২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব ফুটবলের নতুন বস প্লাতিনি!

  • অতশী রহমান

সেপ ব্লাটার যুগের অবসান হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) নতুন সভাপতির অপেক্ষায়। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বর্তমান উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। ফরাসী এই কিংবদন্তি আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশেষ ফিফা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফিফার সভাপতি পদে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দফতরে এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মে মাসে টানা পঞ্চমবারের মতো ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন সেপ ব্লাটার। কিন্তু পুনঃনির্বাচিত হওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় গত ২ জুন চাপের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি। মূলত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের কারণেই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন ব্লাটার। এরপর থেকেই আলোচনায় ছিল ফিফার পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে।

ব্লাটারের পদত্যাগ নিয়ে ইতোমধ্যে চাউর হয়েছে অনেক ধরনের কথা। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করেছে ফিফা। এই নির্বাচনকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে স্পেশাল হিসেবে। সোমবার কার্যনির্বাহী কমিটির আলোচনার পরই দিন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে জানা যায়, উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনিসহ পাঁচটি আঞ্চলিক কনফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু শোনা যায়নি। এই আলোচনার পর ব্লাটার তো নয়ই, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ইসা হায়াতু, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহীম আল খলিফা, কনকাকাফ অঞ্চরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান আলফ্রেডো হায়িত, দক্ষিণ আমেরিকান হুয়ান অ্যাঞ্জেল নাপুত ও ওসেনিয়ার ডেভিড চুং এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি। আঞ্চলিক সংস্থা থেকে এখনও কোন প্রার্থীর নাম পাওয়া যায়নি। তবে ফরাসী ফুটবল কিংবদন্তি প্লাতিনিকে এই পদের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফিফায় এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা। দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংস্থাটিতে চলছে অরাজক অবস্থা। পুনঃনির্বাচিত হওয়ার পরও ব্লাটার পদত্যাগ করেছেন। এরপর শোনা যায়, পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে পারেন তিনি। পাশাপাশি পরবর্তী সভাপতি কে হতে পারেন সেটা নিয়েও চলছে গুঞ্জন। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর সবকিছু খোলাসা হয়েছে। ব্লাটার জানিয়েছে, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। আর প্লাতিনির নির্বাচন করা অনেকটাই নিশ্চিত। যে কারণে প্লাতিনিই ফিফার হবু বস বলে মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। ব্লাটার তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে ফের স্বপদে বহাল থাকার ঘোষণা দিতে পারেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছিল সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকা। ব্লাটারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ‘স্কেউইজ এ্যাম সানটাগ’ পত্রিকা জানায়, আফ্রিকা ও এশিয়ান ফুটবল সংগঠনগুলোর কাছ থেকে স্বপদে বহাল থাকার জন্য অনুরোধ পেয়েছেন ব্লাটার। আফ্রিকা ও এশিয়ার সমর্থন পেয়ে ব্লাটার নিজেকে গর্বিত মনে করছেন এবং তাদের অনুরোধ রাখার বিষয়টি নাকচ করে দেননি। জুন মাসের শুরুতে ফিফার সাবেক পরামর্শক মাইকেল হার্শম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ব্লাটার শেষ পর্যন্ত থেকেও যেতে পারেন। কিছুদিন আগে ফিফার গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক ওয়াল্টার ডি গ্রিগরিও পদত্যাগ করেছেন। সুইস পত্রিকাটির দাবি, ডি গ্রিগরিও চেয়েছিলেন ফিফায় পুরোপুরিই নতুন একটা সূচনা হোক এবং ব্লাটার যত দ্রুত সম্ভব পদ ছেড়ে দিন। সেটি নিয়েই মতবিরোধের জের ধরে ফিফাতে নেই ডি গ্রিগরিও।

তবে ফিফার নিরীক্ষা কমিটির পধান ডমিনিক স্কালা এসব গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নতুন সভাপতি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করছেন স্কালা। তাঁর মতে, ফিফা পুনর্গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ব্লাটারের পদত্যাগ। গত ২ জুন বিশ্ব ফুটবল থেকে ব্লাটার যুগের অবসান হয়। আকস্মিকভাবে ফিফা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু সত্যিই কি ব্লাটারের শাসনামল শেষ হয়েছে? এমন প্রশ্ন এখন সবার কাছে। তবে বাস্তবিক দিক দিয়ে এখনও ফিফা প্রধান পদে বহাল আছেন সুইস এই ফুটবল বোদ্ধা। নতুন সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ফিফা প্রধানের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ব্লাটার। আর সেটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কেননা এর আগে বিশেষ কংগ্রেসের মাধ্যমে নতুন সভাপতি হচ্ছে না।

ব্লাটার মসনদ ছাড়লেও ফিফার নিয়মানুযায়ী নতুন কংগ্রেস না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। ফিফার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী সভাপতি না হওয়া পর্যন্ত ব্লাটারই ফিফার সভাপতি থাকছেন। ফিফার ওই মুখপাত্র বলেছেন, সবকিছু আগের মতোই চলছে। যতক্ষণ নির্বাচনের মাধ্যমে তার (ব্লাটার) উত্তরসূরি না আসেন, ততদিন তিনিই ফিফা সভাপতি। রেকর্ড টানা পঞ্চমবার ফিফা সভাপতি হওয়ার মাত্র চারদিনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্লাটার। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সবাই সমর্থন না করায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুন সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে এখন শীর্ষ নাম মিশেল প্লাতিনি। ফরাসী গ্রেট ছাড়াও নাম শোনা যাচ্ছে জর্দানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জিকো, এমনকি আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনার। ফিফার ১১১ বছরের ইতিহাসে ব্লাটার হচ্ছেন সংস্থাটির অষ্টম সভাপতি। তাঁর আগে আরও সাতজন এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আটজনের মধ্যে মাত্র তিনজন গত ৫৪ বছরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্লাটারের ১৭ বছরের রাজত্বকালের চেয়েও দীর্ঘ ছিল ব্রাজিলীয় সভাপতি জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের দায়িত্বকাল। হ্যাভেলাঞ্জ ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফিফা প্রধান ছিলেন। হ্যাভেলাঞ্জের পর ১৯৯৮ সালে ফিফার অষ্টম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব হাতে নেন ব্লাটার। কিন্তু তার বিদায়টা হলো বিতর্কের মধ্য দিয়ে। এই মুহূর্তে ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্লাতিনির নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ফরাসী এই কিংবদন্তি ফুটবলার উয়েফার সভাপতি পদে অনেক দিন ধরেই সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্লাতিনির সঙ্গে আলোচনায় আছেন ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট জিকোর নাম। ব্লাটার পদত্যাগ করার পরপরই তিনি সভাপতি পদে লড়াই করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনটি বিশ্বকাপ খেলা এই কিংবদন্তি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন নিজ দেশ ব্রাজিলেও।

প্লাতিনি ও জিকোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি নাম শোনা যাচ্ছে। এই মিছিলে আছেন এবারের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ব্লাটারের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জর্দানের প্রিন্স আলী। আছে দুই ফরাসী জেরোমে শ্যাম্পেইন ও জেরোমে ভালকের নামও। এছাড়া জার্মানির উলফগ্যাং নিয়েরশব্যাচ ও ইতালির ডোমেনিকো স্কালাও লড়াই করতে পারেন ফিফার নতুন সভাপতি পদে। তবে সবচেয়ে আলোচিত নাম দিয়াগো ম্যারাডোনা। ব্লাটারর ঘোরবিরোধী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিও ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে চাউর আছে।

এই মাত্রা পাওয়া