২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকার ফাঁসি বহাল

অনলাইন রিপোর্টার॥ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়েও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা বহাল রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর।

বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।

এই বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ওঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তারছেলেকে অপহরণ করে খুনের চার অভিযোগে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এক বছর নয় মাস পর আপিলের রায়ে ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগের সবগুলোতেই সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ২০ বছরের কারাদণ্ডও বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। তবে ৭ নম্বর অভিযোগে ২০ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়েছে ১৭ ও ১৮ নম্বর অভিযোগেও।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এই রায়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

অন্যদিকে আসামির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পেলে রিভিউ আবেদন করা হবে।

সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী চূড়ান্ত রায়ের প্রক্রিয়ায় জানান, তার বাবা নির্দোষ ব্যক্তি। বিষয়টা একদিন না একদিন প্রমাণিত হবে এটা তাদের প্রত্যাশা।

জীবনভর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কারণে বিতর্কিত সাকা চৌধুরীই প্রথম বিএনপি নেতা, যাকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলতে হচ্ছে। তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা দ্বিতীয় ব্যক্তি, এই অপরাধে চূড়ান্ত রায়েও যার সর্বোচ্চ সাজার রায় হল।

মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের (ফকা) চৌধুরীর ছেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী যে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হিন্দু ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক নিধন এবং নির্যাতন শিবির চালিয়েছিলেন, এ মামলার বিচারে তা উঠে আসে।

২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে সাকা চৌধুরী হলেন পঞ্চম ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হল।

পাঁচবছর আগে বিজয় দিবসের ভোরে তখনকার সংসদ সদস্য সাকা চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বুধবার যখন আপিলের রায় হল, তখন তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।

নির্বাচিত সংবাদ