১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জনকণ্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদককে আদালতে তলব

স্টাফ রিপোর্টার॥ ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠে ১৬ জুলাই একটি নিবন্ধ প্রকাশ করার প্রেক্ষিতে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক-প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে স্বতঃপ্রণোদিত রুল মোতাবেক নোটিস ইস্যু করেছেন আপীল বিভাগ। ৩ আগস্ট সকাল ৯টায় তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ প্রদান করেছেন।

আদালত বলেন, নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আদালতের গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। তাই তার কাছে বিনীত প্রশ্ন ১৪৩ জনকে পুড়িয়ে মারার অন্যতম হুকুমের আসামি কিভাবে চিকিৎসার জন্য জামিন পায়। জমির আল নিয়ে লাঠি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে হাজার হাজার দরিদ্র আসামি যেখানে বছরের পর বছর জেলে আটকা। সেখানে রাজনীতির নামে প্রকাশ্যে এই ১৪৩ জনকে খুন করার পরেও সে জামিন পাবে। এইকি বিচারের ন্যায়দ-। বিচারকরা নিশ্চয়ই জানেন, কেন তারা পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে এভাবে নৃশংস হত্যাকা- চালাচ্ছে। বাস্তবে এটা আইএসের পদ্ধতি। আইএস সবখানে এভাবে ভয়াবহ নৃশংসতা সুষ্টি করে দেশের মানুষকে পাজলড করে দিতে চায়। যাতে কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে না আসে। ফখরুলের জামিনের ভেতর দিয়ে বিচারকরা কি বাংলাদেশকে আইএসের পথে অগ্রসর হওয়ার সুবিধা করে দিলেন না? এ সব ঘটে কি ফখরুলের টাকা আছে বলে আর যারা জমির আল নিয়ে মাথা ফাটায় ওদের টাকা নেই বলে?

এখানেই শেষ। ৭১-এর অন্যতম নৃশংস খুনী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালীর রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপীল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তা হলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে? আইএসআই ও উলফার পথে, না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদের কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাত দেয়? বিচারকের এথিকসে পড়ে? কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিশেষ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। সে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত বিএনপির আর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। কি ঘটেছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডনে।

এ মন্তব্যগুলো শুধুমাত্র আদালতের বিশ্বস্ততা ও নিরপেক্ষতার জন্য হানিকর নয়, বরং উচ্চ আদালতের বিচারকদেরও হেয় করে এবং তাতে করে আদালতের কর্তৃত্বকেও খর্ব করে। সে অনুযায়ী আদালত ২০১৫ সালের ১৬ জুলাইয়ের দৈনিক জনকণ্ঠে “সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে” শিরোনামের নিবন্ধের লেখক স্বদেশ রায় এবং দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদকে (এম.এ. খান মাসুদ) ৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেয়া এবং আদালত অবমাননার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিচ্ছে।