন খাঁচায় ভরে বিক্রি করত তখন এত বেচা হতো না। মুরগি গলায় পরে বিক্রি বেড়েছে। অনেকে হাতের কাছে ঘরের দুয়ারে সস্তায় পায় বলে কেনে। কেউ ‘সিমপ্যাথি’ জানিয়ে কেনে। মুরগি কেউ জবেহ করে ও ছিলে চাইলে তাও করে দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। জবেহ ও ছেলা প্রতি মুরগি তিন টাকা করে নেয় এমন একজন সঙ্গী রেখেছে। রবিউল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছে। আর এগোতে পারেনি। সংসারের হাল ধরতে সে অভিনব এই পথ বেছে নিয়েছে। অস্তিত্বের লড়াইয়ে সে টিকে আছে। কিছুটা পুঁজি করে নিয়ে সে গলায় মুরগির মালা খাঁচায় ভরে প্রসার ঘটাবে, এমনটাই জানাল।