১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রেম-বিরহে শারাপোভা

  • মাহমুদা সুবর্ণা

টেনিস কোর্টে দুর্দান্ত মারিয়া শারাপোভা। তবে কোর্টের পারফর্মেন্সের চেয়ে তার রূপ নিয়েই যেন বেশি আগ্রহ ভক্ত-অনুরাগীদের। অনেকেই টেনিস ইতিহাসের সবচেয়ে ‘সুন্দরী’ তারকা বলে অভিহিত করেছেন তাকে। তবে রূপের সঙ্গে তার গুণটাও কম নয়। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচটি গ্র্যান্ড সøাম শিরোপা জিতেছেন তিনি। সেরেনা উইলিয়ামসের মতো টেনিস তারকাকে ছাপিয়ে নারী টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে আয় তার বেশি। তবে শিরোপা আর অর্থের সঙ্গে প্রেমিক বদলানোর সংখ্যাটাও নেহাত কম নয় রাশিয়ান গ্ল্যামারগার্ল মারিয়া শারাপোভার। এই তালিকার সর্বশেষ প্রেমিক গ্রিগর দিমিত্রোভ। যার সঙ্গে সদ্যই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল তার। দু’বছর একই ছাদের নিচে থাকার পর অবেশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন বিচ্ছেদের। মাশা তার জীবনে বেশ কয়েকজনের সঙ্গেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু কারও সঙ্গেই তার সম্পর্ক তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবে সব প্রেমিকই সম্পর্ক ভাঙ্গার পর বদনাম করেছেন মাশার। প্রায় সবার একই কথা, ‘প্রেমিকা হিসেবে শারাপোভা তেমন নয়।’ কিন্তু তাতে কী এসব অভিযোগ নতুন প্রেমে ভাসতে মোটেও কখনও মাশাকে পিছিয়ে রাখতে পারেনি। গায়ক, প্রযোজক থেকে শুরু করে সতীর্থ টেনিস খেলোয়াড়ও আছে তার প্রেমিকের তালিকায়।

শারাপোভার বয়স যখন মাত্র ১৭ বছর। ঠিক তখনই গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট জিতে পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন। ২০০৪ সালে উইম্বলডনের শিরোপা জেতা শারাপোভা তার পরের বছরই প্রকাশ্যে প্রেমে পড়েন। অষ্টাদশী মারিয়া প্রথম সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এ্যাডাম লেভিনের সঙ্গে। বয়সে আট বছরের বড় লেভিনে ‘মারন ফাইভ’ নামের এক রক ব্যান্ডের গায়ক। লেভিনে তখন বেশ প্রতিষ্ঠিত। শারাপোভার খ্যাতিও বিশ্বজুড়ে। কিন্তু এই রুশ সুন্দরীর সঙ্গে বেশিদিন তাল মিলিয়ে চলতে পারলেন না লেভিনে। যে কারণে কয়েক মাস পরেই বিচ্ছেদ! ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর প্রকাশ্যে আসা প্রথম প্রেমিকের মন্তব্য ছিল, ‘প্রেমিকা হিসেবে সে আমাকে খুবই হতাশ করেছে।’ তবে সেই বিচ্ছেদের পর শারাপোভাকে খুব বেশিদিন নিঃসঙ্গ থাকতে হয়নি। ২০০৫ সালে তার নতুন করে সম্পর্ক তৈরি হয় টেনিস তারকা এ্যান্ডি রডিকের সঙ্গে। দু’জনই তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের শিরোপা জেতেন রডিক। আর শারাপোভা কোর্টের ভেতরের মতো কোর্টের বাইরেও ‘সাফল্য’ দেখাতে থাকেন। রডিক-মাশার প্রেমকাহিনী তখন টেনিস মহলের নিত্যÑআলোচিত বিষয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই টেনিস যুগলের হাত ধরাধরি করে হাঁটার দৃশ্য তখন নিয়মিতই ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ত। কিন্তু কী হলো? সম্পর্ক টিকল মাত্র এক বছর। তাদের সম্পর্কের বয়স যখন মাত্র ১২ মাস তখনই দু’জনের মুখদর্শন বন্ধ! বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি দু’জনের কেউ।

রহস্যজনক সেই বিচ্ছেদের পর প্রায় দুই বছর বিরতি দেন মাশা। কারও সঙ্গে নতুন কোন সম্পর্কে জড়াননি তিনি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? স্বরূপে ফিরলেন শারাপোভা। নতুন করে সম্পর্কে জড়ালেন আমেরিকার চলচ্চিত্র প্রয়োজক চার্লি এবেরসোলের সঙ্গে। তার সঙ্গে সম্পর্ক মানেই ছিল ‘ঘনিষ্ঠতা’র খবর। অন্য যে কারও চেয়ে এবেরসোলের সঙ্গে মাশার ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসে বেশি। কিন্তু সেই সম্পর্কের বয়সও পরিপক্বতা পায়নি। গায়ক, টেনিস সতীর্থ ও প্রযোজক পর্বের শেষে শারাপোভা সম্পর্ক গড়েন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের সঙ্গে। ২০০৯ সালে আবির্ভাব হয় সাশা ভুয়াচিচের। সেøাভেনিয়ার এই পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের সম্পর্কটা বেশ দূর এগিয়েছিল। ২০১০ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাশা-সাশার বাগদানের খবর প্রকাশ্যে আসে। অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার হয়ত শারাপোভা গাঁটছড়া বাঁধলেন। শুধু তাই নয়, শারাপোভা সন্তান সম্ভবা হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। কিন্তু এতদূর এগোনোর পরও সেই সম্পর্ক ধরে রাখতে পারেননি তারা। দু‘জনের ভিন্ন পেশাদারিত্বের চাপে ২০১২ সালেই সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে! মাত্র ৬ মাসের ব্যবধান। ২০১৩ সালে আবারও টেনিস খেলোয়াড় তার প্রেমের জালে আটকায়। এবার শিকার বুলগেরিয়ার প্রতিভাবান টেনিস তারকা গ্রিগর দিমিত্রোভ। টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের মতো চেহারা ও শটের কারণে অনেকে তাকে ‘ছোট ফেদেরার’ বলে থাকেন। আড়াই বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে একই ছাদের নিচে থাকলেন তারা। কিন্তু সেই সম্পর্কও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হলো না। এবার অবশ্য ছাড়াছাড়ির ঘোষণা দিছেয়েন দিমিত্রোভ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ এখন আলাদা। আমরা একসঙ্গে অনেক সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছি। জীবন আর টেনিসেও তার (শারাপোভার) সুখ ও সাফল্য কামনা করছি।’ গত কয়েক মাস ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে দু’জনের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে হৈচৈ। র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৬ নাম্বারে থাকা দিমিত্রোভ অবশ্য এ নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলেননি। বরং সম্পর্কচ্ছেদকে দেখছেন নতুন পথচলা হিসেবে, ‘আমি এখন পুরোপুরি খেলায় মনোযোগ দিতে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব শিগগিরি তার সুফলও পাওয়া যাবে। এটা আমার জীবনের এক নতুন সুচনা।’ প্রায় সাত বছর আগে শুরু করলেও দিমিত্রোভের পেশাদার ক্যারিয়ার তেমন বিকশিত হতে পারেনি। গত বছর উইম্বলডনের সেমিফাইনালে উঠার সৌজন্যে ৮ নাম্বার হওয়াই তার র‌্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ উত্তরণ। দিমিত্রোভের চেয়ে চার বছরের বড় শারাপোভারও সাম্প্রতিক সময়ে তেমন সাফল্য নেই। পাঁচটি গ্র্যান্ড সøাম বিজয়ী এ টেনিস তারকা চলতি বছর মাত্র একটাই শিরোপা জিতেছেন, ইতালিয়ান ওপেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেও হেরে যান সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে। রাশিয়ান টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা আর বুলগেলিয়ার গ্রিগর দিমিত্রোভ এখন নিঃসঙ্গ-একাকী। দিমিত্রোভকে নিয়ে কোন কথা বলাটা কঠিন ব্যাপার। তবে শারপোভা কতদিন একাকী থাকবেন ভক্ত-অনুরাগীদের সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।