২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুরিয়েই গেলেন ফেদেরার?

  • জিএম. মোস্তফা

দেড় দশক ধরেই টেনিস কোর্টে এককভাবে রাজত্ব করেছেন রজার ফেদেরার। অসাধারণ পারফরমেন্স উপহার দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু বর্তমান সময়টা মোটেই ভাল কাটছে না তার। তিন বছর আগে সর্বশেষ কোন গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন সুইস টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। তাই অনেক টেনিসবোদ্ধাই মনে করছেন ফুরিয়েই গেছেন রজার ফেদেরার!

তবে শিরোপা-খরা ঘুচানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ফেড এক্সপ্রেস। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। মৌসুমের তৃতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট উইম্বলডনের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারও তার সঙ্গী হলো হতাশা। গত বছর পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে রজার ফেদেরারকে হারিয়ে উইম্বলডনের শিরোপা জিতেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। এবারের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই টেনিস-তারকা। এবারও জোকোভিচ চ্যাম্পিয়ন। এবারের ফাইনাল অবশ্য পাঁচ সেটে গড়ায়নি। তবে লড়াই হয়েছে প্রায় তিন ঘণ্টা। আর শেষ পর্যন্ত বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বার খেলোয়াড় জোকোভিচ ৭-৬, ৬-৭, ৬-৪ এবং ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন ফেদেরারকে। যে কারণে ১৭টি গ্র্যান্ডসøামের মালিক ফেদেরার আরেকটি রেকর্ড গড়তে ব্যর্থ হলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাজ্যের উইলিয়াম রেনশ আর আধুনিক টেনিসের অন্যতম সেরা মার্কিন কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসের মতো ফেদেরারকেও সাতটি উইম্বলডন শিরোপা নিয়ে আপাতত সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। তবে জোকোভিচ ঠিকই নিজের জাত চেনালেন। সার্বিয়ান তারকার এটা নবম গ্র্যান্ডসøাম জয়। সেইসঙ্গে আন্দ্রে আগাসি, জিমি কোনর্স ও ইভান লেন্ডলের মতো তিন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি। তিনজনেরই গ্র্যান্ডসøাম শিরোপার সংখ্যা আটটি। কোচ বরিস বেকারেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন সার্বিয়ার জোকোভিচ। বেকারের মতো তাঁরও এখন তিনটি উইম্বলডন শিরোপা।

গত তিন বছর ধরেই মেজর শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়া ফেদেরারের স্বপ্ন ছিল আসরের অষ্টম এবং ১৮তম গ্র্যান্ডসøাম জিতবেন। ছাড়িয়ে যাবেন কিংবদন্তি পিট সাম্প্রাসকে। কিন্তু স্বপ্নটা স্বপ্নই রয়ে গেল টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকার। তবে ফাইনালে ফেদেরারকে হারালেও জোকোভিচ কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রশংসায় মাতেন। সময় হলে এখনও জ্বলে উঠতে প্রস্তুত ফেড এক্সপ্রেস। এ বিষয়ে তার মন্তব্য হলো, ‘আমি জানতাম রজার যেভাবে সবসময় খেলে ঠিক সেভাবেই খেলবে; নিজের সেরাটা দেবে ওর বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। আমি আগেও বলেছি এবারও বলতে চাই, রজারের বিপক্ষে খেলা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমার প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড়ই তাকে দেখে এবং তার আধিপত্য দেখে দেখেই বড় হয়েছে।’ কিন্তু এটা ঠিক যে উইম্বলডনে সেই আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে পারেননি ফেদেরার। এর পেছনে প্রথম সেটে টাইব্রেকে হেরে যাওয়াটাকেই বড় করে দেখছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ফেদেরার বলেন, ‘নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে প্রথম সেটে আমার সুযোগ ছিল। আমি ভাগ্যবান ছিলাম তাই দ্বিতীয় সেট জিততে পেরেছি। তৃতীয় সেটেও সুযোগ ছিল। কিন্তু সে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আরও ভাল পারফর্ম করে। সে ছিল পাথরের মতো সলিড। আমি খারাপ খেলিনি, তবে ওই কারণেই পারিনি।’

আসছে আগস্টেই ৩৪ বছর পূর্ণ করবেন রজার ফেদেরার। একজন টেনিস খেলোয়াড়ের জন্য বয়সটা একটু বেশিই। তবে এ বয়সেও সুইস তারকার খেলায় মুগ্ধ ২৮ বছর বয়সী জোকোভিচ। এ বিষয়ে ফেদেরারের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি, ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, রজারের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড় তাঁর খেলা অনুসরণ করেছে।’ অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ফাইনালে ফেদেরারকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের নবম শিরোপা জিতলেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই। শুধু তাই নয়। এই জয়ের ফলে ফেদেরারের সঙ্গে জোকোভিচের মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলটাও এখন সমান-সমান। মোট ৪০ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০ বার করে জিতেছেন দুজনই। ক্যারিয়ারের নবম গ্র্যান্ডসøাম ও তৃতীয় উইম্বলডন জিতে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত সার্বিয়ান টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ। ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হওয়া জোকারের সাফল্যের রহস্য তার পারিবারিক জীবনের সুখ ও সমৃদ্ধি। খোদ জোকোভিচই জানালেন সেই রহস্যের মজার গল্প। এ বিষয়ে টেনিস কোর্টে দারুণ সময় কাটানো জোকোভিচ বলেন, ‘আমি বাবা হওয়ার পর একটা ম্যাচও হারিনি। বিয়ের পর প্রচুর টুর্নামেন্টও জিতেছি। তাই আমার অবিবাহিত খেলোয়াড় বন্ধুদের বলব তারাও যেন বিয়েটা করে নেয়। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে থাকার তৃপ্তিই আলাদা। খেলা শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর আমি আর টেনিস খেলোয়াড় নই। আমি স্টিফ্যানের বাবা ও জেলেনার স্বামী। পুরোপুরি সাংসারিক একজন মানুষ।’ উইম্বলডন জেতার পরই কোর্ট থেকে ঘাস ছিঁড়ে খান জোকার। ঘাসের কোর্টে সাফল্য চেখে দেখতেই পছন্দ করেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফেদেরারকে হারানোর পরই কোর্ট থেকে ঘাস তুলে খেয়ে দেখলেন। ঘাস খাওয়ার কারণ কী? জোকার বলেন, ‘এটার স্বাদ দারুণ। এবারেরটা আরও ভাল। মাঠকর্মীরা বেশ ভাল কাজ করেছে। আমার কাছে ঘাস খাওয়া ব্যাপারটা ট্র্যাডিশনের মতো হয়ে গেছে। ছোট থেকেই উইম্বলডন জেতার স্বপ্ন দেখতাম। ছোটবেলার পাগলামিটা এখনও রয়ে গিয়েছে। তাই সাফল্য পেলে এভাবেই উদযাপন করতে ভালবাসি আমি।’

ফেদেরারের মতো উইম্বলডনের শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলেন গারবিন মুগুরুজাও। আরও সহজ করে বললে পারলেন না বিশ্বের এক নাম্বার টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে। ৩৩ বছর বয়সী সেরেনা ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে মুগুরুজাকে হারিয়ে জিতে নেন উইম্বলডন টেনিসের শিরোপা। আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের এটা ষষ্ঠ উইম্বলডনের শিরোপা এবং ২১ নম্বর গ্র্যান্ডসøাম। তার চেয়ে এখন কেবল এগিয়ে রয়েছেন জার্মানির স্টেফি গ্রাফ (২২) ও মার্গারেটা কোর্ট (২৪)। আগামী সেপ্টেম্বরে ৩৪ বছরে পা দেবেন সেরেনা। এ বছর তিনি উইম্বলডন, ফ্রেঞ্চ ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন।