২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দরিদ্রতার কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুরা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শিশুদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। এছাড়াও অন্যান্য কারণ হলো- শিশুদের মায়েদের শিক্ষাস্তর এবং সার্বিক শিক্ষাসহ একীভূত শিক্ষার পরিবেশ।

বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও এক বিদ্যালয়ে শিশুদের গরহাজির সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের রাশেদা কে চৌধুরী, ডিএফআইডি বাংলাদেশের প্রতিনিধি সারা কুক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বিগবেদার এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এস মুর্শিদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সব জেলাতেই বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু আছে। তবে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আছে বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, ভোলা, নেত্রকোনা এবং কক্সবাজারে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আছে ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, ফেনী এবং যশোর জেলায়। প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক বৈষম্য রয়েছে।

শ্রমে নিয়োজিত শিশুরা সাধারণত কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাতে কাজ করে থাকে। শ্রমে নিযুক্ত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুর মধ্যে সেবা ও কৃষি খাতে নিয়োজিতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর তা যথাক্রমে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার এবং ৩ লক্ষ ৯০ হাজার। শিল্প খাতে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২ হাজার, যা সেবা খাতে নিয়োজিতদের প্রায় অর্ধেক। সংখ্যার দিক দিয়ে সব খাতেই মেয়ে শিশু শ্রমিকের তুলনায় ছেলের সংখ্যা বেশি।

ইউনিসেফের তথ্যে আরও জানানো হয়, বাল্যবিবাহের ঘটনা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী মহিলাদের অর্ধেকেরও বেশি ১৮তম জন্মদিনের আগেই বিবাহিত এবং প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগে (ইউনিসেফ, এমআইসিএস ২০১৩)।

গবেষণা ও উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার কিছুটা নিম্নগামী। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বন্ধের উদ্দেশ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শক্ত একটি আইনি কাঠামো, উপযুক্ত নীতি বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা ও জনসমর্থন নিশ্চিত করার এটাই উপযুক্ত সময়।